ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি : ছাতকে নোয়ারাই ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামের নোয়া খালের উপর নির্মাণাধিন সেতুর কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন স্থানীয় লোকজন। নির্মাণ কাজ ব্যাপক অনিয়ম ও দূর্নীতি থাকায় এলাকাবাসী কাজ বন্ধ করে দেয়। কাজ সম্পন্ন হবার আগেই সেতুর বিভিন্ন অংশ থেকে ঢালাই খসে পড়তে থাকে। সেতুর এপ্রোজে সৃষ্টি হয় বিশাল ফাটল। ঢালাই থেকে খসে পড়ছে বালু, পাথর ও মিশ্রিত মাটি। সেতু নির্মাণে এমন অনিয়ম ও দূর্নীতি লক্ষ্য করে সাবেক মেম্বার আব্দুল মছব্বির, মহিন উদ্দিনসহ স্থানীয়রা ৯ফেব্র“য়ারি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। জানা যায়, এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবীর প্রেক্ষিতে চলতি বছরের জানুয়ারির ২য়সপ্তাহে ব্রিজ নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়। নির্মাণ কাজটি ভাগিয়ে নেয় দোয়ারা উপজেলার বাংলাবাজারের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান শাকিল এন্টারপ্রাইজের সাইফুল আলম। ২৭লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য নোয়াখাল ব্রিজের কাজ দায়সারাভাবে শুরু করে প্রকল্পের সিংহভাগ টাকা আত্মসাতের পরিকল্পনা করে দূর্নীতিবাজ ঠিকাদার সাইফুল আলম। ব্রিজের নিচে ইট সলিনের পরিবর্তে শুধুমাত্র বালু সলিন করে এপ্রোজ দাড় করানো হয়। ইষ্টিমিট অনুযায়ী ৯ইঞ্চি পরপর রড ব্যবহার করার কথা থাকলেও এখানে প্রায় ১৮ইঞ্চি পরপর রড ব্যবহার করা হলে ব্রিজের উভয় এপ্রোজ অত্যন্ত দূর্বলভাবে নির্মিত হয়। এছাড়া ভোলাগঞ্জের ভাঙ্গা পাথর ব্যবহার না করে টিলার মাটি মিশ্রিত লাল সিঙ্গেল পাথর ব্যবহার করায় ঝুকিপূর্ন হয়ে উঠে দাড় করানো দুটি এপ্রোজ। নামমাত্র সিমেন্ট দিয়ে ঢালাই কাজ করা হলে বালু ও সিঙ্গেল পাথর জমাট বাধার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। প্রতি এক বস্তা সিমেন্টের সাথে ১২টুকরি হারে বালু ও সিঙ্গেল পাথর ব্যবহার করা হয়েছে বলে স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন। ঢালাই কাজের ৩সপ্তাহ’র মাথায় এপ্রোজে বিশাল ফাটল সৃষ্টি হয়। এপ্রোজের ঢালাই থেকে পাথর, বালু ও মাটি ধ্বসে পড়তে দেখা গেছে। এপ্রোজে ব্যবহৃত রডগুলোও খুলে পড়ার উপক্রম। এরপরও ঠিকাদার সাইফুল আলম টেকসই কাজ হয়েছে বলে দাবী করছে। বিষয়টি স্থানীয় চেয়ারম্যান আফজাল আবেদীন আবুল নির্মাণ কাজে অসন্তোষ প্রকাশ করে নির্মিত কাজ ভেঙ্গে নতুন করে ব্রিজের কাজ শুরু করার জন্য ঠিকাদারকে নির্দেশ দিয়েছেন। প্রকল্প কর্মকর্তা রফিক মিয়া ব্রিজ পরিদর্শন ও নির্মাণ কাজে ব্যাপক অনিয়ম-দূর্নীতি প্রত্যক্ষ করেছেন। তিনিও ভেঙ্গে নতুন করে নির্মাণ করার জন্য ঠিকাদারকে নির্দেশ দেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আইনুর আক্তার পান্না ব্রিজের নির্মাণ কাজ পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি এপ্রোজ থেকে বালু-পাথর খুলে এনে দেখালে ঠিকাদার সাইফুল আলম তখনও এক নং কাজ করেছে বলে দাবী করে। তখন নির্বাহী কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এক নং, ২নং নয়- এটি ১০নংয়ের উপরেও স্থান পাবেনা। তিনি এপ্রোজ ভেঙ্গে দ্রুত ইষ্টিমিট অনুযায়ী ব্রিজের কাজ সম্পন্ন করতে ঠিকাদারকে নির্দেশ দিয়েছেন। এদিকে স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে ঠিকাদার সাইফুল আলমকে সরিয়ে অন্য ঠিকাদার দিয়ে ব্রিজের কাজ সম্পন্ন করার দাবী জানিয়েছেন।

ছাতকে সরকারি কম্বল বিতরন
ছাতকের কালারুকা ইউনিয়নের ঝাওয়া আশ্রয় কেন্দ্রে সরকারি কম্বল বিতরন করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে আশ্রয় কেন্দ্রে বসবাসরত লোকজন ও ছিন্নমুল মানুষের মধ্যে শতাধিক কম্বল বিতরন করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আইনুর আক্তার পান্না আশ্রয় কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে এসব কম্বল বিতরন করেন।

ছাতকে চেয়ারম্যান প্রার্থী রেজাউল করিমেরগণসংযোগ ও কর্মীসভা
ছাতক উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নাগরিক ফোরাম মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী রেজাউল করিম তালুকদারের ‘টেলিফোন’ প্রতিকের সমর্থনে গতকাল মঙ্গলবার দিনব্যাপী কালারুকা ইউনিয়নের কালারুকা, মুক্তিরগাও, নানশ্রী, দিঘলবন্দ, পৈলনপুর, জামুড়াইল, তাজপুর গনসংযোগ শেষে কালারুকা বাজার, রামপুর বাজার, শিমুলতলা, মাধবপুর ও হাসনাবাদ বাজারে পৃথক-পৃথক নির্বাচনী কর্মীসভা করেছেন। কর্মীসভায় চেয়ারম্যান প্রার্থী রেজাউল করিম তালুকদার বলেন, নেতৃত্বের ব্যার্থতার কারনে বিগতদিনে ছাতক উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছে। অতীতে জনপ্রতনিধিরা ছাতকবাসীর অধিকার আদায়ের চেয়ে নিজের অধিকার আদায়ে তৎপর ছিলেন। জনগনের কথা চিন্তা না করে কে কত বড় নেতা হবেন এ নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন। তাই দূর্ণীতি লুটপাট আর ব্যর্থ নেতৃত্বের বিপরীতে টেলিফোন মার্কার সমর্থনে গনজোয়ার উঠেছে। কাংখিত উন্নয়ন উপহার দিতে ১৯ ফেব্র“য়ারী নির্বাচনে টেলিফোন মার্কায় ভোট দেয়ার জন্য উপজেলাবাসীর প্রতি আহবান জানান। এ সময় উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোশতাক আহমদ, পৌর বিএনপির সভাপতি সৈয়দ তিতুমীর, ইউপি চেয়ারম্যান এড. সুফি আলম সোহেল, পৌর ১৯ দলীয় জোটের সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার নোমান আহমদ, ব্যবসায়ী আব্দুল হাই আজাদ, আলা উদ্দিন, বিএনপি নেতা শাহজাহান চৌধুরী, সমাজসেবী নজমুল হোসেন, বিশিষ্ট মুরব্বি হাজী আকবর আলী, হাজী সাজ্জাদুর রহমান, বাবুল মিয়া, দুলাল মিয়া, ছমির উদ্দিন, মাওলানা রুহুল আমিন, ছাত্রনেতা হাফিজ জাকির হোসেন, আশরাফ উদ্দিন, ছাত্রদল নেতা ওয়াসিদ আকরাম।
ছাতকে চেয়ারম্যান প্রার্থী আওলাদ আলী রেজার গণসংযোগ অব্যাহত
ছাতক উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী আওলাদ আলী রেজা গতকাল মঙ্গলবার দিনব্যাপী বিভিন্ন ইউনিয়নে গণসংযোগ ও ভোটারদের সাথে মতবিনিময় করেছেন। সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের দিঘলী-ভেরাজপুর, পীরপুর, গোয়াসপুর, মুক্তারপুর, বাউবি, হালকিয়ারি, কালারুকা ইউনিয়নের রামপুর, রামপুরবাজার, গন্ধর্বপুর, তাজপুর, পীরপুর, হাসনাবাদ, তেরাপুর, লম্বাহাটি, রাজাপুর, করছখালী, নৌকাকান্দি, আকুপুর, দোলারাবাজার ইউনিয়নের মঈনপুর, বাজার, দক্ষিণ খুরমা ইউনিয়নের ভূঁইগাঁও, শেওতরপাড়া, নোয়ারাই ইউনিয়নের ছনখাইর, বাজার গণসংযোগ শেষে মতবিনিময় করেন তিনি। এ সময় ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সুন্দর আলী, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নিজাম উদ্দিন, আ.লীগ নেতা ইমাম উদ্দিন, মোজাম্মেল আলী মানিক, রফিক আহমদ, যুক্তরাজ্য প্রবাসী মতিন মিয়া, নুর মিয়া, স্পেন প্রবাসী মোহাম্মদ গালিব, উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মঞ্জুর আলম, যুবলীগ নেতা আবিদুর রহমান আঙ্গুর, আব্দুস শহিদ, বিলাল আহমদ, মালুম মিয়া, আব্দুর রইছ মেম্বার, আব্দুল হেকিম, সাইদুর রহমান, ছাত্রলীগ নেতা এটিএম রায়হান, আনোয়ার হোসেন, সাহেব আলী, সুজেল আহমদ, বুরহান উদ্দিন, মারওয়ানসহ নেতৃবৃন্দ গণসংযোগে সাথে ছিলেন।
উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে হেলিকপ্টার প্রতিকের বিকল্প নেই
——-মিজানুর রহমান চৌধুরী
বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, ছাতক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান চৌধুরী বলেছেন, উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে হেলিকপ্টার প্রতিকের বিকল্প নেই। বিগত ৫বছরে বাধ্যবাদকতা থাকা স্বত্তে¡ও উপজেলাবাসীর কাংখিত উন্নয়ন করতে সক্ষম হয়েছি। যোগ্য ও প্রার্থী ছাড়া জনগনের উন্নয়ন সম্ভব নয়। বিএনপির পরীক্ষিত নেতা হিসেবে নিজাম উদ্দিনকে সমর্থন দেয়া হয়েছে। তার বিজয় নিশ্চিত করতে সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের মাঠে কাজ করতে হবে। গতকাল মঙ্গলবার দিনব্যাপী ছৈলা-আফজলাবাদ ইউনিয়নে গণসংযোগ শেষে বিভিন্ন নির্বাচনী কর্মীসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সোনালি বাংলাবাজারে বিএনপি নেতা ছমরু মিয়ার সভাপতিত্বে ও রইছ আলীর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফারুক আহমদ, সাধারণ সম্পাদক, চেয়ারম্যান প্রার্থী নিজাম উদ্দিন, সহ-সভাপতি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সাইম উলাহ, ইউপি চেয়ারম্যান ফারুক আলী, খেলাফত মজলিস পৌর শাখার সহ-সভাপতি মাওলানা জহির আহমদ, সেক্রেটারী ফারুক আহমদ, উপজেলা শাখার সহ-সেক্রেটারী মাওলানা আমির আলী, সমাজকল্যাণ সম্পাদক মাওলানা ফখরুল আমীন, গোবিন্দগঞ্জ আঞ্চলিক সেক্রেটারী মাওলানা গোলাম রব্বানী, উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা মাস্টার আব্দুল লতিফ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ান, মাহবুবুর রহমান, প্রচার সম্পাদক মতিউর রহমান, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শেখ আফতাব আলী, উপজেলা বিএনপির সহ-তথ্য গবেষনা সম্পাদক জাম্মান আহমদ, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক আহসান মাহবুব, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক সদরুল আমীন সোহান। বক্তব্য রাখেন, লিলু মিয়া, হাজী মুশফিকুর রহমান, সৈয়দ নজরুল, নুরুল হক, আঙ্গুর মিয়া, আফতাব আলী, আব্দুর রব, জুবায়ের আহমদ, যুবদল নেতা হেলাল আহমদ, ফেরদৌস আহমদ, শফিক মিয়া। শিবনগরে ফজল আহমদের সভাপতিত্বে ও মাওলানা সাইদুর রহমান লিটনের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন, বিএনপি নেতা আব্দুস শহিদ, নিজাম উদ্দিন, আলমগীর হোসেন, ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক বাহা উদ্দিন ফাহিম। নোয়াপাড়ায় সুন্দর আলী মেম্বারের সভাপতিত্বে ও আকিল মেম্বারের পরিচালনায়, খিদুরায় রইছ আলীর সভাপতিত্বে ও ছুরাব আলীর পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা বিএনপির উপদেষ্টা জমসর আলী, বিএনপি নেতা কালা মিয়া, আজাদ মিয়া। আনন্দ নগরে আজাদ মিয়ার সভাপতিত্বে ও ফজল আলীর পরিচালনায়, গোপালনগরে হাফিজ ফরিদ উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও তাজ উদ্দিনের পরিচালনায় বত্তব্য রাখেন, আবুল খয়ের। ৭ ও ৮নং ওয়ার্ডের উদ্যোগে সরিষপুরে গয়াছ মিয়ার সভাপতিত্বে ও ছাত্রদল নেতা সেলিম আহমদের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন, হাজী আব্দুন নুর, আব্দুর রউফ, লিলু মিয়া মেম্বার, রজিবুর রহমান, আফরু মিয়া, ফজলু মিয়া, আব্দুল মতিন, আহবাব মিয়া, মতিউর রহমান, যুবদল নেতা রাহেল আহমদ, আবু তালেব, মাওলানা নজরুল, আজাদ মিয়া, উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক জামাল উদ্দিন সুজন, কামাল হোসেন, ছাত্রদল নেতা রাজু আহমদ, বাতিন আহমদ প্রমুখ।




