শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া(খুলনা) : খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার তেলিখালি গ্রামের সংখ্যালঘু মানুষেরা এখন আর ভাল নেই। ২৫ জানুয়ারীর রাতে ওই গ্রামের একটি বাড়িতে অস্ত্রের মুখে ডাকাতি ও ডাকাতদের ছুড়ে দেওয়া হুমকিতে গ্রামের সকলেই এখন ভীত হয়ে পড়েছেন। তবে ওই সকল মানুষের পাশে থাকার আশ্বাস ও দোষীদের শাস্তির দাবিতে আইনী সহায়তা প্রদানকারি সংস্থা ভ‚মিহীন সংগঠন নিজেরা করি’র উদ্যোগে এক প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়। ২৯ জানুয়ারী বুধবার বেলা ১১টায় স্থানীয় নারায়ন চন্দ্র’র বাড়িতে সাবেক ইউপি সদস্য নৃপেন্দ্রনাথ বৈরাগীর সভাপতিত্বে ওই সভা অনুষ্টিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি’র বক্তব্য প্রদান করেন, সংগঠনের বিভাগীয় সমন্বয়কারি স্বপন কুমার দাশ। বিশেষ অতিথি’র বক্তব্যদেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান খান আলী মুনসুর। এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্যদেন, নিজেরা করি’র সাইফুল ইসলাম, ভূমিহীন সংগঠনের নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমান, তুলশি দাশ বৈরাগি, ডাঃ সিদ্ধার্থ রায়, সাংবাদিক রণজিত দেবনাথ রণো, সঞ্জয় রায় ও ডাঃ গোষ্ট বিহারি রায় প্রমুখ। সভায় স্থানীয় বক্তারা জানান, গত ২৫ জানুয়ারীর গভীর রাতে ওই গ্রামের অমব্রেশ রায়ের বাড়িতে ৪/৫ জন ডাকাত হানা দিয়ে নগদ ৪০ হাজার টাকা ও প্রায় ৬ ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়। ওইদিন ডাকাতেরা বাড়িতে ঢুকেই ধারালো অস্ত্রের মুখে পরিবারের সকলকে জিম্মি করে এ তান্ডব চালায়। সবশেষে তারা ফিরে যাওয়ার সময় বাড়ির মালিককে কোন প্রকার মামলা না করার হুমকি ও দেশ ছেড়ে দ্রæত ভারতে যাওয়ার ভয় দেখিয়ে চলে যায়। সেই থেকে এ গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষেরা সব সময় আতংকে রয়েছেন। উপজেলার হিন্দু বসতিপূর্ণ এ গ্রামে কোন মানুষই এখন ভাল নেই। সভায় বিশেষ অতিথি ও ইউপি চেয়ারম্যান খান আলী মুনসুর বলেন, ডাকাতির খবর পেয়ে পরদিন সকালেই ঘটনাস্থলে পুলিশ আসে। আমি ও স্থানীয়রা প্রশাসনকে তথ্য দিই। কিন্তু ঘটনার ৫ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি বা ক্লুই জানা যায়নি। সভার প্রধান অতিথি, নিজেরা করি সংস্থার বিভাগীয় সমন্বয়কারি ন্বপন কুমার দাশ বলেন, ডাকাতির ঘটনাটি সহজভাবে মানা যায়, কিন্তু ভারতে যাওয়ার হুমকিটা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা মনেকরি এ ঘটনার পিছনে বড় ধরনের কোন সাম্প্রদায়িক শক্তির হাত থাকতে পারে। এ ব্যাপারে ডুমুরিয়া থানার ওসি তদন্ত তাজুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় বাড়ির মালিক বাদি হয়ে ওইদিনই একটি অভিযোগ দায়ের করেন। তদন্ত অব্যাহত আছে।




