ads

বৃহস্পতিবার , ৭ এপ্রিল ২০২২ | ১৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

মেয়াদ শেষে জেলা পরিষদে বসবে প্রশাসক : সংসদে বিল পাস

শ্যামলবাংলা ডেস্ক
এপ্রিল ৭, ২০২২ ২:৩১ অপরাহ্ণ

মেয়াদ শেষ হলে জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগের বিধান যুক্ত করে ‘জেলা পরিষদ (সংশোধন) বিল-২০২২’ পাস হয়েছে। ৬ এপ্রিল বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বিলটি পাসের প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।

Shamol Bangla Ads

স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অধিবেশনে বিলটি পাসের আগে বিলের ওপর দেয়া জনমত যাচাই ও বাছাই কমিটিতে প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা। জেলা পরিষদে অনির্বাচিতদের বসানোর বিধানের কঠোর সমালোচনা করে তাঁরা বলেন, প্রশাসক নিয়োগের বিধান সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বিরোধী দলের প্রস্তাবগুলো কণ্ঠভোটে নাকচ হওয়ার পর বিলের ওপর সংশোধনী প্রস্তাবগুলোর নিষ্পত্তি করা হয়।

বিদ্যমান আইনে প্রতিজেলায় ১৫ সাধারণ সদস্য এবং ৫ সংরক্ষিত মহিলা সদস্য থাকার বিধান রয়েছে। এটি সংশোধন করে প্রত্যেক উপজেলায় (জেলার মোট উপজেলার সমসংখ্যক) একজন করে সদস্য এবং চেয়ারম্যানসহ সদস্যদের মোট সংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ (নিকটবর্তী পূর্ণসংখ্যা) ও কমপক্ষে দুই জন নারী সদস্য নিয়ে জেলা পরিষদ গঠনের কথা বলা হয়েছে। এই আইনে নির্বাচন কমিশনকে ভোটার তালিকা তৈরির কথা বলা হলেও পাস হওয়া বিলে তা বাদ দেয়া হয়েছে।

Shamol Bangla Ads

বিদ্যমান আইনে কেবল নতুন জেলা পরিষদ গঠনের ক্ষেত্রে প্রশাসক নিয়োগের বিধান থাকলেও চলমান কোন পরিষদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর প্রশাসক নিয়োগের বিধান নেই। বিলে জেলা পরিষদের মেয়াদ শেষ হলে প্রশাসক নিয়োগের সুযোগ যুক্ত করা হয়েছে। বিদ্যমান আইনে ৮২ নম্বর ধারা সংশোধন করে বলা হয়েছে- এতে কোন জেলা পরিষদের মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে এবং পরবর্তী পরিষদ গঠিত না হওয়া পর্যন্ত পরিষদের কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য সরকার একজন উপযুক্ত ব্যক্তিকে বা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত কোন কর্মকর্তাকে প্রশাসক নিয়োগ করতে পারবে। প্রশাসকের মেয়াদ ও অব্যাহতি সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হবে।

মন্ত্রীর প্রস্তাব করা বিলে প্রশাসকের মেয়াদ ছিল না। তবে মন্ত্রী একটি সংশোধনী গ্রহণ করায় এখন প্রশাসকের মেয়াদ ১৮০ দিনের বেশি হবে না। একইসঙ্গে একাধিকবার কেউ প্রশাসক থাকতে পারবেন না বলেও বিধান রাখা হয়েছে।

বিলে নতুন উপধারা যুক্ত করে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট প্রত্যেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সদস্য হিসেবে পরিষদের সভায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন বলে বলা হয়েছে। তবে তাদের ভোটাধিকার থাকবে না। বিলে জেলা পরিষদের কার্যক্রম সরকারের নিবিড় পর্যবেক্ষণে আনা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইনের ৩৭ ধারার পর ৩৭-ক যুক্ত করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে- পরিষদ প্রতি অর্থবছর শেষে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে সরকারের কাছে সম্পাদিত কার্যাবলীর ওপর একটি বার্ষিক প্রতিবেদন দাখিল করবে। বিলে বিদ্যমান আইনের কর্মকর্তাদের পদবির পরিবর্তন করা হয়েছে। এক্ষেত্রে ‘একজন সচিব’ শব্দগুলোর পরিবর্তে ‘সিনিয়র সহকারী সচিব’ পদমর্যাদার একজন নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যবহারের বিধান রাখা হয়েছে।

পাস হওয়া বিলে প্রশাসক নিয়োগের বিধানের বিরোধিতা করেছেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। জাতীয় পার্টির পীর ফজলুর রহমান বলেন, প্রশাসক নিয়োগের বিধান সংবিধানের মূল চেতনার সঙ্গে বিরোধী। বিএনপির মোঃ হারুনুর রশীদ বলেন, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের নিয়োগ দেয়ার জন্য প্রশাসকের বিধান রাখা হয়েছে। উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ আছে। জেলা পরিষদের কাজ কী? এটা দুর্নীতির আখড়া। এর কাজ কী? এ আইনটি ত্রুটিপূর্ণ। যারা সদস্য হবেন তাদের কাজ কী? বিলটি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, সরকার যদি চায় জেলা পরিষদকে কার্যকর প্রতিষ্ঠান করতে চাইলে নতুন করে আইন আনতে হবে।

গণফোরামের মোকাব্বির খানও বিলটিকে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মত দেন। জাপার ফখরুল ইমাম বলেন, এই বিল পাস হওয়ার আগেই বাতিল হয়ে যেতে পারে। সংবিধানের ১১ অনুচ্ছেদ যদি আমলে নেয়া হয় তাহলে এটা বাতিল হয়ে যাবে। জাপা মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু প্রশ্ন তোলেন, জেলা পরিষদের কাজ কী তা আইনে বলা নেই। এ সংগঠনকে শক্তিশালী করারও দাবি জানান তিনি। জাপার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, নির্বাচিত প্রতিনিধি ছাড়া একদিনও রাখা ঠিক হবে না। সংবিধানে বলা আছে, নির্বাচিত প্রতিনিধি ছাড়া কর আরোপ করা যাবে না। তাহলে ভোট না করে কেন প্রশাসক থাকবে?

জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, সরকার সবসময় জনপ্রতিনিধিদের গুরুত্ব দেয়। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী করতে সরকার কাজ করছে। তিনি বলেন, এই আইনের মাধ্যমে জেলা পরিষদের সঙ্গে পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদের সংযোগ ও কাজের সমন্বয় ঘটবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, পৌরসভা বিল পাসের সময় বলেছিলাম, সব পৌরসভায় প্রশাসক নিয়োগ হয় না। অনেকে মেয়াদ শেষ করার পরে একটা মামলা করেন। ২০ বছর ধরে বসে থাকেন। সেটা যাতে না হয়, সেজন্য প্রশাসক নিয়োগ। এটা থাকলে কারো মামলা করার ইনটেনশন হবে না বলে তিনি জানান।

আলোচনাকালে মন্ত্রী বলেন, জেলা পরিষদগুলোকে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করার জন্য জেলা পরিষদ এবং সংশ্লিষ্ট জেলার সব উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সিটি কর্পোরেশনের মধ্যে আন্তঃসমন্বয় সুসংহত করা প্রয়োজন।

Need Ads
error: কপি হবে না!