শেরপুরে স্বজন, ভক্ত ও শুভাকাঙ্খীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের শ্রদ্ধা-ভালোবাসায় চিরবিদায় নিয়েছেন প্রবীণ ও কিংবদন্তি আইনজীবী অ্যাডভোকেট নারায়ণ চন্দ্র হোড় বাচ্চু (৭৮)। ৪ আগস্ট মঙ্গলবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে তার মরদেহ প্রথমে কর্মস্থল জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনের সামনে আনা হয়। ওইসময় দীর্ঘ ৪৮ বছরের পেশাগত জীবনের বন্ধু, সহকর্মী ও অনুজ আইনজীবীদের তরফ থেকে তার মরদেহে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

এসময় সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব অ্যাডভোকেট মো. সিরাজুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম আধার ও অ্যাডভোকেট এমকে মুরাদুজ্জামান, পিপি অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল মান্নান, জিপি অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুবুল আলম রকীব, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এএইচএম নূরে আলম হীরা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ইমাম হোসেন ঠান্ডু ও অ্যাডভোকেট আবুল মানসুর স্বপনসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। এসময় আইনজীবীরা সমিতির তরফ থেকে দেওয়া শোকবইয়ে অ্যাডভোকেট নারায়ণ চন্দ্র হোড় বাচ্চু সম্পর্কে তাদের মূল্যায়ন লিপিবদ্ধ করেন।
এরপর তার মরদেহ শহরের বটতলা কালিরবাজারস্থ বাসায় নিয়ে গেলে সেখানে আত্মীয়-স্বজন, ভক্ত-অনুরাগীসহ নানা শ্রেণি-পেশার লোকজন তাকে শেষবারের মতো একনজর দেখতে ভিড় জমান। ওইসময় পরিবেশ ভারি হয়ে উঠে। পরে আনুষঙ্গিক ধর্মীয় রীতি পালন শেষে তার মরদেহ পৌর শেরীশ্মশানে নিয়ে দাহ করা হয়।

এদিকে কিংবদন্তি আইনজীবী নারায়ণ চন্দ্র হোড় বাচ্চুর প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ এবিএম মামুনুর রশীদ পলাশ, প্রেসক্লাবের সভাপতি কাকন রেজা, শেরপুর ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি রাজিয়া সামাদ ডালিয়া, জেলা উদীচীর সভাপতি ড. সুধাময় দাস, চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আলহাজ্ব মো. আরিফ হোসেন ও জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শওকত হোসেন, বিপ্লবী রবি নিয়োগী সভাকক্ষ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি সুশীল মালাকারসহ বিভিন্ন মহল।
উল্লেখ্য, ৪ আগস্ট সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় রাজধানী ঢাকার ধানমন্ডির ল্যাব এইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন আইনজীবী অ্যাডভোকেট নারায়ণ চন্দ্র হোড় বাচ্চু। তিনি দীর্ঘদিন যাবত হৃদরোগ ও লিভারসহ নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন। তিনি দীর্ঘ প্রায় ৪৮ বছরের আইন পেশায় তিনি একজন লব্ধপ্রতিষ্ঠিত আইনজীবী ও আইনজীবীদের পরিপূর্ণ অভিভাবকে পরিণত হয়েছিলেন। সেই সুবাদে তিনি জেলা আইনজীবী সমিতির ৮ দফা সাধারণ সম্পাদক ও ১ দফা সভাপতি ছিলেন। এছাড়া দীর্ঘদিন জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন। পরিচ্ছন্ন ও নীতিবান ব্যক্তিত্ব হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন আইনজীবী সমিতি, চেম্বার অব কমার্স, জেলা চালকল সমিতি ও সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেছেন। ফলে বিভিন্ন মহল তাকে শেরপুরের কিংবদন্তি আইনজীবী হিসেবেই বিবেচনা করতেন।




