ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সংবিধান সংস্কারবিষয়ক গণভোটের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশে। রাজধানী থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। অনেক ভোটারের ভাষায়, এটি এক ধরনের গণতান্ত্রিক জাগরণের দিন।

রাজধানীর বাসাবো বাগানবাড়ি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে দেখা যায়, মূল ফটক খোলার আগেই সকাল ৬টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন ভোটাররা। প্রবীণদের পাশাপাশি তরুণদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো।
ভোটাররা জানান, আগের কয়েকটি নির্বাচনের তুলনায় এবার পরিবেশ শান্তিপূর্ণ ও স্বতঃস্ফূর্ত। মাদারটেক এলাকার এক ভোটার বলেন, “গত তিনবার ভোট দিতে পারিনি। তাই এবার ফজরের নামাজ পড়েই কেন্দ্রে চলে এসেছি। ভোট দিয়ে গিয়ে পরিবারের অন্য সদস্যদেরও পাঠাবো।”

এক তরুণ ভোটার বলেন, “ভোটার হয়েছি আগেই, কিন্তু দুইবার সুযোগ পাইনি। তাই এবার সকালেই ভোট দিতে চলে এসেছি।”
এবার প্রতিটি ভোটারকে দুটি ব্যালট পেপার দেওয়া হচ্ছে। একটিতে ২৯৯টি আসনের বিপরীতে ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থীর মধ্য থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচনের ভোট দেওয়া হচ্ছে। অন্য ব্যালটে ‘রাষ্ট্র সংস্কার সংক্রান্ত সাংবিধানিক গণভোট’-এ মতামত জানাচ্ছেন ভোটাররা।
নিরাপত্তা নিশ্চিতে নির্বাচন কমিশন সর্বোচ্চ সতর্কতা গ্রহণ করেছে। সারাদেশে ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২১ হাজার ৫০৬টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে অতিরিক্ত নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছে। মাঠে রয়েছে ১ লাখ ৩ হাজার সেনাসদস্য, যাদের বিশেষ ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশ, বিজিবি ও র্যাবের টহল দলগুলো কেন্দ্রগুলো ঘিরে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে।




