মেহের আমজাদ,মেহেরপুর : জামায়াতের ডাকা হরতালের সমর্থনে মেহেরপুর জেলার বিভিন্ন সড়কের ৬টি স্থানে অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন নেতাকর্মীরা। ১৫ ডিসেম্বর রবিবার মেহেরপুর-কুষ্টিয়া সড়কের পোড়াপাড়া ও ছাতিয়ান, মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গা সড়কের রাজনগর, মেহেরপুর-মুজিবনগর সড়ের বন্দর মোড় ও গৌরিনগর এবং মেহেরপুর-কাথুলী সড়কের কায়েমকাটার মোড়ে বিপুল সংখ্যক জামায়াত-শিবির নেতাকর্মী লাঠিসোটা নিয়ে ও রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন।
এদিন মেহেরপুর-চুয়াডাঙ্গা সড়কে সদর উপজেলার রাজনগরে জামায়াত শিবিরের নেতা কর্মীরা জামায়াত নেতা আব্দুল জব্বারের নেতৃত্বে সড়কে ডাল ফেলে ও টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। অবরোধকালে অন্যান্যের মধ্যে জামায়াত নেতা আব্দুর রহিম, মহাসিন আলী, আলীহিম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। একই সময় মহিলা জামায়াতের একটি দল লাঠি ও ঝাড়– মিছিল করেন। ওই সময় মেহেরপুরগামী একটি তেলবাহি ট্রাংকলরিতে হামলা চালায় অবরোধকারীরা। এসময় ট্রাংক লরিটি পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। পরে হরতাল সমর্থকরা কাদের মোল্লার আত্মার মাগফেরাত কামনায় সড়কের উপরে দো’আ মোনাজাত করে।
জেলা ছাত্র শিবিরের সভাপতি সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে বন্দর মোড়ে জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা সড়কে আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। কায়েমকাটার মোড়ে জেলা জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি তারিক মোঃ সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে দলীয় নেতা-কর্মীরা ট্রায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন জেলা শিবিরের সভাপতি সাইফুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি সোহেল রানা ডলার সহ নেতৃবৃন্দ। অবরোধকালে ৭/৮টি ককটেল বিষ্ফোরণ ঘটায় হরতালকারীরা।
মেহেরপুর-মুজিবনগর সড়কের গৌরিনগরে মুজিবনগর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি খান জাহান আলীর নেতৃত্বে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা সড়ক অবরোধ করেন। উপস্থিত ছিলেন জেলা শিবিরের প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক ফজলুল হক গাজী ও মুজিবনগর উপজেলা ছাত্র শিবিরের সভাপতি মোকলেছুর রহমান প্রমুখ। এদিকে শনিবার দিনগত রাত ২ টার দিকে গাংনী উপজেলার শুকুরকান্দি নামক স্থানে একটি ট্রাকে আগুন দেয় দৃর্বত্তরা। কুষ্টিয়া থেকে মেহেরপুরগামী কাঠ বোঝাই ট্রাকটি পুড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীরা। খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
এদিকে হরতালের কারনে আন্তজেলা ও দুরপাল্লার পরিবহন চলাচল বন্ধ ছিলো। শহরের অধিকাংশ দোকান পাট বন্ধ ছিলো। তবে বিকেল হওয়ার সাথে সাথে দোকান পাট খুলতে শুরু করে। অফিস-আদালত খোলা ছিলো তবে লোক-জনের উপস্থিতি কিছুটা কম ছিলো। ব্যাংক-বীমায় লেনদেন হয়েছে সন্তর্পনে। স্কুল-কলেজে ছাত্র-ছাত্রীর উপস্থিতি অন্যান্য দিনের তুলনায় কিছুটা কম ছিলো।




