ছেলেদের ক্রিকেট এশিয়া কাপ শেষ হতে না হতেই ভারতকে মাঠে নামতে হচ্ছে নারী বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী দিনে ভারতের প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা। নারীদের ত্রয়োদশ ওয়ানডে বিশ্বকাপের আয়োজকও তারা। স্বাগতিক হওয়ায় নারী বিশ্বকাপ ঘিরে উৎসবের বাতাবরণ তৈরি হয়েছে দেশটিতে। ভারতীয়দের কাছে এবারের পুজোর ছুটি হতে পারে ক্রিকেটময়।

মেয়েদের বিশ্বকাপ আসরের পর্দা উঠছে আসামের গৌহাটি থেকে। বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইংল্যান্ডের ম্যাচ আছে এ ভেন্যুতে। নিগার সুলতানা জ্যোতিরা শ্রীলঙ্কার কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলা শেষ করে গৌহাটিতে পৌঁছাবেন। দেশের খুব কাছের ভেন্যুতে দুটি ম্যাচ খেলে বিশাখাপত্তনমে যাবেন তারা।
মেয়েদের এই ওয়ানডে বিশ্বকাপ হচ্ছে হাইব্রিড মডেলে। ভারত-পাকিস্তানের রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে নিরপেক্ষ ভেন্যু কলম্বোয় আয়োজন করতে হচ্ছে লিগের ১১টি ম্যাচ। পাকিস্তান তাদের সাতটি ম্যাচই খেলবে কলম্বোতে। আট দলের বিশ্বকাপে পাকিস্তান ছাড়াও শ্রীলঙ্কার কিছু ম্যাচ খেলার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে কলম্বো শহরে। সেদিক থেকে বলাই যায়, ভারত ও শ্রীলঙ্কা বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক।

রাউন্ড রবিন লিগে ৩৪ দিনের বিশ্বকাপে ৩১টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে পাঁচটি শহরে– ভারতের গৌহাটি, ইনদোর, বিশাখাপত্তনম ও নেভি মুম্বাইয়ে আর শ্রীলঙ্কার কলম্বো। পাকিস্তান সেমিফাইনাল ও ফাইনালে উন্নীত হলে শ্রীলঙ্কায় খেলা হবে ম্যাচগুলো। যদিও পাকিস্তানের সেমিফাইনাল বা ফাইনাল খেলার সম্ভাবনা খুবই কম। ওয়ানডে সংস্করণে নারী বিশ্বকাপ আগে শুরু হলেও পুরুষ ক্রিকেটে এক আসর বেশি খেলেছে। মেয়েরা যেখানে ১৯৭৩ সালে প্রথম বিশ্বকাপ খেলেছে, ছেলেরা সেখানে ১৯৭৫ সালে। আগে শুরু করেও ছেলেদের পেছনে পড়ার কারণ হলো, মেয়েদের ওয়ানডে বিশ্বকাপ চার বছর অন্তর হয়নি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) চেষ্টা করছে চার বছর অন্তর বিশ্বকাপ আয়োজনের।
ভারত এ নিয়ে চতুর্থবার নারী বিশ্বকাপের আয়োজক। ১৯৭৮, ১৯৯৭ ও ২০১৩ সালে দেশটিতে বিশ্বকাপ হয়েছিল। তিনবার আয়োজক হলেও এখনও নারীদের বিশ্বকাপ শিরোপা জিততে পারেনি। ২০০৫ সালে একবারই ফাইনাল খেলেছে তারা। বিগত ১২ বিশ্বকাপে সাতবার চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া, চারবার ইংল্যান্ড ও একবার নিউজিল্যান্ড। কয়েক বছর ধরেই ভালো ক্রিকেট খেলছে ভারত। সেদিক থেকে ক্রিকেটপ্রেমীরা নতুন চ্যাম্পিয়ন পেলেও পেতে পারেন। নারীদের এক দিনের ক্রিকেট বর্তমান চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া। ভারতের কন্ডিশনে ভালো ক্রিকেট খেলে তারা। এই দেশে অনুষ্ঠিত আগের তিন বিশ্বকাপই জিতেছে অস্ট্রেলিয়া। অসিরা শিরোপা ধরে রাখবে না অন্য কোনো দল জিতে নেবে, তার উত্তর জানার জন্য অপেক্ষা করতে হবে ২ নভেম্বর ফাইনাল পর্যন্ত।




