ads

মঙ্গলবার , ২০ অক্টোবর ২০২৬ | ২১ অক্টোবর ২০২৬
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানকে কেউ বিতর্কিত করবেন না : প্রধানমন্ত্রী

শ্যামলবাংলা ডেস্ক - ফটো কার্ড
অক্টোবর ২০, ২০২৬ ৬:২৪ অপরাহ্ণ

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে বিতর্কিত না করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, আমরা দেখেছি ইতিপূর্বে ১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধকে কেউ একজন বিতর্কিত করতে চেয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ সেটা ভালো চোখে দেখেনি। ঠিক একইভাবে আমরা দেখেছি, চব্বিশের ছাত্র-জনতার যে গণঅভ্যুত্থান, সেই গণঅভ্যুত্থানকেও কোনো কোনো মহল বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে। আমি সকলের সামনে গণতান্ত্রিক সকল জনগণকে স্পষ্ট করে বলতে চাই যে, দয়া করে আপনারা কেউ ছাত্র-জনতার যে গণঅভ্যুত্থান, সেটিকে বিতর্কিত করবেন না। ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার দুপুরে রংপুর নগরীর ধর্মসভা রাধা গোবিন্দ মন্দিরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে গিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

Shamol Bangla Ads

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, জনগণের ভোটে সংসদ গঠিত হয়েছে, সেই সংসদে জনগণ তাদের প্রতিনিধিদের পাঠিয়েছে। আপনাদের যদি কিছু বলার থাকে, তুলে ধরার থাকে, আপনারা সেখানে কথা বলুন। তিনি আরও বলেন, ১৯৭১ সালে আমরা যখন যুদ্ধ করে এই দেশটিকে স্বাধীন করেছিলাম, তখন কিন্তু আমরা কোনো ধর্ম দেখিনি। প্রতিটি মানুষ, বিভিন্ন ধর্মের, বিভিন্ন মতের, বিভিন্ন পেশার মানুষ যুদ্ধের ময়দানে যুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করেছিল। ঠিক একইভাবে দেশ স্বাধীনের পরে যখন বিভিন্ন সময় গণতন্ত্র হুমকিকে পড়েছিল, তখন এই দেশের মানুষ তাদের রাজনৈতিক অধিকারকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য রাজপথে নেমে এসেছিল। সেই মানুষদের ভেতরেও সকল ধর্মের মানুষই ছিল, সকল মত, সকল শ্রেশি-পেশার মানুষ ছিল।

তারেক রহমান বলেন, দুই-আড়াই বছর আগে বাংলাদেশে একটি গণঅভ্যুত্থান হয়েছে। এদেশের ছাত্র-জনতা গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের ঘাড়ে যে স্বৈরাচার চেপে বসেছিল তাকে এদেশ থেকে তাড়িয়ে ছেড়েছে। আমরা যদি সেই গণঅভ্যুত্থানের রাজপথের দৃশ্য দেখি, তাহলে দেখব সেই দৃশ্যর মধ্যে আমরা এই বাংলাদেশে বসবাসকারী সকল ধর্মের মানুষের সম্মিলন সেখানে হয়েছিল। সকল মানুষকে আমরা দেখেছিলাম দল, মত, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি ধর্মের মানুষ, প্রতিটি পেশার মানুষ সেই রাজপথে সেদিন নেমে এসেছিল তাদের অধিকারকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য।

Shamol Bangla Ads

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই দেশটি হাজার বছর ধরে সকল ধর্মের মানুষকে নিয়ে এগিয়ে চলেছে, শান্তিতে আমরা সকলে মিলে বসবাস করছি। আমরা চাই, বিগত হাজার বছর ধরে যেমন আমরা প্রতিটি ধর্মের মানুষ এ দেশে শান্তিতে একসাথে বসবাস করেছি। আগামী হাজার বছরেও যাতে আমরা একসাথে শান্তিতে বসবাস করতে পারি। আগামী দিনে আমরা যদি আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ তৈরি করতে চাই, তাহলে সকল ধর্ম-মতের মানুষকে একসাথে দেশের জন্য কাজ করে প্রত্যাশিত সেই বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।

সরকারের পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারকে এদেশের মানুষ নির্বাচিত করেছে। হতে পারে কোনো অঞ্চলে আমাদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছে, কোনো অঞ্চলে আমাদের সদস্য নির্বাচিত হয়নি। কিন্তু বর্তমান সরকার এমন একটি সরকার হতে চায়—যে ভোট দিয়েছে তারও সরকার হতে চায়, আর যে ভোট দেয়নি তার জন্যও এই সরকার সরকার হতে চায়। অর্থাৎ আমরা সকল এলাকা বা সকল মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। সকল এলাকার উন্নয়ন আমরা সমানভাবে, রাষ্ট্রের যে অর্থনৈতিক ব্যবস্থা আছে তার ওপরে বিবেচনা করে আমরা সকল এলাকায় সমবণ্টন করে সমানভাবে উন্নয়ন করতে চাই।

অতীতের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, এ দেশকে গড়ে তুলতে হলে আমাদের সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। এ দেশকে গড়ে তুলতে হলে আমাদেরকে সকল বিভ্রান্তি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা, অতীতে আমরা যে রাজনীতি দেখেছি, তার পরিবর্তন আমরা করতে চাই। এই পরিবর্তনের জন্য সরকার চেষ্টা করছে। কিন্তু এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে জনগণ এবং এই জনগণকে আমরা অতীতের মতো বর্তমানেও পাশে দেখতে চাই।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল, বিএনপি নেত্রী ও সংসদ সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী বক্তব্য দেন।

পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে ধর্মসভা রাধা গোবিন্দ মন্দিরের উন্নয়নে ১০ লাখ টাকার অনুদানের চেক হস্তান্তর করেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে সড়কপথে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ বাসে করে দুপুর ১২টার দিকে ধর্মসভা রাধা গোবিন্দ মন্দির পরিদর্শনে আসেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান মন্দির কমিটির সদস্যসহ বিএনপি নেতারা। তিনি পূজামণ্ডপে প্রবেশ করে পূজারিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং হাত নেড়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপস্থিত লোকজনদের শুভেচ্ছা জানান।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটি ছিল তারেক রহমানের প্রথম রংপুর সফর। পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে প্রধানমন্ত্রী সৈয়দপুর বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা হন। সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রী রাজশাহীর ধর্মসভা মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন।

Need Ads

সর্বশেষ - খেলাধুলা

Shamol Bangla Ads