তাপস চন্দ্র সরকার, কুমিল্লা : জাতীয় পতাকার রূপকার শিব নারায়ণ দাশ বলেছেন- ধীরেন্দ্র নাথ দত্তকে পাকিস্তানীরা ধরে নিয়ে অমানবিক র্নিযাতন করে তাঁকে কুপিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। ভাষাকে রক্ষা করবার জন্যে সেদিন দামাল ছেলেরা নিজের বুকের তাঁজা রক্ত দিয়ে ভাষাকে রক্ষা করেছিল। একুশ এলেই আমরা স্মরণ করি কিন্তু সারা বছর তাঁদের কথা স্মরণ করিনা। এর চেয়ে ন্যাক্কর জনক ঘটনা আর কিছুই হতে পারে না। আমরা বাঙালী হয়েও নামকরণ গুলো বাংলায় করিনা। এদেশের সাইনবোর্ড গুলো বাংলায় খুব একটা দেখা যায় না। শিক্ষা-দীক্ষা ও সংস্কৃতি চিন্তা চেতনায় সমৃদ্ধ না হলে একটা জাতি গৌরব অর্জন করতে পারে না। যে সন্তান তাঁর নিজের মাতৃভাষাকে শুদ্ধভাবে বলতে কিংবা উচ্চারণ করতে পারেনা সে যতই ডক্টর ডিগ্রী অর্জন করুক না কেন সে অশিক্ষিত। সুস্থ্য জাতি গড়ে তোলার জন্য একটা সুস্থ্য শিক্ষা ব্যবস্থা চাই। যে শিক্ষা গরীব-দুঃখী মানুষের জন্য একই রকম হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দ্যেশে বলেন- তোমরা কম্পিউটার সর্ম্পকে জানো কিন্তু কম্পিউটারে বেশী সময় ব্যয় করিও না। গোটা জাতি সমৃদ্ধ হবে সেদিন, যেদিন কৃষক-শ্রমিক ও মেহনতি মানুষকে সু-শিক্ষায় শিক্ষিত করা যাবে। এর আগে নয়। আমাদের শিক্ষা ও সংস্কৃতি কৃষি ভিত্তিক হতে হবে। গত ৯ ফেব্রুয়ারী রোববার বিকেলে অমর একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে কুমিল্লা নগর উদ্যান জামতলায় তিননদী পরিষদ কর্তৃক আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।

ওই অনুষ্ঠানে তিননদী পরিষদের সভাপতি আবুল হাসানাত বাবুলের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখবেন- হার্ট ফাউন্ডেশনের মহাসচিব ডা: তৃপ্তীশ চন্দ্র ঘোষ, কুমিল্লা কমার্স কলেজের অধ্যক্ষ রোটা: হুমায়ুন কবীর মাসুদ প্রমুখ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন- তিননদী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জমির উদ্দিন খাঁন জম্পি এবং তিননদী পরিষদের পটভূমি পাঠ করেন- শরীফুল ইসলাম। সবশেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন- কুমিল্লা কমার্স কলেজের শিক্ষার্থীবৃন্দ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন- সংস্কৃতিকর্মী রেজবাউল হক রানা।




