ঈদুল ফিতরকে ঘিরে শেরপুরের তাঁতপল্লীর তৈরি জামদানি শাড়ির কদর এখন রাজধানী ঢাকাসহ দেশজুড়ে। এজন্য সরব চলছে শেরপুর সদর ও শ্রীবরদীর ২২টি তাঁতপল্লী। চাহিদা মোতাবেক জামদানি সরবরাহ দিতে ওইসব তাঁতপল্লীর মালিক ও কারিগররা এখন ভোর থেকে রাত পর্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন। এখানে তৈরি জামদানি শাড়ি ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে।

সরেজমিনে জেলার শ্রীবরদীর উপজেলার ভাটিলংগড়পাড়া গ্রামে এনামূল হকের গড়ে তোলা তাঁতপল্লীতে গিয়ে দেখা যায়, টিনসেড কাঁচা ঘরে ৫টি মেশিন দিয়ে গড়ে তুলেছেন তাঁত কারখানা। তৈরি করছেন জামদানি শাড়ি। এখন তার কারখানায় কাজ করছেন ১০ জন শ্রমিক। তিনি জানান, দারিদ্র্যতার কারণে ৮ বছর আগে পড়ালেখা ছেড়ে নরসিংদীর তাঁতপল্লীতে কাজ করেন। এ সময় শিখেন তাঁতপল্লীর যাবতীয় কাজ। দুই বছর আগে তার সাথে থাকা আরো ৩ জনকে নিয়ে বাড়ি এসে শুরু করেন কারখানা। অগ্রিম অর্ডারের মাধ্যমে ঢাকা-নরসিংদীর মহাজনদের কাছে ৫ হাজার থেকে এক লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের জামদানি শাড়ি বিক্রি করছেন তিনি। কখনো দেশের বাইরে থেকেও আসছে অর্ডার। ঘরে বসেই এখন এনামূল মাসে আয় করছেন ৩০ হতে ৪০ হাজার টাকা।
তিনি আরও বলেন, অন্যান্য সময়ের তুলনায় রমজান মাসে জামদানি শাড়ির চাহিদা বেশি। আর্থিক সংকটে নির্মাণ করতে পারছি না পাকা ঘর। কাঁচা ঘরে কাজ করতে সমস্যা হচ্ছে। তবে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে গ্রামে ৫০টি মেশিন বসাতে চাই। এই গ্রামে অনেক বেকার আছে তাদের কর্মসংস্থান করতে চাই।

এদিকে ওই তাঁতপল্লী নিয়ে কথা হয় স্থানীয় খড়িয়াকাজিরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দুলাল মিয়ার সাথে। তিনি বলেন, দেশে ও বিদেশে রয়েছে শেরপুরের তৈরি জামদানি শাড়ির প্রচুর চাহিদা। তাই গ্রামাঞ্চলের তাঁতপল্লীগুলোতে পৃষ্ঠপোষকতা ও সার্বিক সহায়তা দিলে গড়ে উঠতে পারে বৃহত্তর তাঁত শিল্পনগরী। কাজের সুযোগ হতে পারে শত শত নারী পুরুষের। সেইসাথে বেকার সমস্যা লাঘবেও এ শিল্প ভূমিকা রাখতে পারে।
এ ব্যাপারে শেরপুর জেলা বিসিকের উপ-ব্যবস্থাপক বিজয় কুমার দত্ত বলেন, জামদানি শাড়ি জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত। জামদানি শাড়ির চাহিদা আগে থেকেই রয়েছে। জেলায় ইতোমধ্যে অন্তত ২২টি তাঁতপল্লী গড়ে ওঠেছে। এ শিল্পের সাথে জড়িতদের জন্য প্রশিক্ষণ ও ঋণ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তাদের তৈরি কাপড় নিজস্ব বিক্রয় মাধ্যম ছাড়াও সরকারিভাবে মেলায় বিক্রির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এছাড়া মানগত কারণে এ অঞ্চলের তৈরি জামদানি শাড়ি এখন রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি হচ্ছে।




