ইউক্রেনে রুশ হামলার মধ্যেই দেশটির প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের জন্য রাজধানী কিয়েভে পৌঁছেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের পূর্ব ইউরোপের ৩ দেশ পোল্যান্ড, চেক রিপাবলিক ও স্লোভেনিয়ার প্রধানমন্ত্রীরা। পোল্যান্ড থেকে ট্রেনে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৫ মার্চ) সন্ধ্যায় কিয়েভ পৌঁছান তারা। ৩ সপ্তাহ আগে ইউক্রেনে রুশ সামরিক হামলা শুরুর পর এই প্রথম কোনো বিদেশি নেতারা দেশটি সফর করছেন।

এর আগে চেক প্রধানমন্ত্রী পিটার ফিয়ালা এবং পোল্যান্ডের মাতিউস মোরাভিয়েস্কি এই সফরের ঘোষণা দিয়ে বলেন, স্লোভেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী ইয়ানেস ইয়ানশা এবং তারা দু’জন কিয়েভে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সঙ্গে দেখা করবেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের অফিস থেকেও এই সফরের কথা নিশ্চিত করা হয়। খবর বিবিসি।
তাদের এই সফর এমন এক সময় হচ্ছে যখন কিয়েভের শহরতলীতে গত কয়েকদিন ধরে রুশ সৈন্যদের সঙ্গে ইউক্রেনের সৈন্যদের লড়াই চলছে।

এদিকে, ৩ ইউরোপীয় নেতার এমন সাহসের প্রশংসা করেছে ইউক্রেন। এই সফরে পোল্যান্ড থেকে কিয়েভ পর্যন্ত দীর্ঘ রেলপথ পাড়ি দিতে ৩ প্রধানমন্ত্রী বেশ বড় ধরনের ঝুঁকি নেন। কারণ ইউক্রেন মোটেও নিরাপদ দেশ নয়। রাজধানী কিয়েভসহ সারা দেশেই রাশিয়া আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করার পর এই সফরটি ছিল পোলিশ ধারণা।
পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, কিয়েভেই ইতিহাস তৈরি হচ্ছে। এক টুইট বার্তায় তিনি লিখেন, ‘এখানেই, স্বাধীনতা অত্যাচারের বিশ্বের বিরুদ্ধে লড়াই করে। এখানেই আমাদের সবার ভবিষ্যৎ ভারসাম্যের মধ্যে ঝুলে আছে’। সফরের ব্যাখ্যায় তিনি লিখেছেন, ‘তারা এই বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন যে ইউক্রেন তার বন্ধুদের সাহায্যের ওপর নির্ভর করতে পারে। ’
তবে যুদ্ধ বন্ধে চলতি আপোষ মীমাংসার অংশ হিসেবে এই তিন ইউরোপীয় নেতার সফর কিনা তা পরিষ্কার নয়। অন্যদিকে, এই যুদ্ধাবস্থার মধ্যে বিদেশি তিন নেতার যাত্রাপথে এবং কিয়েভে তাদের অবস্থানের সময় নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা হচ্ছে – সেটাও পরিষ্কার করা হয়নি। আর রাশিয়ার পক্ষ থেকেও তিন ইইউ নেতার এই সফর নিয়ে কিছু জানা যায়নি।
এদিকে, চেক রিপাবলিকের প্রধানমন্ত্রী ‘ইউক্রেনের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্বের প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের পূর্ণ সমর্থন এই সফরের উদ্দেশ্য’ মন্তব্য করে বলেছেন, কিয়েভ সফরে ইউক্রেনের জন্য ইইউর পক্ষ থেকে একটি সহযোগিতা প্যাকেজের প্রস্তাব প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিকে দেওয়া হবে।
পোলিশ প্রধানমন্ত্রীর একজন মুখপাত্রকে উদ্ধৃত করে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে এই তিন ইউরোপীয় নেতা পোল্যান্ড এবং ইউক্রেনের সীমান্ত অতিক্রম করেছেন এবং ট্রেনে চড়ে কিয়েভের দিকে রওয়ানা হয়েছেন। তিনি সপ্তাহ পর কিয়েভসহ ইউক্রেনের বড় ১০টি শহরের কোনোটিই এখনও রাশিয়ার সৈন্যরা নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেনি।
উল্লেখ্য, রুশ হামলার পর প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি রাশিয়ার কাছে আত্মসমর্পণ করতে অস্বীকার করেন। রাজধানী ছেড়েও তিনি যাননি। এখন কিয়েভে বসে বিদেশি ৩ নেতার সঙ্গে বৈঠক করার ঘটনা প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির জন্য একটি প্রতীকী সাফল্য হিসেবেই দেখা হবে।




