মিরপুরে দিনের শুরুতে পাকিস্তানি বোলারদের দাপটে চাপে পড়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু চাপের মুখে দলের কাণ্ডারি হয়ে ওঠেন দলনেতা নাজমুল হোসেন শান্ত। পাকিস্তানের বোলারদের শাসন করে তুলে নেন রেকর্ডগড়া সেঞ্চুরি। কিন্তু মুদ্রার উল্টো পিঠটাও দেখেছে মিরপুর। মুমিনুল হকের মৌন হাহাকারে ছেয়ে গেছে ভক্তদের মন। ৯ রানের আক্ষেপ নিয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি।

শান্তর রেকর্ডের উল্লাস, মুমিনুলের নার্ভাস নাইনটিজের আক্ষেপ এবং মুশফিকুর রহিমের ক্যামিও ইনিংসের ওপর ভর করে মিরপুর টেস্টের প্রথম দিনটা নিজেদের নামে লিখেছে টাইগাররা। দিনশেষে ৪ উইকেটে ৩০১ রান তুলেছে বাংলাদেশ দল।
শুরুতে টস জিতে বাংলাদেশকে ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানান পাকিস্তানের অধিনায়ক শান মাসুদ। ইনিংসের শুরুটা ভালো হয়নি টাইগারদের। ১৯ বলে মাত্র ৮ রান করে সাজঘরের পথ ধরেন ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয়। তাকে আউট করে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে প্রথম পাকিস্তানি বোলার হিসেবে ১০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন শাহিন শাহ আফ্রিদি। কিছুক্ষণ পরে আউট হন আরেক ওপেনার সাদমান ইসলামও। হাসান আলীর করা বলে সালমান আলী আঘার হাতে ক্যাচ তুলে দেন তিনি। আউট হওয়ার আগে করেন ৩০ বলে ১৩ রান।

মাত্র ৩১ রানে দুই ওপেনারকে হারিয়ে খানিকটা চাপেই পড়ে বাংলাদেশ। এমতাবস্থায় সামনে থেকে লিড দিতে থাকেন দলনেতা নাজমুল হাসান শান্ত। আর তার সঙ্গে আপনতালে খেলতে থাকেন মুমিনুল হকও। পাকিস্তানি বোলারদের শাসন করে যাওয়া এই দুই ব্যাটার মিলে গড়েন ১৭০ রানের জুটি।
মাত্র ১২৯ বলে টেস্ট ক্যারিয়ারের নবম সেঞ্চুরি তুলে নেন শান্ত। সর্বশেষ ৮ ইনিংসে তার শতকের সংখ্যা ৪, অর্থাৎ সর্বশেষ পাঁচ টেস্টের চারটিতেই তিনি ছুঁয়েছেন ম্যাজিক ফিগার। আবার অধিনায়ক হিসেবেও এটি ছিল শান্তর পঞ্চম সেঞ্চুরি। তাতেই লেখেন ইতিহাস। বাংলাদেশের ক্যাপ্টেন হিসেবে মাত্র ১৭ ম্যাচ খেলে সবচেয়ে বেশি শতকের মালিক এখন শান্ত। ৩৪ ম্যাচে চার সেঞ্চুরিতে পেছনে পড়ে যান মুশফিক। অবশ্য সেঞ্চুরি পূরণের পর বেশিক্ষণ ক্রিজে টিকতে পারেননি শান্ত। আউট হওয়ার আগে করেন ১০১ রান। ১৩০ বলে খেলা তার এই ইনিংসটি ১২টি চার ও দুটি ছয়ে সাজানো।
এদিকে চতুর্থ উইকেটে মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে ৭৫ রানের জুটি গড়েন মুমিনুল হক। ফিফটি পূরণের পর সেঞ্চুরির পথেই ছিলেন তিনি। কিন্তু নার্ভাস নাইনটিজে থামেন মুমিনুল। নোমান আলী করা বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়লে ৯১ রানে থামে তার ইনিংস। অবশ্য রিভিউ নিয়েছিলেন তিনি। তাতে কোনো লাভ হয়নি। ২০০ বলে খেলা মুমিনুলের এই ইনিংসটি ১০টি চারে সাজানো।
এরপর লিটন কুমার দাসকে নিয়ে দিনের শেষ পর্যন্ত খেলে যান মুশফিকুর রহিম। ১০৪ বলে ছয়টি চারে ৪৮ রান করে অপরাজিত আছেন তিনি। আর ৩৫ বল খেলে ৮ রান করে প্রথম দিন শেষ করেছেন লিটন।
পাকিস্তানের হয়ে একটি করে উইকেট নেন শাহিন শাহ আফ্রিদি, হাসান আলী, নোমান আলী ও মোহাম্মদ আব্বাস।




