শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার বিভিন্ন মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কেন্দ্রের কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশরাফুল আলম রাসেল। ২৪ নভেম্বর সোমবার সকাল ৬টা থেকে উপজেলার রাংটিয়া, হলদীগ্রাম, মানিককুড়া, শালচূড়া ও ডাকাবর এলাকার কেন্দ্রগুলোতে আকস্মিক পরিদর্শন করে কার্যক্রমের অগ্রগতি, শিশুদের উপস্থিতি, শিক্ষকদের পাঠদান পদ্ধতি ও পরিবেশের সামগ্রিক মান যাচাই করেন তিনি। ওইসময় ইউএনও রাসেল শিশুদের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের পড়ালেখার খোঁজ নেন এবং শিক্ষকদের উৎসাহিত করেন আরও আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য। তিনি অভিভাবকদের সঙ্গেও মতবিনিময় করে শিশুদের নিয়মিত পাঠে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

এদিকে ভোরের আলো ফোটার আগেই ওই শিক্ষা কার্যক্রম আকস্মিকভাবে পরিদর্শনে তার এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সুশীীল সমাজের প্রতিনিধি ও অভিভাবকরা। পরিদর্শনকালে তার সাথে উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মডেল রির্সোস সেন্টার কর্মকর্তা মো. শফি উল্ল্যাহ, সাধারণ রির্সোস সেন্টার কর্মকর্তা মো. ইউসুফ আকন্দ প্রমুখ।
জানা গেছে, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের একটি অন্যতম বৃহৎ প্রকল্প হচ্ছে ‘মসজিদ ভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম’। আর্থ-সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড ও শিক্ষা বিস্তারের কাজে মসজিদের ইমাম সাহেবদের সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে এ প্রকল্পের আওতায় প্রাক-প্রাথমিক এবং ঝরে পড়া (ড্রপ-আউট) কিশোর-কিশোরী ও অক্ষর জ্ঞানহীন বয়স্কদের জন্য মসজিদ ভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে এ প্রকল্পের আওতায় ঝিনাইগাতী উপজেলায় ১৫৫টি কেন্দ্রে রয়েছে। তন্মধ্যে ৯৯টি কেন্দ্রে কুরআন শিক্ষা কার্যক্রমের শিক্ষার্থী প্রায় ৩ হাজার ৫০০ জন, ৫৪টি কেন্দ্রে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রমে ১ হাজার ৬০০ জন শিশু ও অক্ষর জ্ঞানহীন বয়স্কদের জন্য ২টি কেন্দ্র প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থী শিক্ষা গ্রহণ করে।

নলকুড়া ইউনিয়নের ডাকাবর এলাকার সুশীল সমাজের প্রতিনিধি আলহাজ্ব সালেহ আহদ বলেন, একজন দায়িত্বশীল প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে ইউএনও মো. আশরাফুল আলম রাসেল মাঠপর্যায়ে সক্রিয় উপস্থিতির মাধ্যমে উন্নয়ন কার্যক্রমে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তার এই নিষ্ঠা ও কর্মতৎপরতা জনসেবার প্রতি আন্তরিকতার উজ্জ্বল উদাহরণ।
এ ব্যাপারে ইউএনও মো. আশরাফুল আলম রাসেল বলেন, শিশুদের মৌলিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে সরকারের এ উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাঠপর্যায়ে সকল কার্যক্রম ঠিকভাবে হচ্ছে কি না, তা নিজ চোখে দেখে নিশ্চিত হতে চাই। এজন্যই ভোর থেকেই কেন্দ্রগুলোতে ঘুরে ঘুরে পরিদর্শন করছি।




