আমতলী প্রতিনিধি : বরগুনার আমতলীতে ইট ভাটা মালীকদের আগ্রাসনের শিকার বিস্তীর্ণ এলাকা। মালিকরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে পারছেন না সাধারন মানুষ । এ কারনে ঐ এলাকার পরিবেশ বিপর্যয়ের আশংকা করছেন অভিজ্ঞ মহল। পরিবেশ অধিদপ্তর ও সরকারি নিতিমালার তোয়াক্কা না করে এসব ইটভাটা গুলোয় ইট তৈরী করছেন আমতলী উপজেলার ইটভাটা মালিকরা।

দেখা গেছে, ইটভাটা নির্মানের পরিপত্রে উলেখ আছে, ইটভাটা স্থাপন করতে হলে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রের নির্দেশনা অনুযায়ী হাইব্রিড হফম্যান, জিগ-জ্যাগ, ভার্টিক্যাল শ্যাফট কিলন্ অথবা পরীক্ষিত নতুন প্রযুক্তির পরিবেশ বান্ধব ইটভাটা স্থাপন করার বিধান রয়েছে।
এসব এলাকায় সরকারের নীতিমালা অমান্য করে পরিবেশ অধিপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই ইটভাটাগুলো হরদম চলছে। অন্যদিকে সবগুলো ইটভাটাই ফসলের মাঠে ও লোকালয়ের পাশে স্থাপন করা হয়েছে।
অথচ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন-১৯৯৫ (সংশোধিত-২০১০)-এর ১২ ও ৪(২) (৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ফসলি জমিতে অথবা ফসলি জমির পাশে ইটভাটা স্থাপন করা দণ্ডনীয় অপরাধ। তবে আমতলী উপজেলার অবৈধ এসব ইটভাটার বিরুদ্ধে কোন সময়ই প্রশাসনকে কোন ভুমিকা রাখতে দেখা যায়নি বলে অভিযোগ স্থানীয় এলাকাবাসীর। সরেজমিনে দেখা যায় আমতলী উপজেলার শাখারিয়া বাজার সংলগ্ন নসা মিয়ার মালিকানায় (ডি.বি.এম) ঢাকা ব্রিকস পটুয়াখালী-গলাচিপা আঞ্চলিক সড়কের পাশে অবস্থিত।

শুধু তাই নয় ফসলি জমির মধ্যে ও লোকালয়ের পাশেই স্থাপন করা হয়েছে এই ব্রিকসটি। ভাটার পাশে ইট পোড়ানোর জন্য প্রায় কয়েক হাজার মন লাকড়ি রাখা হয়েছে। অন্যদিকে আইনানুযায়ী ১২০ ফুট চিম্নি থাকার কথা থাকলেও আদৌ তা নেই। টিন দিয়ে তৈরি মাত্র ২০ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট ড্রাম চিমনি ব্যবহার করেই প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ ইট পোড়ানো হচ্ছে। যার বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় মারান্মক ভাবে দুষিত হচ্ছে এই এলাকার পরিবেশ মারাত্বক ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার আশংকা রয়েছে বৃক্ষসহ বিভিন্ন ফসলের।
এই ইটভাটার ছবি তুলতে গেলে (ডি.বি.এম)ঢাকা ব্রিকসের মালিক নসা মিয়া বলেন, এটা কোটি টাকার ব্যাবসা লাখ লাখ টাকা প্রশাসনকে দিয়ে ইটভাটা চালাই, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সেক্টরে টাকা দিতে হয়।
গত বছর অবৈধ ইটভাটা নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে খবর প্রকাশের পর বরগুনা জেলার আমতলী উপজেলা ব্যাতীত প্রায় সব উপজেলার ইটভাটাগুলো পরিবেশ বান্ধব করে তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু আমতলী উপজেলায় বিভিন্ন গ্রামে প্রায় আটটি অবৈধ ইটভাটা রয়ে গেছে। এগুলোতে সম্পুর্ন কাঠ দিয়ে ইট পোড়ানো হচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকার একাধিক ব্যাক্তি বলেন, যাঁরা ইটভাটার মালিক তাঁরা খুবই ক্ষমতাশালী। তাই আমরা যদি এর বিরুদ্ধে কোন প্রতিবাদ করতে যাই তাহলে বিভিন্ন সময় আমাদের হামলা এবং মিথ্যা মামলার স্বীকার হতে হবে।
বরগুনার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হাবিবুর রহমান জানান, অবৈধ ইটভাটায় আমাদের অভিযান চলছে, অনেক ইটভাটা ইতিমধ্যে আমরা ভেঙ্গে দিয়েছি এবং জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এর পরও যদি কোন ইটভাটা অবৈধভাবে আবার নতুন করে শুরু করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়ায় ব্যাবস্থা নেয়া হবে।
অচিরেই এসব অবৈধ ইটভাটাগুলো বন্ধ করে পরিবেশ দুষনের হাত থেকে রক্ষা করা হোক এ প্রত্যাশায় ভুক্তভোগী এলাকার সাধারন মানুষ।




