জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে অবিলম্বে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠনের দাবিতে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদকে স্মারকলিপি দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। ৭ জুলাই মঙ্গলবার দুপুরে সংসদ ভবনে স্পিকারের কাছে ৫ দফা সংবলিত এই স্মারকলিপি হস্তান্তর করা হয়। পরে ন্যাম ভবনের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে জোটের শীর্ষ নেতারা বলেন, প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের দেওয়া গণভোটের রায় উপেক্ষা করে সংসদ চালানো হলে দেশ নতুন সংঘাতের দিকে যেতে পারে এবং প্রয়োজনে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে রাজপথে ‘আরেকটি বিপ্লব’ ঘটানো হবে।

স্মারকলিপি দেওয়ার পর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের ন্যাম ভবনের সামনে জুলাই আন্দোলনের শহীদ পরিবার, আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারীদের সঙ্গে নিয়ে এক মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।
মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতির এখন প্রধান সংকট হলো গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়া। আমরা স্পিকারকে বলেছি। দেশের অভিভাবক হিসেবে প্রধানমন্ত্রী, সংসদ নেতা এবং বিরোধীদলীয় নেতাকে সঙ্গে নিয়ে গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ জনগণের দেওয়া রায় বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করুন। অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। স্পিকার আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। তিনি এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন।

গত বছরের ১৭ অক্টোবর তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ গৃহীত হয় এবং ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একই দিনে অনুষ্ঠিত গণভোটে প্রায় ৬৯ শতাংশ মানুষ সংবিধান সংস্কারের পক্ষে রায় দেন। তবে সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিএনপির ২০৯ জন সংসদ সদস্য সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়ায় এই প্রক্রিয়াটি স্থবির হয়ে পড়ে, যার বিপরীতে জামায়াত ও এনসিপিসহ জোটের ৭৭ জন সদস্য উভয় শপথই গ্রহণ করেছিলেন।
জুলাই অভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে ৩৬ দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত এই মানববন্ধনে দলগুলোর মধ্যকার নীতিগত ফারাক ও ক্ষোভ নতুন করে সামনে এসেছে।
সভাপতির বক্তব্যে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ না করে এই পার্লামেন্ট চালাবেন। এটা জনগণ মানবে না। আপনারা শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে ক্ষমতায় বসেছেন। বিচার করতে হবে। যদি বিচার না করেন। তবে জনগণ আপনাদের বাধ্য করবে। গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনে আরও একটি জুলাই বিপ্লব হবে। তারপরও আমরা রাজপথ ছাড়ব না। আমরা আন্দোলন চাই না। সমাধান চাই।
স্মারকলিপি প্রদানের সময় স্পিকারের সঙ্গে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল উপস্থিত ছিলেন। ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষে জামায়াত ও এনসিপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ছাড়াও শহীদ জাবির ইবরাহিমের মা ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রোকেয়া বেগমসহ পাঁচজন নারী সংসদ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। যার মধ্যে রোকেয়া বেগমের স্বাক্ষর স্মারকলিপিতে অন্তর্ভুক্ত ছিল।
মানববন্ধনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন এমপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দীন আহমেদ, জাগপার সহসভাপতি রাশেদ প্রধান এবং এবি পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. আবদুল ওহাব মিনারসহ জোটের অন্যান্য শরিক দলের নেতারা উপস্থিত থেকে এই আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেন।
জুলাই সনদ ১১ দলীয় জোট বিরোধীদল




