শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে কালবৈশাখী ঝড়ের ছোবলে ভুট্টা আবাদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন শতাধিক কৃষক।

জানা গেছে, গত শনিবার (২৩ মার্চ) বিকেলে উপজেলার উপর দিয়ে প্রচন্ড বেগে বয়ে যায় কালবৈশাখী ঝড় ও শিলা বৃষ্টি। প্রায় ঘন্টাব্যাপী এ ঝড়ে উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের সর্বত্রই ভুট্টা ক্ষেত লণ্ডভণ্ড হয়ে মাটির সাথে মিশে যায়। এতে ভুট্টা চাষীদের অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হয়। ফলে অর্ধশতাধিক কৃষক পড়েছেন চরম বিপাকে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ২০০ হেক্টর জমিতে ভূট্টা চাষ করা হয়। ২ শতাধিক কৃষক ভুট্টার আবাদ করেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আবাদও হয় ভালো। ভুট্টা চাষ ধান চাষের চেয়েও লাভজনক হওয়ায় আশায় বুক বাধে ২ শতাধিক কৃষক।

কিন্তু মৌসুমের শুরুতেই কালবৈশাখীর ছোবলে কেড়ে নিয়েছে অর্ধশতাধিক কৃষকের স্বপ্ন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবমতে, ২০ হেক্টর জমির ভূট্টা ক্ষেতের ক্ষতি দেখানো হলেও বেসরকারিভাবে এর পরিমাণ হবে দিগুণ।
সরেজমিন অনুসন্ধানে গিয়ে উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়ন ভালুকা গ্রামের সত্তরোর্ধ্ব কৃষক মো: সৈয়দ জামান, দক্ষিণ ডেফলাই গ্রামের মতিউর রহমান, সহিদ মিয়া, মো: রুহুল আমীন, আব্দুল মান্নান, আলমগীর হোসেন, ইউসুফ আলী, ছমির উদ্দিন, খোরশেদ আলম, আবু বক্কর বকুল, বাবুল মিয়া, সাজু মিয়া, জয়নাল, মালেক, রহমত আলী, উমর আলী, সোলাইমান, আলামীন, জবেদ আলী, আকরাম হোসেন, আলম মিয়াসহ আরও অনেকে বলেন, অধিক লাভের আসায় ধারদেনা করে ভুট্টা আবাদ করা হয়েছিল। কিন্তু কালবৈশাখীর ছোবলে ভুট্টা ক্ষেতগুলো লণ্ডভণ্ড হয়ে মাটির সাথে মিশে গেছে। ভুট্টা ক্ষেতে ক্ষতি হওয়ায় তাদের ছেলে-মেয়েসহ পরিবারের ভরণপোষণ যোগাবেন কি দিয়ে এ চিন্তায় তারা এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হুমায়ুন দিলদার বলেন, ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা তৈরি করে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আউশ আবাদে কৃষি প্রনোদনা দেয়া হবে।




