শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে মানুষ ও বন্যহাতির মাঝে দ্বন্দ্ব নিরসনে ইআরটি সদস্য ও বন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা এবং বন্যহাতি দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৮ আগস্ট শুক্রবার উপজেলার মধুটিলা ইকোপার্কে জেলা বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ ও দুবাই সাফারি পার্কের সাবেক প্রিন্সিপাল ড. আলী রেজা খান।

ময়মনসিংহ বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ নূরুল করিমের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় অঞ্চলের বন সংরক্ষক এএসএম. জহির উদ্দিন আকন, আরণ্যক ফাউন্ডেশনের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক মো. আবদুল মোতালেব, ডিপ ইকোলজি এন্ড স্নেক কনজারভেশন ফাউন্ডেশনের চেয়ারপার্সন মাহফুজুর রহমান, পরিচালক সৈয়দা অনন্যা ফারিয়া প্রমুখ।
ওইসময় উপস্থিত ছিলেন শেরপুরের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা সুমন সরকার, মধুটিলা ফরেস্ট রেঞ্জ কর্মকর্তা দেওয়ান আলী, ওয়াইল্ডলাইফ রেঞ্জার মোঃ আব্দুল্লাহ আল আমিন প্রমুখ।

জানা যায়, শেরপুরের গারো পাহাড়ি এলাকায় প্রায় দুই যুগ ধরে শতাধিক বন্যহাতি তান্ডব চালিয়ে মানুষের জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে আসছে। জানমাল রক্ষার্থে ভুক্তভোগী মানুষ বন্যহাতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলছে। কিন্তু এর স্থায়ী কোন প্রতিকার হচ্ছে না। এ নিয়ে মাঝে মধ্যে মানুষ ও বন্য হাতির সাথে দ্বন্দ্ব তৈরি হচ্ছে। কখনো কখনো মানুষ মারা যাচ্ছে। আবার কখনো বন্যহাতিও মারা যাচ্ছে। তাই পরিবেশের ইকো সিস্টেম ও বন্যহাতি রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। যাতে মানুষ ও বন্যহাতি উভয়েরই কোন ক্ষতি না হয়। সে লক্ষে বন্যহাতির বিচরণ এলাকায় ইলিফ্যান্ট রেসপন্স টিম (ইআরটি) টিম গঠন করা হয়েছে। তাদেরকে সচেতন করতে ও এলাকাবাসীর জানমাল রক্ষা করতে শুক্রবার দিনব্যাপী ইআরটি সদস্য ও বন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অংশ গ্রহনে এই প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। একইসাথে বন্যহাতি দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত ১৫ জন কৃষকের মাঝে ৩ লাখ ৯৮ হাজার টাকার ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ করা হয়।




