শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে নিহত শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিম হত্যা মামলায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মাহমুদুল হাসান রুবেলকে (৩৪) গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। ২ ফেব্রুয়ারি সোমবার রাতে ঝিনাইগাতী উপজেলার বনগাঁও এলাকার একটি বিল থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার মাহমুদুল হাসান রুবেল ঝিনাইগাতী উপজেলার বনকালী এলাকার গেসু মিয়ার ছেলে এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক। তিনি ওই হত্যা মামলার ৫৫ নম্বর আসামি। শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান ভূঁঞা গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার রাতে নালিতাবাড়ী সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আফসান-আল-আলমের নেতৃত্বে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল ঝিনাইগাতীর বনগাঁও এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানের একপর্যায়ে বিলের ভেতর থেকে মাহমুদুল হাসান রুবেলকে আটক করা হয়। মঙ্গলবার দুপুরে তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির এসআই জুমাতুল ইসলাম জিতু ৫ দিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদনসহ তাকে আদালতে সোপর্দ করেন। পরে আমলী আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হাসান ভুঁইয়া আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি রিমান্ড শুনানীর তারিখ ধার্য করে তাকে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
রিমান্ড আবেদনের বিষয়টি নিশ্চিত করে কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান জানান, দুপুরেই তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে মাহমুদুল হাসান রুবেলকে গ্রেফতারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে শেরপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল। সংগঠনের আহ্বায়ক মো. মামুন অর রশিদ মামুন এবং সদস্যসচিব মো. নিয়ামুল হাসান আনন্দ এক যৌথ বিবৃতিতে অভিযোগ করেন, আসন্ন নির্বাচনকে প্রভাবিত করতেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা মামলাটিকে ‘মিথ্যা ও বানোয়াট’ আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে মাহমুদুল হাসান রুবেলের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন।

উল্লেখ্য, ২৮ জানুয়ারি বুধবার ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বাগবিতন্ডার এক পর্যায়ে সংঘর্ষে জড়ান বিএনপি-জামায়াতের নেতা-কর্মীরা। সন্ধ্যা পর্যন্ত দফায় দফায় চলা সংঘর্ষে উভয় পক্ষের শতাধিক লোক আহত হন। পরে জামায়াত নেতা রেজাউল করিমকে গুরুতর অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে ওইদিন রাতেই তিনি মারা যান। ওই ঘটনায় গত ৩০ জানুয়ারি নিহতের স্ত্রী মারজিয়া বাদী হয়ে ঝিনাইগাতী থানায় বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেলকে প্রধান আসামি করে ২৩১ জনকে স্বনামে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।




