ঈদুল ফিতর উপলক্ষে শেরপুরের শ্রীবরদীতে ভিজিএফের চাল বিতরণে ওজনে কম দেয়াসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা। ৮ এপ্রিল সোমবার উপজেলার রানীশিমুল ইউনিয়ন পরিষদে চাল বিতরণে ওই অভিযোগ ওঠে। চাল বিতরণে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার হিসেবে ছিলেন উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা ফরহাদ আহমেদ আকন্দ। অথচ তিনি উপস্থিত থাকলেও ছিলেন নীরব। অনিয়মের অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফৌজিয়া নাজনীন।

জানা যায়, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী উপহার হিসেবে রানীশিমুল ইউনিয়ন পরিষদে গরিবদের জন্য ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হচ্ছে। চালের ওজন মাপার জন্য গোডাউনে রয়েছে ডিজিটাল স্কেল মেশিন। তবে এটি ব্যবহার হচ্ছে না। চাল বিতরণ করা হচ্ছে প্লাস্টিকের বালতি দিয়ে। আনুমানভিত্তিক চাল বিতরণে করে চাল বিতরণ করা হয়। এতে কেউ পাচ্ছেন ৭ কেজি। কেউবা ৮ থেকে ৯ কেজি। কেউবা স্লিপ না পেয়ে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন বাড়িতে।
বয়োবৃদ্ধ জমিলা বেগম বলেন, ১০ কেজি চাল দিব বলে শুনছি। দিছে ৮ কেজি। বিলভরট গ্রামের সাইফুল্লাহ, উমর আলী, আয়শা বেগমসহ হতদরিদ্র অসহায় অনেকে জানান, আমাদেরকে ১০ কেজি করে দেয়ার কথা থাকলেও ৭ কেজি করে চাল দিয়েছে। রানীশিমুল গ্রামের জহিরুল নামে এক উপকারভোগী বলেন, আমাকে ৮ কেজি চাল দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, চেয়ারম্যান আমগোরে চাল কম দিতাছে। তার লোকেগড়ে ৪/৫ টা করে স্লিপ দিয়ে চাল দিতেছেন। হেইডা কম অয় না। আমরা এর বিচার চাই।

তবে অভিযোগের বিষয়ে রানীশিমুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল হামিদ সোহাগ বলেন, আগে থেকেই বালতি দিয়ে চাল পরিমাপ করা হয়েছে। বালতি ভরে চাল দিলে কম হবার সুযোগ নেই। কর্মীরা হয়তো তাড়াহুড়ো করে পরিমাপ করতে গিয়ে কম হতে পারে। তবে আমার লোক উপস্থিত ছিল।
ট্যাগ অফিসার শ্রীবরদী উপজেলা পল্লী উন্নয়ন ফরহাদ আহমেদ আকন্দ বলেন, বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেখেছেন। তিনি পরিমাপে নির্দেশনা দিয়েছেন। আমরা চেষ্টা করছি যাতে সঠিকভাবে বিতরণ করা হয়।
শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফৌজিয়া নাজনীন বলেন, চাল বিতরণে অনিয়মের খবর পেয়ে আমি স্বয়ং উপস্থিত হয়েছিলাম। চেয়ারম্যানসহ ট্যাগ অফিসারকে চাল বিতরণে ওজনসহ সঠিকভাবে বিতরণের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে শেরপুরের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল খায়রুম বলেন, ভিজিএফের চাল কম দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। কোথাও কম দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।




