ads

বৃহস্পতিবার , ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২৪ অক্টোবর ২০২৬
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

বাকৃবি দক্ষিণ এশিয়ার কৃষি জ্ঞান হাব উৎকর্ষকেন্দ্র : বিশ্বমঞ্চে নতুন উচ্চতায়

কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আধুনিকায়নে ১৮০ মিলিয়ন ডলারের প্রকল্প

​কৃষি শিক্ষায় উৎকর্ষ সাধনের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে এবার আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের আরও এক নতুন দিগন্তে পা রাখতে যাচ্ছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি)। পরিবর্তিত বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত চ্যালেঞ্জ এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চাহিদাকে সামনে রেখে প্রতিষ্ঠানটিকে শুধু দেশের সীমানায় নয়, বরং পুরো দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রধান কৃষি গবেষণা ও জ্ঞান বিনিময়ের কেন্দ্র বা ‘হাব’ হিসেবে গড়ে তোলার সুদূরপ্রসারী এক কর্মপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
​দেশের কৃষি অর্থনীতির মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত ঐতিহ্যবাহী এই উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিকে বিশ্বমানের গবেষণাগারে রূপান্তর এবং আন্তর্জাতিক গবেষকদের মিলনমেলায় পরিণত করতে নেওয়া হয়েছে বহুমুখী উদ্যোগ। ৩ সেপ্টেম্বর উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বাকৃবির নানা পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।

Shamol Bangla Ads

দেশের কৃষি উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় বড় পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে ১৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সহায়তায় প্রস্তাবিত ‘স্ট্রেনদেনিং এগ্রিকালচারাল টারশিয়ারি এডুকেশন প্রজেক্ট (এসএটিইপি)’-এর আওতায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কে (বাকৃবি) কৃষি গবেষণার উৎকর্ষকেন্দ্র ও দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক গবেষণা-জ্ঞান হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

একই প্রকল্পের আওতায় দেশের অন্যান্য কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানো হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার, শিল্পের চাহিদাভিত্তিক শিক্ষা এবং গবেষণালব্ধ জ্ঞানকে কৃষি খাতে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

Shamol Bangla Ads

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের সঙ্গে এডিবির প্রতিনিধিদলের এক পরামর্শ সভায় এসব তথ্য উঠে আসে। ইউজিসি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় এসএটিইপি প্রকল্পের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।

বাকৃবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া প্রকল্প বাস্তবায়নে ইউজিসি, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি বলেন, প্রকল্পটি শিক্ষার্থীদের কর্মবাজারোপযোগী দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এই প্রস্তাবিত প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮০ মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে এডিবি দেবে ১০৫ মিলিয়ন এবং কোরিয়া এক্সিম ব্যাংক/ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন ফান্ড (কেএক্সিম/ইডিসিএফ) দেবে ৫৫ মিলিয়ন ডলার। বাকি অর্থের জোগান দেবে বাংলাদেশ সরকার। পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৭ থেকে ২০৩২ সাল পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কথা রয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পাঠক্রম ও একাডেমিক কাঠামো আধুনিকায়ন, গবেষণা অবকাঠামো উন্নয়ন, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং শিক্ষক ও গবেষকদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। কৃষি শিক্ষাকে শিল্প ও কর্মবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আধুনিক প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করা হবে।

বাকৃবিতে জলবায়ু পরিবর্তন ও কৃষি গবেষণার জন্য একটি আধুনিক ইনস্ট্রুমেন্টেশন সেন্টার প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও রয়েছে। এর মাধ্যমে জলবায়ু, কৃষি উৎপাদন ও পরিবেশসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ এবং গবেষণার সক্ষমতা বাড়বে।

গবেষণা ও কৃষি শিক্ষায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারও বাড়ানো হবে। এর মধ্যে রয়েছে রিমোট সেন্সিং, জিপিএস, জিআইএস, ড্রোন, ডিজিটাল টুইন, ওয়েদার অ্যানালিটিকস, বিগ ডেটা অ্যানালিটিকস, বায়োটেকনোলজি ও রোবটিকস। এসব প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষি গবেষণা ও উদ্ভাবনকে আরও তথ্যনির্ভর ও বাস্তবমুখী করার লক্ষ্য রয়েছে।

প্রকল্পটির অন্যতম লক্ষ্য গবেষণাগার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানা পেরিয়ে গবেষণার ফল কৃষি খাত ও বাজারে পৌঁছে দেওয়া। এজন্য গবেষণালব্ধ জ্ঞান ও প্রযুক্তির বাণিজ্যিকীকরণ, কৃষিশিল্পের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশীদারত্ব এবং গবেষণা-শিল্প-উদ্যোক্তা সংযোগ জোরদার করা হবে।

তরুণদের কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতেও বিশেষ উদ্যোগ থাকবে। প্রি-স্টার্টআপ, স্টার্টআপ ও ইনকিউবেশন পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে নতুন প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগ বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

সভায় এডিবির সিনিয়র সোশ্যাল সেক্টর ইকোনমিস্ট ও মিশন লিডার রিওতারো হায়াশি বলেন, আন্তর্জাতিক র‌্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। প্রস্তাবিত প্রকল্পের মাধ্যমে বাকৃবির শিক্ষা ও গবেষণার সক্ষমতা আরও বাড়ানোর পাশাপাশি দেশের অন্যান্য কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কেও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, বাকৃবির সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়া ও বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা সম্প্রসারণ করা হবে। গবেষণা, উদ্ভাবন, শিল্প ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম গড়ে তোলাও প্রকল্পের লক্ষ্য।

ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, কৃষি বাংলাদেশের অর্থনীতি ও খাদ্যনিরাপত্তার অন্যতম ভিত্তি। জলবায়ু পরিবর্তন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, আবাদি জমি কমে যাওয়া এবং খাদ্য ও পুষ্টির চাহিদা বাড়ার প্রেক্ষাপটে কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার ও গবেষণা আরও বাড়াতে হবে। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে জ্ঞান, গবেষণা ও উদ্ভাবনের কেন্দ্রে পরিণত করা জরুরি।

সভায় ইউজিসির পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ মাকসুদুর রহমান ভূঁইয়া, বাকৃবির প্রকল্প ফোকাল পয়েন্ট অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামসুল আলম ভূঁইয়া, ইউজিসির অতিরিক্ত পরিচালক সুরাইয়া ফারহানাসসহ ইউজিসি, বাকৃবি ও এডিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে বাকৃবি কেবল দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণেই নয়, বরং বৈশ্বিক কৃষি কূটনীতি ও জ্ঞান কূটনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করবে। আঞ্চলিক খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বৈশ্বিক গবেষকদের কাছে এই ক্যাম্পাসটি হয়ে উঠবে এক নির্ভরতার প্রতীক।

Need Ads