শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত শেরপুর-নালিতাবাড়ী-গাজীরখামার সড়ক পরিদর্শন করে ভাঙনের অন্যতম কারণ হিসেবে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে বাধার বিষয়টি চিহ্নিত করেছে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেছেন, আপদকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নদীর সংযোগ খাল খনন এবং বন্ধ হয়ে থাকা কালভার্টগুলো খুলে দিয়ে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা হবে।
এর আগে টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে গত বৃহস্পতিবার গোল্লারপাড় এলাকায় শেরপুর-নালিতাবাড়ী-গাজীরখামার সড়কের প্রায় ৫০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়। এরপর থেকে ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। ছোট যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে।

শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানায়, শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চেল্লাখালী নদীর পানি বিপদসীমার ৪০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে এবং ভোগাই নদীর পানি বিপদসীমার ২০৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। নদীর পানি কমতে শুরু করলেও ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও ভাঙা বেড়িবাঁধ ঘিরে স্থানীয়দের উদ্বেগ কাটেনি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রায় দুই বছর আগে ভেঙে যাওয়া চেল্লাখালী নদীর বেড়িবাঁধের প্রায় ১০০ মিটার অংশ এখনো সংস্কার করা হয়নি। ফলে পাহাড়ি ঢল নামলেই ওই ভাঙা অংশ দিয়ে পানি নিম্নাঞ্চলে ঢুকে পড়ে। এতে প্রতিবছর কৃষিজমি ও বসতবাড়ি ক্ষতির মুখে পড়ে।
প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গোল্লারপাড় থেকে বালুঘাটা বাজার পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার এলাকায় কয়েকটি কালভার্ট ও সেতুর মুখ মাটি দিয়ে ভরাট এবং অবৈধ স্থাপনার কারণে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ফলে ঢলের পানি সড়কে তীব্র চাপ সৃষ্টি করে, যা ভাঙনের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

শনিবার সকালে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন ও নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল মালেক। ওইসময় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুদীপ্ত চৌধুরী বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে জরুরি ভিত্তিতে প্রায় ৫০০টি জিওব্যাগ ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই সমাধানের জন্য নতুন নকশায় সড়কটি পুনর্নির্মাণ প্রয়োজন।
জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, আপদকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নদীর সংযোগ খাল খনন এবং বন্ধ হয়ে থাকা কালভার্টগুলো খুলে দিয়ে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।




