শেরপুরে তুচ্ছ ঘটনার জেরে সংঘবদ্ধ কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় নিহত পলিটেকনিক শিক্ষার্থী আল মুহতাছিম সাইফের হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ করেছেন স্থানীয়রা। ১২ জুন শুক্রবার বিকেলে শহরের জেলা কারাগারের সামনে উত্তেজিত এলাকাবাসী শেরপুর-শ্রীবরদী সড়ক অবরোধ করে। দুই ঘন্টাব্যাপী ওই সড়ক অবরোধে প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তাজুড়ে যানজট তৈরি হয়। পরে খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সাইফ হত্যায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের আওতায় আনার আশ্বাস দিলে এলাকাবাসী অবরোধ তুলে নেন।

এদিকে সাইফ হত্যার ঘটনায় পুলিশ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে দিঘারপাড় মহল্লার আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে শান্ত হাসান (১৯), একই মহল্লার লেবু মিয়ার ছেলে মো. স্বাধীন (১৯) ও গৌর বর্মনের ছেলে সজীব বর্মন (১৮)। বৃহস্পতিবার রাতে শহরের দিঘারপাড় এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। শুক্রবার বিকেলে পুলিশ রিমান্ডের আবেদনসহ তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
এর আগে, গত সোমবার দুপুরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সাইফ। নিহত সাইফ শহরের দমদমা কালিগঞ্জ মহল্লার আব্দুল মালেক ও রেবেকা সুলতানা দম্পতির একমাত্র সন্তান। তিনি শেরপুর সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের কম্পিউটার টেকনোলজি বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন

এ ব্যাপারে শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল রানা জানান, আমরা ইতোমধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছি। তাদের রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যহত আছে। এছাড়াও বর্তমানে সড়কে যানচলাচল স্বাভাবিক আছে।
উল্লেখ্য, গত ২৯ মে ঈদুল আজহার পরদিন বিকেলে শহরের তাতালপুর বিএম রোড এলাকায় ঘুরতে যায় সাইফ। এসময় ছবি তোলাকে নিয়ে কাটাকাটি শুরু হয় কয়েকজন কিশোরের সাথে। একপর্যায়ে ১০-১৫ জন মিলে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে সাইফকে মারধর করে গুরুতর আহত করে। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতাল ও পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কয়েকদিন চিকিৎসার পর সোমবার দুপুরে তিনি মারা যান।




