হুমায়ুন কবির মৃধা, সিরাজগঞ্জ : আজ ১১ নভেম্বর। ঐতিহাসিক সিরাজগঞ্জের তাড়াশের নওগাঁ যুদ্ধ দিবস। ১৯৭১ সালে আজকের এই দিনে নওগাঁয় পাক হানাদার বাহিনীর সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের ভয়াবহ সন্মুখ যুদ্ধে নিহত হয় প্রায় ২ শতাধিক পাক সেনা ও অর্ধশত রাজাকার। অনেক আহত হলেও মারা যায়নি একজন মুক্তিযোদ্ধাও। মুক্তিযুদ্ধে এই বাহিনী অসামান্য সাফল্য দেখালেও রাষ্ট্রীয়ভাবে কোন স্বীকৃতি দেয়া হয়নি আজও।
জানা যায়, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরুর পর সিরাজগঞ্জ ও তার আশে পাশের এলাকার ছাত্র, যুবক, সেনা সদস্য, পুলিশ আর বিডিআর নিয়ে গঠিত হয় উত্তরবঙ্গের বৃহৎ বেসরকারী সাব সেক্টর ‘পলাশডাঙ্গা যুব শিবির’। বেশ কয়েকটি সম্মুখ যুদ্ধে ওই বাহিনী পায় ব্যাপক সাফল্য। আর ১১ নভেম্বর ওই বাহিনী পায় সেরা সাফল্য। পাক হানাদার বাহিনী ১১ নভেম্বর মধ্যরাত থেকে নওগাঁ ও তার আশে পাশের এলাকা ঘিরে ফেলে। নওগাঁ মসজিদ থেকে মুক্তিযোদ্ধারা খবর পেয়ে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত চলা ওই যুদ্ধে প্রায় ২ শতাধিক পাক সেনা, অর্ধশত রাজাকার নিহত হয়। এক ক্যাপ্টেনসহ মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে আটক হয় বেশ কয়েকজন পাক সেনা। স্বাধীনতার ৪২ বছর পর মুক্তিযুদ্ধের এই বাহিনীর বীরত্বগাথা ইতিহাস ধরে রাখতে তৈরী করা হচ্ছে একটি স্মৃতিস্তম্ভ। তবে আজও রাষ্ট্রীয় খেতাব মেলেনি এই বাহিনীর বীর মুক্তিযোদ্ধাদের। স্থানীয়ভাবে নানা কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে আজ দিবসটি পালিত হচ্ছে।




