শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে উপজেলা সেচ কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ভুঁইয়ার হস্তক্ষেপে নলকুড়া ইউনিয়নের জারুলতলা গ্রামের অর্ধশতাধিক কৃষক তাদের জমিতে সেচের পানি পেয়েছেন। ফলে ভাটি এলাকার শতাধিক কৃষক অনায়াসে অর্ধশতাধিক একর জমিতে বোরো চাষাবাদ করতে পারবেন।

জানা গেছে, বিএডিসি সেচ প্রকল্পের সেচের পানিতে জারুলতলা খালের অর্ধশতাধিক একর জমিতে বোরো চাষাবাদ করেন ওই এলাকার শতাধিক কৃষক। গত ৬ বছর ধরে কৃষকরা তাদের জমি চাষাবাদ করে উৎপাদিত ফসলে তাদের পরিবারের সদস্যদের জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। চলতি বছর ওই সেচ প্রকল্পের পাশে খালের উজানে জারুলতলা গ্রামের কারিমুল ইসলাম নামে একব্যক্তি একটি সাবমারসিবল নলকূপ স্থাপন করে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কারিমুলের নিজস্ব কোন জমিজমা না থাকলেও বাণিজ্যিকভাবে অন্যের জমিতে সেচ দেয়ার জন্য বিএডিসি অবৈধভাবে ওই সেচ পাম্প স্থাপনের অনুমতি দেয়। আর অনুমতি পাবার পর কারিমুল ইসলাম খালের উজানে ভাটি অঞ্চলে পানি যাতায়াতের প্রবেশ পথে একটি বাঁধ নির্মাণ করে। কৃষকরা জানায়, এখানে কারিমুল ৫ একর জমিতে সেচ দেয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। আর ওই বাঁধ নির্মাণের ফলে ভাটি এলাকার অর্ধশতাধিক একর জমিতে সেচ দিতে পারছিলেন না কৃষকরা। জমিতে সেচ দিতে না পারায় বোরো মৌসুমে কৃষকদের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি তাদের জমিতে বোরো আবাদ না হওয়ার আশঙ্কায় ভুগছিলেন তারা।

এ ব্যাপারে বিএডিসি সেচ প্রকল্পের সত্ত্বাধিকারী খালেক সাইফুল্লাহ জানান, কারিমুল ইসলামের দেয়া বাঁধ অতিক্রম করে উচু এলাকায় তার পক্ষে পানি দেয়া সম্ভব না। অবৈধভাবে কারিমুল ইসলাম সেচের অনুমতি দেয়ার বিষয়ে বিএডিসি’র মাঠ পরিদর্শক আমিনুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমি মাঠ পরিদর্শন করে তার আবেদনটি বাতিল করে দিয়েছি। তবে আমি ৩ মাস প্রশিক্ষণে থাকাকালীন সময়ে অন্য কেউ অনুমতি দিতে পারে, তা আমার জানা নেই। অপরদিকে এর প্রতিকার চেয়ে এলাকার কৃষকদের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত আবেদন করা হয়।
এ বিষয়ে শ্যামলবাংলা২৪ডটকমে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদন প্রকাশিত হবার পর এবং আবেদন পেয়েই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ভুঁইয়া ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ভাটি এলাকার অর্ধশতাধিক কৃষকের সেচ সংকট দূরীকরণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। এতে কৃষকরা বেজায় খুশি। জারুলতলা গ্রামের শতাধিক কৃষক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ভুঁইয়া’র প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।




