ভোটকক্ষ থেকে ব্যালট বই ছিনতাই, এক ব্যক্তির ৩ বছরের কারাদণ্ড
শেরপুরে দুএকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ এর ভেটগ্রহণ। ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলে এ ভোটগ্রহণ। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো।

জেলা রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শেরপুর-১ (সদর) আসনের ১৪৫টি কেন্দ্রে মোট ভোট পড়েছে প্রায় ৫৫ শতাংশ। আর শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসনে ভোট পড়েছে প্রায় ৫১.৭৫ শতাংশ।
এদিন সদর উপজেলার চরমোচারিয়া ইউনিয়নের নলবাইদ দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে ব্যালট বই ছিনতাইয়ের দায়ে মাসুদ মিয়া (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকে ৩ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে সংক্ষিপ্ত বিচারিক আদালত। একইসাথে লাঙ্গল প্রতীকের এজেন্ট মো. বেলাল হোসেন (৪৮)কে নির্বাচনী আচরন বিধি লঙ্ঘন করার দায়ে দুই হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে এসব সাজা দেন সংক্ষিপ্ত বিচারিক আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসান ভুঁইয়া।

শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মিজানুর রহমান ভুঁঞা সাজার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টার দিকে শেরপুর-১ (শেরপুর সদর) আসনের চরমোচারিয়া ইউনিয়নের ৯৮নং নলবাইদ দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্র হতে ব্যালটপেপার ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট ও পরিকল্পনা কমিশনের সহকারী সচিব শিবরাজ চৌধুরী, সেনাবাহিনীর টহল টিম ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এসময় ছিনতাই হওয়া ব্যালট পেপার পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় এবং সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা কার্যক্রম শেষে ছিনিয়ে নেওয়া দুইটি ব্যালট পেপারের বই ও বক্সে রাখা ২৬ টি ব্যালট পেপার বাতিল করা হয়। পরবর্তীতে ব্যালট ছিনতাইয়ের অভিযোগে আটক মাসুদ মিয়াকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসান ভুঁইয়া ১৯৭২ এর ৮১(১)(চ)(অ) ধারার অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। আর একই কেন্দ্রে লাঙ্গল প্রতীকের এজেন্ট স্থানীয় হাবিবুর রহমানের ছেলে মো. বেলাল হোসেন (৪৮)কে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করার দায়ে দুই হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এদিকে একই আসনের দিঘারপাড় কান্দাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর দুজন এজেন্ট হট্টগোল শুরু করায় তাদের আটক করে রাখা হয়। ওই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার উদয় সাহা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ভোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা আটক থাকবে বলে জানিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
শেরপুরের সহকারী রিটানিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবা হক এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ব্যালট বই ছিনতাইয়ের দায়ে মাসুদ মিয়াকে ৩ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একইসাথে বেলাল হোসেনকে নির্বাচনী আচরন বিধি লঙ্ঘন করার দায়ে দুই হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হয়েছে ভোটগ্রহণ। এখন গণনার কাজ চলছে।
জানা যায়, শেরপুর-১ আসনে ১টি পৌরসভা ও ১৪টি ইউনিয়নে মোট ভোটার রয়েছেন ৪ লাখ ৫০ হাজার ৪৮৮ জন। আর শেরপুর-২ আসনে ২টি পৌরসভা ও ২১টি ইউনিয়নে মোট ভোটার ৪ লাখ ৪০ হাজার ৩৪ জন।
জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা তরফদার মাহমুদুর রহমান জানান, নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে দুটি নির্বাচনী আসনে ৩০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং ৪ জন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৫ হাজার ৫০০ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রতিটি কেন্দ্রে দুজন অস্ত্রধারী আনসার সদস্য, দুজন অস্ত্রধারী পুলিশ সদস্য দায়িত্বে ছিলেন। কেন্দ্রে কেন্দ্রে বসানো হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা।
উল্লেখ্য, শেরপুরের তিনটি সংসদীয় আসনের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বী এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনে ভোটগ্রহণ স্থগিত রয়েছে।




