ads

মঙ্গলবার , ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ | ২৮শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

তানোরে বিএমডিএ’র উদাসীনতায় ৭ হাজার হেক্টর ফসলি জমি অনাবাদী

রফিকুল ইসলাম আধার , সম্পাদক
ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১৪ ৮:০২ অপরাহ্ণ

Tanore Borandro Photo-02 10.02ইমরান হোসাইন, তানোর (রাজশাহী) : রাজশাহীর তানোর উপজেলার দুটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার প্রায় ৭ হাজার হেক্টর ফসলি জমিতে পানি সেচের অভাবে যুগ যুগ ধরে বোরো আবাদ করতে পারছে না চাষিরা। এনিয়ে ওইসব এলাকার চাষিদের মধ্যে আবেগ উৎকণ্ঠা আর হতাশা চলে আসছে বহুদিন ধরে।

Shamol Bangla Ads

উপজেলার কৃষি স¤প্রসারণ অফিস সূত্রে জানা যায়, তানোর উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভার আবাদ যোগ্য জমির পরিমান ২২ হাজার ৬৬৫ হেক্টর। এরমধ্যে কলমা ও বাঁধাইড় ইউনিয়নসহ মুন্ডুমালা পৌর এলাকার প্রায় সাত হাজার হেক্টর ফসলি জমিতে যুগ যুগ ধরে পানি সেচের অভাবে বোরো আবাদ করতে পারেন না চাষিরা। এসব উঁচু জায়গায় বিএমডিএ কর্তৃপক্ষ গভীর নলকূপ স্থাপনের ক্ষেত্রে কোন কার্যকরি পদক্ষেপ না নেওয়ায় অনাবাদি হয়ে পড়ে থাকছে এসব ফসলের মাঠ। এছাড়া এসব ফসলি মাঠগুলোর আশপাশে তেমন পুকুর জলাশয় না থাকায় আমন আবাদ শেষে রবি শস্যের গম, আলু কিংবা ভুট্টাসহ চৈতালী কোন ফলসই রোপন করতে পারেন না এঅঞ্চলের চাষিরা। ফলে নিরুপাই হয়ে আকাশের উপর নির্ভশীল একটি মাত্র আমন ধান কেটে এতসব ফসলের জমি যুগ যুগ ধরে ফেলে রাখতে হয়।
উপজেলার কলমা ইউপির চৈতপুর, দিŸ্যস্থল, কন্দপুর, বলদিপাড়া, সংকরপুর মৌজার ফসলের মাঠ এবং বাঁধাইড় ইউনিয়নের বহরইল, নারায়নপুর খাড়িকুল­া ও বৈদ্যপুরসহ জৈতগোকুল, জৈগিবাড়ি, রামজেদপুর, ঝিনাখোর, গোলাকান্দা, ঝিনাপাড়া, ধামধুম, চকপারুলী, মাড়িয়াসহ মুন্ডুমালা পৌর এলাকার ময়েনপুর, বাগমারা গ্রামের চাষিরা পানি সেচের অভাবে তাদের একটি মাত্র ফসলি জমিতে বোরো আবাদ করতে পারছেন না বছরের পর বছর।
গত রোববার তানোর সদর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে বাঁধাইড় ইউনিয়নের বহরইল মৌজার ফসলি মাঠে গিয়ে দেখা যায়, অনাবাদি জমির মাঠকে মাঠ প্রচন্ড তাপদাহে শুধু ধূশর মরুভুমি হয়ে খাঁখাঁ করছে। এসকল অনাবাদি ফসলের জমিতে গরু, ছাগল চরছে। এঅবস্থায় ওই এলাকার কয়েকজন উপস্থিত কৃষক সামসুল হক, সাজানুর ও রাশেদসহ আরো অনেকে জানান, বিএমডিএ’র কর্তৃপক্ষের উদাসিনতার জন্য ওই অঞ্চলের মানুষ ফসলি জমিতে বোরো আবাদ করতে পারছেন না।
বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার এনিয়ে আবেদন করেও তারা গভীর নলকুপ স্থাপনের ক্ষেত্রে কোন কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। এছাড়া ব্যক্তি মালিকানাধীন অগভীর নলকূপ স্থাপেনর আবেদন করা হলেও তা অনুমোদন দেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। একারণে আকাশের বৃষ্টির উপর নির্ভরশীল একটি মাত্র আমন আবাদ শেষে হাত-পা গুটিয়ে তাদের বসে থাকতে হয়। ফলে অভাব আর দুঃখ বেদনা যুগযুগ ধরে তাদের পিছু ছাড়ছে না। তাদের জমিতে বরি শস্যের চৈতালী ফলস ও বোরো আবাদ না হওয়ায় উন্নয়নের ধারা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা।
কলমা ইউনিয়নের দিব্যস্থল গ্রামের ফজলু মিয়া নামে এক কৃষক জানান দীর্ঘযুগ ধরে শুধু পানি সেচের অভাবে প্রায় ২০ বিঘা জমিতে বোরো চাষ করতে পারছেন না তিনি। চৈতপুর হঠাৎ পাড়া গ্রামের কৃষক মাইনুল ইসলাম, জাবেদ, ভুট্টু, এমদাদুল হক একই কথা বলেন। বাধাইড় ইউপির জৈতগোকুল গ্রামের ইয়াসিন আলী, আফাজ উদ্দীন জানান, আকাশের বৃষ্টি উপর ভরসা করে একটি মাত্র ফসল আমন আবাদ করতে পাবেন তারা।
শুধু তাদের গ্রামের ফসলি জমিতে নয় আশপার্শে¦র গ্রামের জমির মাঠেও বিএমডিএ’র গভীর নলকুপ না থাকায় পানি সেচের অভাবে হাজার হাজার বিঘা ফসলি জমি বোরো মৌসুমে অনাবাদি হয়ে পড়ে থাকে। ওইসব অনাবাদি জমিগুলোতে যদি বিএমডিএ কর্তৃপক্ষ গভীর নলকুপ স্থাপন করে পানি সেচের ব্যবস্থা করেন তাহলে ওই অঞ্চলের কৃষকরা বোরো মৌসুমে চাষাবাদ করে সোনালী ফসল ঘরে তুলে সচ্ছল ভাবে চলতে পারতো। একটি মাত্র ফসল আমন আবাদ করে জীবিকা র্নিবাহ করা অতি কষ্ট কর হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওই একই কথা বললেন, ঝিনাখোর গ্রামের কৃষক তাহের আলী, আবুল কালাম ও জাবেদ। পরিশেষে তারা সরকারি খাস পুকুর ও জলাশয়গুলো সংস্কারসহ সংরক্ষণের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি দাবি জানান। এছাড়াও নতুনভাবে পুকুর ও জলাশয় খনন করে বরি শস্যের ফসল উৎপাদনের সুবিধা স্থাপনের দাবি জানান এঅঞ্চলের হাজারো কৃষক।
এবিষয়ে, বিএমডিএ তানোর জোনের সহকারী প্রকৌশলী সৈয়দ জিল­ুর বারী উপজেলার কলমা ও বাঁধাইড় ইউনিয়নে পানি সেচের অভাবে হাজার হাজার জমি বোরো মৌসুমে অনাবাদি হয়ে পড়ে থাকার কথা স্বিকার করে বলেছেন, ওইসব এলাকায় পানির গভীরতা অনেক নিচে থাকায় বিএমডিএ’র গভীর নলকুপ স্থাপন করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে। এছাড়া উপজেলা সেচ কমিটির সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় সেখানে গভীর নলকুপ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি।

Need Ads
error: কপি হবে না!