ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক লুৎফর বহিস্কার
শেরপুরে বিএনপি নেতা গোলাম জাকারিয়া বাদল হত্যার ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার রাতে নিহত বাদলের স্ত্রী পপি বেগম বাদী হয়ে সদর থানায় ওই হত্যা মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় কৃষক লীগ নেতা ও শেরপুর সদর উপজেলার কামারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নূরে আলম সিদ্দিকীকে ১ নম্বর আসামি এবং কামারিয়া ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক মো. লুৎফর রহমানকে ২ নম্বর আসামিসহ ২৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া মামলায় আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ গ্রেফতার হয়নি। শনিবার বিকেলে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জুবায়দুল আলম।

এদিকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে কামারিয়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক লুৎফর রহমানকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। শনিবার সকালে শেরপুর সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ মো. হযরত আলী ও সদস্য সচিব মো. ফরহাদ আলী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে কামারিয়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক লুৎফর রহমানকে দলীয় পদসহ প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তার কোনো অপকর্মের দায়-দায়িত্ব দল নেবে না। শেরপুর সদর উপজেলা বিএনপির সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের তার সাথে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশনা প্রদান করা হল।’
এর আগে স্থানীয়ভাবে আধিপত্য বিস্তার ও দলীয় অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জের ধরে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার প্রতিপক্ষের হামলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নিহত হন সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম জাকারিয়া বাদল। তিনি সদর উপজেলার কামারিয়া ইউনিয়নের ভীমগঞ্জ গ্রামের মৃত আবদুল আজিজের ছেলে শেরপুর সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক এজিএস ছিলেন। হামলার ঘটনায় ভীমগঞ্জ গ্রামের সোহাগ আলম ও রুহুল আমিন নামের আরও দুইজন আহত হন। গুরুতর আহত সোহাগ বর্তমানে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নিহত জাকারিয়া বাদলের স্ত্রী পপি বেগম বলেন, আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী ও কামারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নূরে আলম সিদ্দিকীর বিভিন্ন সন্ত্রাসীমূলক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করতেন তাঁর স্বামী। এ জন্য নূরে আলম বিভিন্ন সময় তাঁর স্বামীকে হুমকি দিতেন। এমনকি কয়েক মাস আগে তাঁর স্বামীর ওষুধের দোকান ভাঙচুরও করেন। বিভিন্ন মামলায় কারাদণ্ডপ্রাপ্ত নূরে আলম সিদ্দিকী সম্প্রতি গ্রেফতার হওয়ার পর বর্তমানে শেরপুর জেলা কারাগারে বন্দী রয়েছেন। কামারিয়া ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক লুৎফর রহমান কারাগারে গিয়ে নূরে আলমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। এরপর নূরে আলমের নির্দেশে লুৎফর রহমান ও তাঁর ১৫-১৬ জন সহযোগী তাঁর (পপি বেগম) স্বামী জাকারিয়া বাদলকে কুপিয়ে হত্যা করেন। মারা যাওয়ার আগে জাকারিয়া বাদল তার স্বজনদের কাছে নিজের মুখে নূরে আলমের নির্দেশে ও লুৎফরের উপস্থিতিতে তাঁর ওপর হামলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন, যার ভিডিও রেকর্ডও রয়েছে।
এদিকে বাদলের মৃত্যুতে শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েছে তার পরিবার। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাদলের বাড়ির আঙিনায় অনেক প্রতিবেশী ও স্বজন ভিড় করে আছেন। বাদলের স্ত্রী পপি বেগমকে জড়িয়ে ধরে বড় ছেলে তানভীর আহমেদ কাঁদছেন। আর ছোট ছেলে গোলাম তাহসিনুর তাবিব অসুস্থ অবস্থায় বিছানায় শুয়ে আছে। তারা বাদলের খুনীদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
তবে নূরে আলম সিদ্দিকী কারাগারে আটক থাকায় ও লুৎফর রহমান পলাতক থাকায় গোলাম জাকারিয়া বাদলকে হত্যার অভিযোগ প্রসঙ্গে তাঁদের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
এ ব্যাপারে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জুবায়দুল আলম বলেন, পুলিশ মামলাটি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে এবং ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।




