তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেছেন, খালেদা জিয়ার ভুল সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ ১০০ বছর পিছিয়েছে। ১৯৯২ সালে বাংলাদেশ বিনামূল্যে সাবমেরিন ক্যাবলে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পেয়েছিলো। অর্থ্যাৎ আজ যে উচ্চ গতির ইন্টারনেট ও সেবা আওয়ামীলীগ সরকার গ্রামে গ্রামে পৌছে দিচ্ছে, তা আরোও ৩০ বছর আগেই করা সম্ভব ছিলো। কিন্তু খালেদা জিয়ার ভুল সিদ্ধান্তে আমাদের প্রযুক্তির এই সম্ভাবনা অন্ধকারে চলে গিয়েছিলো। একজন প্রধানমন্ত্রী অদূরদর্শী হলে একটি দেশ ও জাতির কতটা ক্ষতি হয় তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ খালেদা জিয়ার সেই ভুল সিদ্ধান্ত। জ্ঞানের অভাব, শিক্ষার অভাব আর দূরদর্শীতার অভাবেই দেশ পিছিয়েছে ১০০ বছর।

বৃহস্পতিবার দুপুরে শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে ”স্মার্ট বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় ডিজিটাল সংযোগ স্থাপন (ইডিসি) প্রকল্পের ভূমিকা ” শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী পলক বলেন, ২০১৪ সালে আগুন সন্ত্রাস করেছে দেশ বিরোধী চক্রান্তকারীরা। দেশদ্রোহী রাজাকারদের বাঁচানো জন্য, একই রকমভাবে সেই সকল সন্ত্রাসও শেখ হাসিনা সরকার ধৈর্যের সাথে মোকাবেলা করেছে। বর্তমানে করোনা পরিস্থিতির পরে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ফলে যে অর্থনৈতিক মন্দা তৈরি হয়েছে এই সংকট মোকাবিলার জন্যও আওয়ামী লীগ সরকারকেই প্রয়োজন। তাই শেখ হাসিনার বিকল্প চিন্তা কেউ করে না। আওয়ামী লীগ সরকার ধৈর্য ও সাহসিকতার সাথে সবকিছু মোকাবিলা করছে।

এসময় সেমিনারে জেলা প্রশাসক সাহেলা আক্তারের সভাপতিত্বে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ইডিসি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. খন্দকার আজিজুল ইসলাম, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোস্তফা কামাল, পুলিশ সুপার কামরুজ্জামান বিপিএম, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোকছেদুর রহমান লেবু, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) হেলেনা পারভীন, উপজেলা আওয়ামীলোগের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা জিয়াউল হোসেন, সাধারন সম্পাদক ফজলুল হক প্রমুখ।
এর আগে সকালে প্রতিমন্ত্রী পলক উপজেলার কাকরকান্দি গ্রামে গারো সম্প্রদায়ের মেয়ে ফ্রিল্যান্সার তৃষ্ণা দিও এর সেন্টার পরিদর্শন করেন এবং তৃষ্ণার বাড়িতে উচ্চ গতির ইন্টারনেট সংযোগ স্থাপন করে তাকে একটি ল্যাপটপ উপহার দেন। পরে নালিতাবাড়ী উপজেলা পরিষদে দেশের প্রথম ”জয় D-SET CENTER ” এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
এসময় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে পলক বলেন, ১৩ বছর আগে বাংলাদেশ ছিলো অন্ধকার, পিছিয়ে পড়া ও দরিদ্র বাংলাদেশ। আর ১৩ বছরের মধ্যে এই বাংলাদেশ এখন শিক্ষার আলোয় আলোকিত, বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত, প্রযুক্তিতে উন্নত। এক্ষেত্রে আমরা অনেক ধাপ আমরা এগিয়ে এসেছি। যদি ২০৪১ সাল নাগাদ প্রধানমন্ত্রীর ভিশন আমরা বাস্তবায়ন চলমান রাখতে পারি, তাহলে বাংলাদেশ হবে উন্নত দেশ।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সবাইতো সারাজীবন এমপি, মন্ত্রী থাকে না, পৃথিবীতে বেঁচেও কেউ থাকে না, সব কিছুরই একটা শেষ আছে। যদি কখনো মন্ত্রিত্ব, সংসদ সদস্য না থাকি অবসরে ফ্রিল্যান্সার হবো।




