বান্দরবানের রুমা উপজেলার সোনালী ব্যাংকে লুট, অস্ত্র ছিনতাই ও ব্যাংক ম্যানেজারকে অপহরণের রেশ কাটতে না কাটতেই থানচি উপজেলার কৃষি ও সোনালী ব্যাংকের শাখায় সশস্ত্র হামলা হয়েছে। বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার পর জেলার হামলার ঘটনা ঘটে বলে থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে।

কৃষি ব্যাংকের থানচি উপজেলার শাখার ব্যবস্থাপক হ্লা সুই থোয়াই জানান, তারা এসে চোখের পলকে আমাদের ব্যাংকে ঢুকে সবাইকে জিম্মি করে ফেলল। তারপর সবাইকে একটি কক্ষে নিয়ে বাইরে থেকে আটকে দিল। তারা ব্যাংকে কী করেছে এখনও আমরা বুঝতে পারছি না। সব দেখে তারপর বলতে হবে। ব্যাংকের টাকা লুট হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে কোনো ধারণা দিতে পারেননি কৃষি ব্যাংকের ব্যবস্থাপক। একই সময় পাশের সোনালী ব্যাংকেও হামলা হয় বলে কৃষি ব্যাংকের ব্যবস্থাপকের ভাষ্য। তবে এ বিষয়ে সোনালী ব্যাংকের কারো বক্তব্য জানা যায়নি।
থানচির ঘটনা নিয়ে জানতে চাইলে বান্দরবানের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) আব্দুল করিম বলেন, আজ কিছুক্ষণ আগে থানচিতে ব্যাংকে হামলা হয়েছে বলে আমরা খবর পেয়েছি। আমাদের ধারণা, গতকালের গ্রুপটিই এটা করেছে। গতকালের ঘটনার তদন্তে কোনো অগ্রগতি এখনো হয়নি।

থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মামুন বলেন, দুপুরে থানচি বাজারে এসে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা সোনালী ব্যাংক ও কৃষি ব্যাংকে প্রবেশ করে টাকা লুট করে নিয়ে গেছে বলে জেনেছি। তিনি বলেন, সোনালী ব্যাংক থেকে ১৪-১৫ লাখ টাকা নিয়ে গেছে বলে শুনেছি। তবে কৃষি ব্যাংক থেকে কত টাকা নিয়েছে জানা যায়নি। সেখান থেকে কাউকে অপহরণ করার সংবাদও পাওয়া যায়নি।
এর আগে গতকাল মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে কুকি চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) ৫০-৬০ জনের সশস্ত্র দল রুমা সোনালী ব্যাংককে প্রবেশ করে। এসময় অস্ত্রের মুখে ব্যাংকের পাহারায় থাকা পুলিশ, আনসার সদস্যদের দুটি সাব-মেশিন গান ও এর ৬০ রাউন্ড গুলি, আটটি চাইনিজ রাইফেল ও এর ৩২০ রাউন্ড গুলি এবং চারটি শর্টগান ও ৩৫ রাউন্ড গুলি লুট করে তারা। এসময় ব্যাংক ম্যানেজার নিজাম উদ্দিনকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।
বান্দরবানের রুমায় রুমায় সোনালী ব্যাংক ডাকাতি ও ১৪টি আগ্নেঅস্ত্র লুটের ১৪ ঘন্টা পার হলেও মামলা হয়নি। তবে এই ঘটনায় আজ বুধবার (৩ এপ্রিল) সকলে জেলার উর্ধতন কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক শাহ মুজাহিদ উদ্দিন ও পুলিশ সুপার সৈকত শাহীন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।




