শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে রূপা আক্তার (২২) নামে এক সন্তানের জননী গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ১১ মার্চ শুক্রবার সকালে উপজেলার কাংশা ইউনিয়নের পশ্চিম বাকাকুড়া গ্রামে ওই ঘটনা ঘটে। রূপা স্থানীয় নুর শাহীনের স্ত্রী ও ঝিনাইগাতী আদর্শ মহিলা ডিগ্রি কলেজের ডিগ্রি পরীক্ষার্থী ছিল। এদিকে ঘটনার পর থেকেই গা ঢাকা দিয়েছে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন। রূপার পরিবারের দাবি, তাকে হত্যা করা হয়েছে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ৩ বছর পূর্বে সম্পর্কের সূত্রে শাহীনের সাথে রূপা আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই রূপা আক্তারের উপর নেমে আসে স্বামী-শ্বাশুড়িসহ শ্বশুর বাড়ির লোকজনের শারীরিক ও মানুষিক নির্যাতন। সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে অমানষিক নির্যাতন সহ্য করেও স্বামীর সংসার করে আসছিল রূপা আক্তার। রূপার স্বামী নুর শাহীন একজন অটোরিকশা চালক। সংসারের হাল ধরতে রূপা আক্তার নিজেও শ্রমিকের কাজ করতো। পাশাপাশি পিতার দেয়া অর্থে রূপা আক্তার পড়াশোনাও চালিয়ে আসছিল।
শুক্রবার সকালে রূপা আক্তারের গৃহপালিত একটি ছাগল শ্বাশুড়ি নুরেজা বেগমের কাঁঠাল গাছের একটি চারা খেয়ে ফেলে। এ নিয়ে বউ-শ্বাশুড়ির মধ্যে ঝগড়া বিবাদের সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে রুপা আক্তার ঘরের আড়ার সাথে গলায় উড়না পেচিয়ে আত্মহত্যা করে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ রূপা আক্তারের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শেরপুর জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। ওই ঘটনার পর থেকে রূপা আক্তারের শ্বশুর বাড়ির লোকজন পলাতক রয়েছে। রূপা আক্তারের পিতা আব্দুল ওয়াহাব ও তার পরিবারের দাবি, রূপা ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেনি। তাকে হত্যা করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) তদন্ত মো. সরোয়ার হোসেন বলেন, লাশের শরীরে আঘাত অন্য কোন চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।




