শ্যামলবাংলা ডেস্ক : বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) নিহত শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। ৮ অক্টোবর মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় কুষ্টিয়ায় কুমারখালির কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙ্গা গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে আবরারকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়েছে। এর আগে সকাল ১০টায় রায়ডাঙ্গায় বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতিতে তার তৃতীয় ও শেষ নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে, গ্রামবাসী খুনিদের বিচার দাবিতে রাস্তায় দাঁড়িয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। তারা হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

এর আগে, মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে আবরার ফাহাদের বাবা বরকত উল্লাহ ঢাকা থেকে অ্যাম্বুলেন্সযোগে ছেলের মরদেহ কুষ্টিয়া শহরের পিটিআই রোডের নিজ বাড়িতে নিয়ে আসেন। ওইসময় সেখানে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। স্বজনদের আহাজারীতে সেখানকার বাতাস ভারী হয়ে ওঠে।
এরপর সকাল সাড়ে ৬টায় কুষ্টিয়ার পিটিআই রোডের আল-হেরা জামে মসজিদে তার দ্বিতীয় জানাজা সম্পন্ন হয়। জানাজায় কুষ্টিয়া উপজেলা চেয়ারম্যানসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

গতকাল সোমবার রাত ১০টার দিকে ঢাকায় বুয়েটের সেন্ট্রাল মসজিদ প্রাঙ্গনে আবরারের প্রথম জানাজা সম্পন্ন হয়। এরপর তার মরদেহ নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সযোগে কুষ্টিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন আবারারের বাবা বরকত উল্লাহ্।
উল্লেখ্য, ৬ অক্টোবর রবিবার রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের দ্বিতীয় তলার সিঁড়ি থেকে অচেতন অবস্থায় ফাহাদকে উদ্ধার করা হয়। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ওই রাতে হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে আবরারকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন পিটিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক জানিয়েছেন, তাঁর মরদেহে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। আবরার বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের (১৭তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী ছিলেন।
এ ঘটনায় বুয়েটের শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এদিকে আবরার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে সোমবার সন্ধ্যার পর চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা করেন আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ্।




