‘শিল্পে মননে মুক্তিযুদ্ধ’ এ স্লোগানে আজ শুরু হচ্ছে ৫ দিনব্যাপী ‘তৃতীয় জাতীয় ক্যাম্পাস থিয়েটার উত্তর- ২০২৩’। ৯ মার্চ বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় ওই উৎসবের উদ্বোধন করবেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহা-পরিচালক লিয়াকত আলী লাকি। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন নৌ-প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।
সরকারি বাঙলা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ফেরদৌসী খানের সভাপতিত্বে উদ্বোধন অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখবেন ক্যাম্পাস থিয়েটার আন্দোলনের সভাপতিড. কামাল উদ্দিন শামীম, আহবায়ক হাবিব তাড়াশী। উদ্বোধনী পর্বে একাডেমির সাংস্কৃতিক দল এবং ক্যাম্পাস থিয়েটারের সাংস্কৃতিক দলের অংশগ্রহণে রয়েছে মনজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশন। তারপরই রয়েছে নাটক ‘মুজিব মানে মুক্তি’, ‘কবর’ এবং ‘দ্যা ম্যাম ফর্ম আর্থ’

জানা যায়, ৫০টি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ও উৎসব চলবে (৯-১৩) মার্চ পর্যন্ত। প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় সংগীত ও নৃত্যকলা কেন্দ্র মিলনায়তনে বিভিন্ন ক্যাম্পাস থিয়েটারের পরিবেশনায় নাটক প্রদর্শিত হবে। শিক্ষার্থীদের নাটক দেখতে কোন প্রবেশ মূল্য লাগবে না।
ক্যাম্পাস থিয়েটার আন্দোলনে দেশব্যাপী নাট্য কর্মশালা ও সাংগঠনিক শিল্পযাত্রা কর্মসূচির আওতায় আহবায়ক খান তুহিন সাজ্জাদ এবং সদস্য সচিব মাসুদ রানার তত্ত্বাবধানে রয়েছে ১৫ জনের একটা কর্মশালার টিম। তারা সারাদেশে ক্যাম্পাস থিয়েটার গঠন, নাটক নির্মাণ এবং প্রদর্শনের ভিত্তি তৈরি করেন। দ্বিতীয় স্তরে রয়েছে, পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ড. মাহফুজা হেলালী এবং সমন্বয়কারী আল জাবিরের সমন্বয়ে ৭ সদস্য বিশিষ্ট জুরি বোর্ড। তারা প্রযোজনা পর্যবেক্ষণ এবং মূল্যায়নের ভিত্তিতে উৎসবের দল নির্ধারণ করেন। এবারের নাটকগুলোতে বিষয় হিসেবে প্রাধান্য পাচ্ছে বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ পাঠ সাহিত্য এবং সমকালীন বিশ্ব। এসব নিয়ে উৎসব সমাপনীতে একটি স্বরনিকা প্রকাশ পাবে।

জানতে চাইলে উৎসব আহবায়ক ও ক্যাম্পাস থিয়েটার আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক নাট্যকার- নির্দেশক-অভিনেতা হাবিব তাড়াশী গণমাধ্যমকে বলেন, প্রতি বছর ২০ জন অসমর্থ শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মীদের অর্থসহায়তা প্রদান এবং নাট্যকর্মীদের একাডেমিক অধ্যায়নকালে সাময়িক আবাসন ও উপার্জনের বান্দোবস্ত করার লক্ষ্যে কাজ করে আসছে ক্যাম্পাস থিয়েটার আন্দোলন। একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও শিল্পের আলোয় সৃজনশীল মানবিক করে তোলার প্রত্যয়ে ক্যাম্পাসভিত্তিক শুধু সংস্কৃতি ও নাট্যচর্চা কেন্দ্রই ক্যাম্পাস থিয়েটার। ১৮টি ক্যাম্পাস থিয়েটার নিয়ে আমরা প্রথম জাতীয় ক্যাম্পাস থিয়েটার উৎসব করি ২০১৮তে। দ্বিতীয় জাতীয় ক্যাম্পাস থিয়েটার উৎসব করি ২০২০-এ। তিনি আরও বলেন, আমরা ক্যাম্পাস থিয়েটার পরিবার একে অপরের পরিপূরক। তবে করোনার আমরা ২০০ জনের অধিক শিক্ষার্থীকে উৎসাহ উপহার দিতে পেরেছি। সিলেটের বন্যাদুর্গতদের মাঝে ৩০০টির অধিক পরিবারকে বস্ত্র, ওষুধ ও খাদ্য সামগ্রী তুলে দিয়েছি। পাশাপাশি আমাদের ইউনিটে রয়েছে ‘ব্লাড আর্কাইভ যেখান থেকে আমরা রক্তের প্রয়োজন হলে ভূমিকা রাখি।




