ময়মনসিংহের গৌরীপুরে মৃত্যুর ২৫ মাস ১২ দিন পর আব্দুল্লাহ সুমন নামের এক যুবকের লাশ উত্তোলন করেছে পুলিশ। ১২ আগস্ট মঙ্গলবার বিকেলে মা মজিদা আক্তারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলার সহনাটি ইউনিয়নের কামারজানি গ্রামে কবর থেকে লাশটি উত্তোলন করা হয়। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মফিজুল আলম ওইসময় উপস্থিত ছিলেন।
আব্দুল্লাহ সুমন (৩০) কামারজানি গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে।

জানা যায়, ২০২৩ সালের ৩০ জুন বাড়ির পেছনে খালের পাড়ে আব্দুল্লাহ সুমনের লাশ পাওয়া যায়। ওই সময় বজ্রাঘাতে তার মৃত্যু হয়েছে—এমন কারণ দেখিয়ে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। পরে ওই মৃত্যু নিয়ে মা মজিদা আক্তার প্রশ্ন তুললেও বাবা হাবিবুর রহমান তাতে কর্ণপাত না করে তড়িঘড়ি লাশ দাফন করেন। পরে এ নিয়ে হাবিবুরের দুই স্ত্রীর মধ্যে বিবাদ সৃষ্টি হয়।
মজিদার অভিযোগ, তার স্বামী ও দ্বিতীয় স্ত্রী মিলে শ্বাসরোধ করে ছেলে সুমনকে হত্যার পর লাশ বৃষ্টির মধ্যে ফেলে রাখে। পরে বজ্রাঘাতে মৃত্যু হয়েছে বলে প্রচার চালিয়ে প্রকৃত ঘটনা ধামাচাপা দেন অভিযুক্তরা। ওই ঘটনায় ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর জেলা ময়মনসিংহের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৪ নম্বর আমলি আদালতে হত্যার অভিযোগ এনে আবেদন করেন মজিদা। ওই আবেদনে অভিযুক্ত করা হয় স্বামী হাবিবুর, সতীন মোছা. বেগম, তাদের চার ছেলে-মেয়েসহ মোট ১০ জনকে।
বিষয়টি আমলে নিয়ে লাশ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের আদেশ দেন আদালত। এর পরিপ্রেক্ষিতে আজ মঙ্গলবার লাশ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়।

অভিযুক্ত হাবিবুর রহমান বলেন, আমার ছেলে বজ্রাঘাতে মারা গেছে—এটা সবাই জানে। তার পরও মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য আমার প্রথম স্ত্রী মিথ্যা মামলা করেছেন। ময়নাতদন্তের পর আবারও সত্য প্রমাণিত হবে।
তবে প্রথম স্ত্রীর মেয়ে পপি আক্তারের দাবি, তারা চার ভাই-বোন ছিলেন। এক ভাই ২ বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাওয়ার পর আরেক ভাইকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিতে পথ খুঁজছিলেন সৎমা। ভাইয়ের রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে সত্য উদঘাটনে আদালতে মামলা করেছেন তার মা মজিদা আক্তার।
এ ব্যাপারে গৌরীপুর থানার ওসি দিদারুল ইসলাম বলেন, আদালতের নির্দেশ পেয়ে পুলিশের একটি দল কামারজানি গ্রামে উপস্থিত হয়ে লাশ উত্তোলনে সহযোগিতা করেছে।




