এম লুৎফর রহমান নরসিংদী প্রতিনিধি : জেলার স্বনামধন্য শিবপুর উপজেলার গুলেস্তা হাফিজ ইনস্টিটিউটে এক শিক্ষকের পিটুনির কারনে স্কুলের মডেল টেষ্ট পরক্ষা দিতে পারেনি মহেদী হাসান নামের এক এসএসসি পরক্ষার্থী। জানা যায়, এই স্কুলের শারীরিক শিক্ষা বিষয়ের শিক্ষক পংকজ কুমার বিশ্বাস একই স্কুলের ২০১৪ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী মেহেদী হাসানের মাথার চুল কেটে আসার জন্য শাষিয়ে দেয়। এরপর মেহেদী চুল কেটে স্কুলের আসে কিন্তু পংকজ কুমারের মনোপুত না হওয়ায় গত ২৮ নভেম্বর মেহেদীকে মাথার চুলে ধরে এবং শার্টের কলারে ধরে বেধম মারপিট করে। অবস্থা বেগতিক দেখে তাকে ছেড়ে দেয়। শিক্ষকের পিটুনিতে এমন মারপিটে আহত স্কুলছাত্র মেহেদী হাসান বাড়িতে চলে যাওয়ার সময় স্কুল মাঠেই জ্ঞ্যান হারিয়ে ফেলে। এই অবস্থায় তার সহপাঠিরা মেহেদীর পরিবারের কাছে খবর দিলে তারা প্রথমে পুটিয়া স্থানীয় ডাক্তারের কাছে নিলে তিনি অপারগতা প্রকাশ করলে নরসিংদী হাসপাতালে নিয়ে তাকে কিছুটা সুস্থ্য করে বাড়ি নিয়ে আসে। এরফলে পরদিন ২৯ নভেম্বর স্কুলের মডেল টেষ্ট পরীক্ষার ইংরেজী ২য় পত্র ও রসায়ন বিজ্ঞান পরীক্ষা দিতে পারেনি মেহেদী হাসান। এই বিষয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ মাজারুল ইসলাম জুয়েল ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে শিক্ষকের বিরোদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। স্কুলে ছাত্র পেটানোর খবর পেয়ে নরসিংদী ও শিবপুর থেকে বিভিন্ন সাংবাদিক বিষয়টি জানার জন্য সরেজমিনে গেলে স্কুলের গণিত শিক্ষক রেজাউল করীম অনেকটা রাগান্বিত হয়ে বলেন, আমরা ছাত্র পিটিয়েছি, আমরাতো বাহিরের কাউকে পিটাইনি। আমাদের ছাত্র কিভাবে ভাল করব এটা আমরা বুঝব, আপনারা নাক গলানোর কে? আর আমরা ছাত্র পিটিয়েছি এটা আমাদের স্কুলের বিষয় এটা আপনার কোন বিষয় নয় আপনার কিছু করার থাকলে করেন গিয়ে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্কুলের ডজন খানেক শিক্ষার্থী জানায়, গণিতের শিক্ষক বিধায় তিনি স্কুলে একক কতৃত্ব দেখাতে চান এবং কিছু দিন পরপরই একেক শিক্ষার্থীকে মারধর করে থাকে। শিক্ষার্থীরা আরো জানান, তিনি গণিতের শিক্ষক তাই তার কাছে প্রাইভেট না পড়লে স্কুলে ভিন্ন কৌশলে শাস্তি দিয়ে থাকেন। স্কুলের সামান্য দুরে সোনাতলায় তিনি ভাড়া বাসায় স্কুলের শিক্ষার্থীদের নিয়ে কোচিং বানিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন নির্ভিগ্নে। সরকারী নিয়ম অনুযায়ী কোচিং বানিজ্য ও নিজ স্কুলের শিক্ষার্থী পড়ানো নিষিদ্ধ থাকলেও রেজাউল করীম এর বেলায় এর কোন নিয়ম নেই। ছাত্র পেটানোর বিষয়ে মেহেদী হাসানের পিতা ফারুক ইকবাল কাজল বলেন, আমি ঘাশির দিয়া একটি স্কুলের পরিচালনা কমিটির সদস্য তাই আমি জানি শিক্ষার্থীদের পিটানোর পরিবর্তে আনন্দ দানের মাধ্যমে পাঠ দেয়ার কথা বলা হয়েছে আর আমার ছেলের চুলতো ২ ইঞ্চিও হয়নি আর সে শিক্ষকের কথামতো কেটেছেও তথাপি তাকে এমনভাবে মারপিট করাটা আশান্বিত নয়। এই মারপিটের কারনে আমার ছেলে স্কুলের দুটি মডেল টেষ্ট পরীক্ষা দিতে পারেনি। এটাকি ভাল হল না খারাপ হল শিক্ষকদের কাছে যদি বিচার থাকে তাহলে আমি কারো কাছে বিচার নয় তাদের বিবেকের আদালতে বিচার দিলাম। এতে যদি তাদের বিচার না হয় তাহলে পৃথিবীর কোন আদালতে তাদের বিচার হবেনা। স্কুলের শিক্ষার্থীও অভিভাবকরা জানান, এই স্কুলের গণিত শিক্ষক রেজাউল করীমের ভয়ে ৬ষ্ঠ থেকে ১০ শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা ভয়ে তটস্ত থাকে, কোন সময় জানি এই শিক্ষকের চোখে ধরা পরে পিটুনির ষ্টিম রোলার খেতে হয়। এতে করে শিক্ষর্থীদের মানষিক বিপর্যয় ঘটে বলে দাবী করেন বিষেজ্ঞ মহল। এই ঘটনায় স্কুলের অভিভাবক, শিক্ষার্থী, সুশিল সমাজের ব্যক্তিবর্গ উক্ত ঘটনার বিষয়ে সুষ্ট্য তদন্ত শেষে উপযুক্ত বিচার দাবী করে বলেন, যাতে করে ভবিষ্যতে আর এমন দ্বিতীয়টি না ঘটে। আর শংকামুক্ত থাকে স্কুলের শিক্ষার্থী ও অভিভাবক মহল।




