বরেণ্য শিল্পী ও ভাস্কর বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক শামীম শিকদার স্মরণে তার প্রিয় স্থান শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার গজনীতে আর্ট ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৪ ও ২৫ মার্চ দুদিনব্যাপী তারই প্রতিষ্ঠিত জাতীয় ভাস্কর্য গ্যালারির আয়োজনে ওই আর্ট ক্যাম্পে জাতীয় ভাস্কর্য গ্যালারির ১১ জন শিল্পী অংশ গ্রহণ করেন।

ভাস্কর শামীম শিকদার মৃত্যুর পূর্বে শেরপুরের সীমান্তবর্তী গারো জনগোষ্ঠীর সাথে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিলেন। তাই তার স্মৃতি বিজড়িত এলাকায় আর্ট ক্যাম্পে শিল্পীরা গারো পাহাড়ের জীবন যাপন ও নৈসর্গিক দৃশ্য রং তুলির নান্দনিক ছোঁয়ায় তুলে ধরেন।
দুদিনব্যাপী আর্ট ক্যাম্প শেষে ছবিগুলোকে নিয়ে ২৬ মার্চ বিকেলে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে একটি মুক্তাঙ্গন শিল্পকর্ম প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। দিনব্যাপী ওই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি শেরপুরের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল খায়রুম। ওইসময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও পদোন্নতিপ্রাপ্ত উপসচিব মুকতাদিরুল আহমেদ, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজাবে রহমত, সহকারী কমিশনার অনিন্দিতা রানী ভৌমিক, জেলা কালচারাল অফিসার আতিকুর রহমান ও জাতীয় ভাস্কর্য গ্যালারি কিউরেটর মো. ইমরান হোসেনসহ আগত শিল্পীরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রদর্শনীটি সকল মানুষের জন্য উন্মুক্ত ছিল। মুক্তাঙ্গন শিল্পকর্ম প্রদর্শনী হওয়ায় শেরপুরের শিল্পপিপাসু মানুষেরা প্রদর্শনীতে ভিড় জমায়। এমন ভিন্ন একটি প্রদর্শনী দেখতে পেরে শিক্ষার্থীরা খুবই আনন্দিত ও নতুন কিছু শিখেছে বলে তারা জানান।
জানা যায়, ওই আর্টক্যাম্পকে ঘিরে জাতীয় ভাস্কর্য গ্যালারি কিউরেটর মো. ইমরান হোসেনের নেতৃত্বে ঢাকা থেকে শিল্পীরা গজনী আসেন এবং জেলা প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় দুদিনব্যাপী ছবি আঁকেন। অংশগ্রহণকারী শিল্পীরা হলেন শিল্পী ড. কাজী মোজাম্মেল হোসেন, শিল্পী কুয়াশা বিন্দু, শিল্পী নজমুল হক, শিল্পী নিপা গোমেজ, শিল্পী শেখ সোহানা ইসলাম, শিল্পী সজীব চন্দ্র ঘোষ, শিল্পী সুবর্ণা বড়ুয়া, শিল্পী হিউবার্ড ফলিও, শিল্পী শাহানেওয়াজ পারভেজ অনিক, শিল্পী নূরে আলম সিদ্দিক ও শিল্পী রাকিব মুক্তাদির।
উল্লেখ্য, বরেণ্য শিল্পী ও ভাস্কর বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক শামীম শিকদার ২০২৩ সালের ২১ মার্চ রাজধানী ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।




