ইমরান হোসাইন, তানোর (রাজশাহী) : রাজশাহীর তানোরে শিবনদীর উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া সবগুলো নদ-নদী ও খাল-বিলের পানিশুন্য হয়ে সেগুলো এখন মড়া খালে পরিণত হয়েছে। এখানকার নদ-নদী ও খাল-বিলগুলো দেখে ভাবাই যায় না এসব নদ-নদী ও খাল-বিলই বর্ষাকালে ভয়ংকর রুপ নেই। পানির প্রবল স্রোতে প্রতি বছর বিভিন্ন ঘরবাড়ি ও ফসলি জমির মাঠকে মাঠ নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। বর্তমানে নাব্যতা সংকটে এসব নদ-নদীর বুকে গড়ে উঠেছে অসংখ্য ছোট-বড় চর। শুধু শিবনদী নয় এঅঞ্চলের সবগুলো নদ-নদী ও খাল-বিল পানিশুন্য হয়ে পড়ায় সেগুলো এখন আবাদি জমিতে পরিণত হয়েছে।

এনিয়ে তানোর কুঠিপাড়া গ্রামের মৎজীবি ইদ্রিস আলী জানান, এখনকার প্রজন্মের ছেলে-মেয়েরা শিবনদীটির চেহারা দেখে ভাবতেই পারবেন না এক সময় এঅঞ্চলের শিবনদীর উপর দিয়ে পালতোলা নৌকা ও স্ট্রিমারসহ বিভিন্ন নৌযান চলাচল করত। এক সময়ের প্রাণচাঞ্চল্য ভরা নৌঘাটগুলো এখন বিপন্ন। পানিশুন্যতার কারণে সবগুলো নৌঘাট নিশ্চিহ্ন হয়ে বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে স্থায়ী মৎস্যজীবিরা এখন তাদের নৌকা ভাসিয়ে চাছ ধরতে পারছেন না। ফলে বেকার জীবন-যাপণ করছেন তারা।
তানোর বিলকুমারী সাহিত্য পরিষদের সভাপতি জাহান আলী বলেন, এঅঞ্চলের মানুষের শহর বন্দরে যাতায়াত করার একমাত্র উপায় ছিল নৌপথ। বর্তমানে বর্ষার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কোনো রকমে দুই একটি নৌযান চলাচল করতে দেখা যায়। কার্তিক মাসের শুরুতে আর এসব নৌযান দেখা যায় না। এঅঞ্চলের নৌপথের নদ-নদী খাল-বিলগুলো নাব্যতা সংকটে পানি শুন্য হওয়ায় এপরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু কালের বিবর্তনে এখন শুধু সবই কাল্পনিক। বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রতিবছর অব্যাহত পানি হ্রাসের ফলে নদীগুলো নিজেদের অস্তিত্ব হারাতে বসেছে। তানোরে শিবনদী এখন নামেই পরিচিত বাস্তবে নদীর কোন অস্তিত্ব নেই। এঅবস্থায় এঅঞ্চলকে খরাপ্রবনের হাত থেকে রক্ষা পেতে নদ-নদী ও খাল-বিলগুলো সংস্কারসহ সংরক্ষণ প্রয়োজন মনে করেন তিনি।
এসব নিয়ে কথা হয় তানোর একে সরকার ডিগ্রী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শ্রী নারায়ন চন্দ্র বিশ্বাসের সঙ্গে তিনি জানান, জেলা শহরে বিভিন্ন কাজ কর্মের জন্য এঅঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র পথ ছিলো নৌপথ। সারা বছর ধরে পালতোলা নৌকায় কিংবা স্ট্রীমারে করে খুব সহজেই শিবনদীর উপর দিয়ে নওহাটা ব্রীজঘাটে পৌঁছা যেত। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে এসবের আর কোনো দেখা মিলে না। মূলত পানি সংকটের কারণে নৌযোগাযোগ নেই বললেই চলে। পরিশেষে তিনি তানোরে ঐতিহ্যবাহি শিবনদীর নৌপথ রক্ষার জন্য উপজেলার বিভিন্ন নদ-নদী ও খাল-বিলের নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি জোর দাবি জানান।




