দু’দফা বন্যা আর বৈরি আবহাওয়ায় এবার শেরপুরের শ্রীবরদীতে নষ্ট হয়েছে শত শত হেক্টর জমির সবজি ক্ষেত। তবে পটলের চাষ করে ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়েছেন পৌর শহরের তারাকান্দি গ্রামের কৃষক ইব্রাহিম। মাত্র ৪০ শতাংশ জমিতে পটল চাষ করে পেয়েছেন বাম্পার ফলন। চড়া মূল্যে পটল বিক্রি করে দু’ মাসেই লাভ পেয়েছেন লাখ টাকা। আরো দুই মাস পটল বিক্রি হবে বলে আশা করছেন তিনি। এ ছাড়াও পটলের ক্ষেতে কাজের জন্য কর্মসংস্থান হয়েছে কয়েকটি শ্রমিকের। সরেজমিন গেলে পটল চাষী ও স্থানীয় কৃষকসহ কৃষি কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে ওঠে আসে সবজি চাষের এই সফলতার গল্প।

শ্রীবরদী উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, সবজি চাষে আগ্রহী করে তুলতে কৃষি অফিস থেকে প্রান্তিক কৃষকদের দেয়া হচ্ছে প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও প্রণোদনা। এবার বর্ষা মৌসুমে দু’দফা পাহাড়ি ঢল ও বৈরি আবহাওয়ায় অনেক সবজি ক্ষেত নষ্ট হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে সবজি বাজারে। সব সবজির দাম প্রায় দ্বিগুন। তবে পটল চাষে হয়েছে বাম্পার ফলন। এবার উপজেলায় প্রায় ২০ হেক্টর জমিতে পটলের আবাদ হয়েছে। এসব কৃষকদের মধ্যে অনেকে পেয়েছেন কৃষি অফিস থেকে প্রশিক্ষণ, প্রণোদনা ও পরামর্শ।
পৌর শহরের তারাকন্দি গ্রামের কৃষক ইব্রাহিম মিয়া জানান, তিনি উপজেলা কৃষি অফিস থেকে পটল চাষের ওপর প্রশিক্ষণ, প্রণোদনা ও পরামর্শ নেন। পরে ৪০ শতাংশ জমিতে পটলের চাষ করেন। এতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার টাকা। বর্ষার শুতেই তার ক্ষেতে আসে ফলন। সপ্তাহে ২ থেকে ৩ মণ করে পটল বিক্রি করছেন। গত মাসে প্রতি মণ পটল বিক্রি করেছেন ২ হাজার ৫শ টাকায়। তবে এখন বিক্রি করছেন ১ হাজার ৫ শ হতে ১ হাজার ৭শ টাকায়। তিনি বলেন, প্রায় দুই মাস যাবত পটল বিক্রি করছি। আমার চাষাবাদের খরচ তুলে এখন প্রায় এক লাখ টাকা লাভ হয়েছে। আরো দুই মাস এভাবেই পটল বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন তিনি।

তার প্রতিবেশী পটল চাষী দেলোয়ার হোসেন বলেন, এবার পটল চাষ করে সবাই লাভবান হয়েছে। তবে যারা আগাম পটলের চাষ করেছে তারা বেশি লাভ করেছে। স্থানীয় সাবেক কাউন্সিলর সেলিম মিয়া বলেন, পটলের বাম্পার ফলন হয়েছে। তাছাড়া অন্যান্য সবজি ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় চড়া মূল্যে পটল বিক্রি হচ্ছে। ফলে পটল চাষীরা বেশি লাভও পাচ্ছেন।
শ্রীবরদী উপজেলা উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা মো, জিল্লুর রহমান জানান, পটল চাষীদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি প্রণোদনা ও পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এছাড়াও যাতে পোকা মাকড় আক্রমণ না করতে পারে এ জন্য ফেরোমণ ফাদসহ নানা প্রযুক্তি দেয়া হয়েছে। ফলে পটলের বাম্পার ফলন হয়েছে। তিনি বলেন, এখানকার পটল স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে যাচ্ছে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন পাইকারি বাজারে।
শ্রীবরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাবরিনা আফরিন বলেন, নিরাপদ সবজি চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। অনেক জায়গাতে পটল চাষ করে ভাল ফলন পেয়েছেন কৃষকরা। আগামীতে পটলের আবাদ বাড়বে বলে আশা করছেন এই কর্মকর্তা। পটলের মতো সবজি চাষে কৃষি বিভাগ আরো জোড়ালো ভূমিকা নিবে। বাড়বে সবজি আবাদ। কৃষক ইব্রাহিমের মতো আরো অনেকে হবে লাভবান। এমনটাই প্রত্যাশা কৃষক ও স্থানীয়দের।




