রংপুর : রংপুরে আলোচিত অ্যাডভোকেট রথীশ চন্দ্র ভৌমিক বাবুসোনা হত্যা মামলায় তার স্ত্রী স্নিগ্ধা ভৌমিককে মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন আদালত। ২৯ জানুয়ারি মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে রংপুরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এ বি এম নিজামুল হক ওই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় স্নিগ্ধা ভৌমিক আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
অ্যাডভোকেট বাবুসোনা জাপানি নাগরিক হোশি কুনিও এবং মাজার খাদেম রহতম আলী হত্যা মামলার বিশেষ পিপি ছিলেন। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
গত বছরের ২৯ মার্চ নিখোঁজ হওয়ার পর তার ছোটভাই সুশান্ত ভৌমিক একটি অপহরণের মামলা করেন। তদন্তে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে বাবুসোনার স্ত্রী স্নিগ্ধা ও তার প্রেমিক কামরুল তাকে হত্যার কথা স্বীকার করে। তাকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে শ্বাসরোধে হত্যার কথা জানায় তারা। পরে কামরুলের বড় ভাইয়ের নির্মাণাধীন বাড়ি থেকে পুঁতে রাখা লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় দুই আসামি গ্রেফতারের পর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।
ওই হত্যা মামলায় সোমবার সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) এবং রাষ্ট্রনিযুক্ত আসামি পক্ষের আইনজীবীর যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। পরে আদালত আগামী ২৯ জানুয়ারি মামলার রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করেন।
পিপি আব্দুল মালেক জানান, গত ৩০ অক্টোবর থেকে এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। মামলায় ৩৭ জনের স্বাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। স্বাক্ষ্যগ্রহণ শেষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়। ওই সময় মামলার বেঁচে থাকা আসামি স্নিগ্ধা সরকার ওরফে দীপা আদালতে উপস্থিত ছিল।
মামলাটিতে রংপুরের আইনজীবীরা আসামি পক্ষের হয়ে কাজ না করার ঘোষণা দেন। পরে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে অ্যাডভোকেট বসুনিয়া মো. আরিফুল ইসলাম স্বপনকে মামলায় আসামি পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়। অন্যদিক রাষ্ট্রপক্ষে পিপি আব্দুল মালেককে সহযোগিতা করেন আইনজীবী শাহ মো. নয়ন্নুর রহমান টফি, উৎপল আদনান ইসরাম, জাহাঙ্গীর আলম তুহিন, ফিরোজ কবীর গুঞ্জন, সাজেদুর রহমান তাতা, অ্যাডভোকেট শিরিন, প্রশান্ত কুমার রায়, আব্দুস ছাত্তার, আইনুন নাহার পাপড়ী, শহিদুল ইসলাম, মাহমুদুল ইসলাম রানাসহ অর্ধশতাধিক আইনজীবী।




