শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় ভারত থেকে পাচার করা ৪ টি মহিষ ও ৩ টি গরু রেখে ছবি তোলার ভয়ে পালিয়ে গেছে পাচার চক্রের ৫ সদস্য। ২০ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সকালে উপজেলার সীমান্তঘেঁষা ডালুকোনা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। পরে বিকেলে পুলিশ গিয়ে গরু ও মহিষ উদ্ধার করে নালিতাবাড়ী থানায় নিয়ে আসে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সীমান্তঘেঁষা ডালুকোনা এলাকায় সকাল ১১টার দিকে ট্রলি নিয়ে চালকসহ পাঁচ ব্যক্তি ৪টি মহিষ ও ৩টি গরু আনতে ডালকোনা এলাকায় যান। এসময় পোড়াগাও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বন্দনা চাম্বুগংসহ এলাকাবাসী বিষয়টি দেখতে পান।
পরে সন্দেহ হলে ওই পাঁচ ব্যক্তির পরিচয় জানতে চান স্থানীয়রা। এসময় তাঁরা নিজেদের পার্শ্ববর্তী রাচন্দ্রকুড়া ইউনিয়নের তন্তর গ্রামের বাসিন্দা ও সেখানে থাকা গরু-মহিষের মালিক বলে দাবী করেন। এসময় আওয়ামী লীগ নেত্রী বন্দনা গরু -মহিষসহ ওই ব্যক্তিদের ছবি তুলতে চাইলে গরু-মহিষ রেখেই ট্রলি নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে তাঁরা পালিয়ে যান। পরে খবর পেয়ে মঙ্গলবার বিকেলে পুলিশ গিয়ে ওই গরু ও মহিষ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

এলাকাবাসী জানায়, খাদ্যের সন্ধানে উপজেলার ডালুকোনা এলাকায় দুই সপ্তাহ ধরে বন্য হাতির একটি দল অবস্থান করছে। তাঁদের ধারনা, সোমবার রাতের কোন একসময় ডালুকোনার ভারত সীমান্ত দিয়ে পাচার চক্রটি ভারত থেকে গরু ও মহিষ পাচার করে নিয়ে আসে। কিন্তু সেখানে হাতি অবস্থান করায় রাতে ও মঙ্গলবার সকালে পাচার করা গরু ও মহিষ বের করে আনা সম্ভব হয়নি৷ পরে মঙ্গলবার সকাল ১১ টার দিকে ট্রলিসহ পাঁচজনকে ওইসব গরু ও মহিষ নিতে আসতে দেখে সন্দেহ হলে এলাকাবাসী ছবি তুলতে চায়৷ এসময় ট্রলিসহ পালিয়ে যায় পাচার চক্রের পাঁচ সদস্য।
এবিষয়ে পোঁড়াগাও ইউনিয়িন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রত্যক্ষদর্শী বন্দনা চাম্বুগং বলেন, রাতের আঁধারে ভারত থেকে গরু- মহিষ পাচার করে আনলেও হাতি থাকায় তাঁরা গরু-মহিষ নিয়ে যেতে পারে নাই৷ সকালে ট্রলিসহ তাঁদেরকে পাহাড়ে দেখে আমাদের সন্দেহ হয়। পরে আমি ছবি তুলতে চাইলে তাঁরা গরু-মহিষ রেখেই ট্রলি নিয়ে পালিয়ে যায়।
জানতে চাইলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুল আলম ভূঁইয়া বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে গরু ও মহিষ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে৷ তবে গরু ও মহিষগুলো চোরাই নাকি ভারত থেকে পাচার করা তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷




