অবশেষে ট্রফি জিতল টটেনহ্যাম হটস্পার। দীর্ঘ ১৭ বছর পর। বুধবার রাতে ইউরোপা লিগের ফাইনালে ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডকে হারাল ১-০ গোলে। একমাত্র গোল ব্রেনান জনসনের। হারের পর চাপ আরও বাড়ল ম্যান ইউ কোচ রুবেন আমোরিমের। উঠছে পদত্যাগের দাবিও।

জানা যায়, ২০০৮ সালে ইংলিশ লিগ কাপ জিতেছিল টটেনহ্যাম। তার পর এটাই বড় ট্রফি তাদের। ১৯৮৪ সালে তারা উয়েফা কাপ (এখনকার ইউরোপা লিগের সমান জিতেছিল। সেই নিরিখে ৪১ বছর পর ইউরোপীয় মঞ্চে ট্রফি জিতল তারা। ইউরোপা লিগ জিতে পরের বছর চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলা নিশ্চিত করে ফেলল টটেনহ্যাম। দারুণ পারফরম্যানস করেন রোমেরো। আর্জেন্টিনার খরা কাটানোর কুশীলব এভাবেই নায়ক বনে গেলেন টটেনহ্যামেরও।
ফাইনালের মঞ্চটা তৈরি, আর সেখানে বুক চিতিয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো; এ ২ যেন একে অন্যেরই সমার্থক। আর্জেন্টিনার ২৮ বছরের খরা কাটানোর সেই কোপা আমেরিকার ফাইনাল থেকে শুরু, এরপর বিশ্বকাপ ফাইনালেও একই দৃশ্যের দেখা মিলেছিল। এবার ইউরোপা লিগ ফাইনালেও ঘটল একই দৃশ্যের অবতারণা।

টটেনহ্যামের জয়ের পেছনে যে নামটা সবচেয়ে বেশি আলোড়ন তুলল, সেটা গোলদাতার নয়— সেটা রোমেরোর। আর্জেন্টিনার খরা কাটানোর অন্যতম সারথী তাই এবার রীতিমতো নায়কই বনে গেলে টটেনহ্যামের। রোমেরো গত রাতে শুধু প্রতিপক্ষকে আটকানইনি, তিনি পুরো খেলার ছন্দটা নিয়ন্ত্রণও করছিলেন। মাঠে তার উপস্থিতি আগ্রাসী আত্মবিশ্বাসের জানান দেয়। সেটা কালও করলেন। রোমেরো কখনো ফাইনাল হারেননি। কেন, সে প্রশ্নের জবাবটা কাল রাতে দিলেন আরও একবার। টটেনহ্যাম গত রাতে ম্যাচের একটা বড় সময় খেলেছে লো ব্লকে, আর সে লো ব্লকের নেতৃত্বটা দিয়েছেন আর্জেন্টাইন এই ডিফেন্ডার, টটেনহ্যামের যে কোনো খেলোয়াড়ের চেয়ে বেশি বল ক্লিয়ার করেছেন। প্রোঅ্যাক্টিভ ডিফেন্ডিং তার খেলার ধরন। ঝুঁকি নিয়ে হলেও বক্সের বাইরে গিয়ে ডিফেন্ড করেন, পাসিংয়েও ঝুঁকি নেন, লং বল বাড়ান। সেসবের ছাপ গত রাতেও রেখেছেন। ৯২ শতাংশ পাস ঠিক দিয়েছেন, ১০টা বল ক্লিয়ার করেছেন, ১টা শট ঠেকিয়েও দিয়েছেন শরীর বাড়িয়ে দিয়ে।
তবে রোমেরোর শক্তিটা ঠিক এখানে নয়, তার ইস্পাতকঠিন মনোভাব দলকে চাঙ্গা করে যেমনভাবে, প্রতিপক্ষকেও মানসিকভাবে খানিকটা হলেও পিছিয়ে দেয়। গত রাতে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডার হ্যারি ম্যাগুয়ের একটা সময় খেলছিলেন বাড়তি স্ট্রাইকার হিসেবে। তিনি তার মগজেও চড়ে বসেছিলেন রীতিমতো। রোমেরো কখনো কানে কানে কিছু বলে মনোযোগ ভাঙছিলেন, কখনো ধাক্কায় ভারসাম্য নষ্ট করছিলেন। কোনো কিছুই এমনভাবে করেননি যে সেটা ফাউল হিসেবে ধরা পড়ে। উল্টোটাই হলো। ম্যাগুয়েরই একটা পর্যায়ে ধৈর্য খুইয়ে বসলেন, তাকে সেখানে নিয়ে যাওয়ার কলকাঠিটা নাড়ছিলেন রোমেরোই তো!




