ads

রবিবার , ১৭ নভেম্বর ২০১৩ | ১৪ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

অনিয়ম-অব্যবস্থাপনায় শেরপুরের ঝগড়ার চর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষাব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে

রফিকুল ইসলাম আধার , সম্পাদক
নভেম্বর ১৭, ২০১৩ ২:৩৪ অপরাহ্ণ

sherpur disশেরপুর প্রতিনিধি : শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের শতবর্ষ পুরোনো একমাত্র বিদ্যাপীঠ ঝগড়ারচর আদর্শ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেনের  অবৈধ জোরপূর্বক দায়িত্ব গ্রহণ, দায়িত্ব-কর্তব্যে চরম অবহেলা, ব্যাপক দূর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার দায়ে শিক্ষা ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যালয়টির দীর্ঘদিনের  সুনাম ও ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে বসেছে বলে অভিভাবক, সচেতন এলাকাবাসী ও প্রাক্তন প্রধান শিক্ষকসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষক অভিযোগ তুলেছেন।
জানা যায়, বিদ্যালয়টির প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক ছামিউল হক ফারুকী ২০০৮ সালের ৩০ নভেম্বর চাকুরি থেকে অবসর নিলে পদটি শূন্য হয়। সেই সুবাদে বিদ্যালয়ে ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হামিদুল হক শাজাহান স্বীয় স্বার্থ চরিতার্থ করার অভিপ্রায়ে কু-চক্রান্তপূর্ণভাবে নিজ পুত্র জাকির হোসেনকে ওই শূন্যপদে দায়িত্ব অর্পণ করেন। ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান শাজাহানের একক ক্ষমতাবলে বিদ্যালয়ের ৬ জন সিনিয়র শিক্ষককে পেছনে ফেলে শিক্ষক প্যাটার্নের সর্বকনিষ্ঠ শিক্ষক (সহকারী কম্পিউটার) হলেও তিনি প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন, যা শিক্ষানীতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। অনভিজ্ঞ জুনিয়র শিক্ষককে দায়িত্ব দেওয়ায় শতবর্ষী সুনামধন্য বিদ্যালয়টির শিক্ষাব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এ নিয়ে সিনিয়র শিক্ষকদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করায় বর্তমানে ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদান কর্মসূচির চরম অবনতি ও অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।  এতে করে এলাকাবাসী ও অভিভাবক মহলের মাঝে চরম হতাশা বিরাজ করছে। শিক্ষানীতি ও বিধি নিষেধকে তোয়াক্কা না করে পিতা-পুত্রের স্বজনপ্রীতিতে বিদ্যালয়টির প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ব্যাহত ও লেখাপড়ার পরিবেশ বিঘিœত হওয়ায় সচেতন এলাকাবাসী, অভিভাবক ও বেশ কয়েকজন প্রাক্তন শিক্ষক চেয়ারম্যান, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড ঢাকা বরাবরে একাধিক অভিযোগ দায়ের করেন। ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষের আদেশে জেলা শিক্ষা অফিসার সরেজমিনে তদন্ত করেন। তদন্ত শেষে জেলা শিক্ষা অফিসের স্মারকমূলে একখানা প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পেশ করেন। ওই তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক মো. শাহেদুল খবির চৌধুরী ওই বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী প্রধান শিক্ষক রবীন্দ্রনাথ বসুকে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়ার জন্য ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি তথা অবৈধ ভারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষককে নির্দেশ প্রদান করেন। সেইসাথে সোনালী ব্যাংক শ্রীবরদীর শাখা ব্যবস্থাপককেকে চিঠির মাধ্যমে অবহিত করেন। এ অবস্থায় রবীন্দ্রনাথ বসুকে জোরপূর্বক অসুস্থ ও দায়িত্ব পালনে অক্ষম দেখিয়ে অবৈধভাবে জাকির হোসেন প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে বহাল রয়েছেন।
আরও জানা যায়, ২০০৮ সালের ৩০ নভেম্বর অবৈধ দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নানা অনিয়ম-দূর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতায় লিপ্ত রয়েছে। তিনি শিক্ষানীতিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে কু-চক্রান্তপূর্ণভাবে তার পিতা হামিদুল হক শাজাহানকে আবারও বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি করেন। এছাড়াও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের  অনুমতি ব্যতিরেকে বিদ্যালয়ের সৃজিত বাগান থেকে মূল্যবান গাছ বিক্রি করে মোটা অংকের টাকা আত্মসাত, বিদ্যালয়টির একমাত্র খেলার মাঠে ২০/২৫ টি দোকান স্থাপন করে প্রতি দোকানী থেকে ২/৩ লক্ষ টাকা নিয়ে আত্মসাত ও মাসিক ভাড়া আদায়ের টাকা দীর্ঘদিন যাবত ভোগ, উৎকোচ গ্রহণের মাধ্যমে খন্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ, ছাত্র-ছাত্রীদের নিকট মিথ্যা ভাওচারের অর্থ আদায়, ভোকেশনাল ছাত্র-ছাত্রীদের নিকট বিভিন্ন অজুহাতে অর্থ আদায়, যার কোন স্টক রেজিস্টার বা মোভমেন্ট রেজিস্টার ব্যবহার না করা। এছাড়াও সকাল বিকাল ক্লাসরুমেই প্রাইভেট বাণিজ্য ও কোচিংয়ের নামে বাড়তি অর্থ আদায়সহ নিজের অনিয়মিত যাওয়া-আসা, খন্ডকালীন শিক্ষক দিয়ে দায়সারা ক্লাস পরিচালনায় বিদ্যালয়টির লেখাপড়ার পরিবেশ ধ্বংসের পথে। ফলে সচেতন এলাকাবাসী, অভিভাবক মহল ওই দূর্নীতিবাজ ও অবৈধ প্রধানশিক্ষক জাকির হোসেনের হেন কার্যকলাপ হতে রক্ষা করে বিদ্যালয়টিতে লেখাপড়ার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরে আনতে উর্ধ্বতন কর্তপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Need Ads

সর্বশেষ - ব্রেকিং নিউজ

Shamol Bangla Ads
error: কপি হবে না!