• সোমবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২২, ০৪:৪৭ অপরাহ্ন
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত নিউজপোর্টাল

বাকৃবি বোটানিক্যাল গার্ডেনে নানা বিরল প্রজাতির ৭ হাজার গাছের সংগ্রহশালা

প্রকাশকাল : বৃহস্পতিবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২২

দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি)। উপহমাদেশের দীর্ঘতম পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের কোল ঘেঁষে ময়মনসিংহ নগরীর এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫ একর জায়গা নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে ৭ হাজার গাছের বোটানিক্যাল গার্ডেন। এখানে রয়েছে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন অঞ্চলের বিরল ও বিলুপ্তপ্রায় কয়েক হাজার উদ্ভিদের বিশাল সংগ্রহশালা। দেশি প্রায় সব প্রজাতির উদ্ভিদের পাশাপাশি বিদেশি অনেক বিরল প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে।

Shamol Bangla Ads

ছোট-বড়-মাঝারি ধরনের অসংখ্য গাছে ভরপুর গার্ডেনে রয়েছে ৬০০ প্রজাতির প্রায় ১০০০টি বড়, ১২৭৮টি মাঝারি ও ৪৪৬৭টি ছোটসহ প্রায় সাত হাজার গাছ। আন্তর্জাতিক সংস্থা বোটানিক গার্ডেনস কনজারভেশন ইন্টারন্যাশনালের (বিজিসিআই) স্বীকৃতিপ্রাপ্ত বাংলাদেশের প্রথম বোটানিক্যাল গার্ডেন এটি। তাই এ গার্ডেনটিকে একনজর দেখতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিদিন শতশত মানুষ ছুটে আসেন। যা বিমোহিত করে দর্শনার্থীদের।
বাগানের প্রধান দায়িত্বে রয়েছেন একজন কিউরেটর। বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের ফসল উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষকদের মধ্য থেকে একজন গার্ডেনের কিউরেটরের দায়িত্ব পান। তার তত্ত্বাবধানেই পরিচালিত হয় গার্ডেনটি। বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহানারাবেগম। শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্রি হলেও দর্শনার্থীদের জন্য জনপ্রতি টিকিট মূল্য ১০ টাকা। বিভিন্ন প্রজাতির গাছ গাছালি সহজে খুঁজে পাওয়ার জন্য উদ্ভিদরাজি সমন্বয়ে গঠিত গার্ডেনটিকে ৩০টি জোনে বিভক্ত করা হয়েছে। ঔষধি, ফুল, ফল, ক্যাকটাস, অর্কিড, পাম, সাইকাস, মসলা, টিম্বার, বাঁশ, বেত, বিরল উদ্ভিদ ও বনজ উদ্ভিদ জোনসহ জলজ উদ্ভিদ (হাইড্রোফাইটিক) সংরক্ষণের জন্য ওয়াটার গার্ডেন, মরুভূমি ও পাথুরে অঞ্চলের উদ্ভিদ সংরক্ষণের জন্য রক গার্ডেন গড়ে তোলা হয়েছে। নিসর্গ ভবনের ভেতরে রয়েছে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত
থেকে সংগৃহীত বিরল ও বিলুপ্তপ্রায় অসংখ্য প্রজাতির ক্যাকটাস। এর অপরূপ সৌন্দর্যই যেন নিসর্গ নামের সার্থকতা বহন করছে। বাগানে রয়েছে মনোরম অর্কিড হাউস।

নগ্নবীজি উদ্ভিদ-১ ও পাম বাগান জোন : এই জোনে মনিরাম, সাইকাডস, ডাইগুন, জ্যামিয়া, এনসেফালটরসসহ ১২ প্রজাতির নগ্নবীজি উদ্ভিদ এবং তালিপাম, সাগুপাম, বনগুয়া, চায়নাপামসহ ৩২ প্রজাতির পাম জাতীয় উদ্ভিদ সংরক্ষণ করা হচ্ছে।
নগ্নবীজি উদ্ভিদ বাগান-২ : অরোউকোরিয়া, থুঁজা, ঝাউ, পাইন, পডোকার্পাস, জুনিপেরাস ঝাউগাছসহ ১০ প্রজাতির উদ্ভিদ এই জোনে সংরক্ষণ করা হচ্ছে।
চা ও কফি বাগান : এখানে বিটি ১, বিটি ২, বিটি ৩, বিটি ৭, টিভি ১, টিভি ৫ সহ বিভিন্ন চায়ের জাতের সংরক্ষণ এখানে রয়েছে।

Shamol Bangla Ads

সুন্দরবন জোন: সুন্দরবনের গাছের জন্যে যেমন পরিবেশ প্রয়োজন ঠিক তেমন করেই এখানে গড়ে তোলা হয়েছে ব্যাতিক্রমধর্মী সুন্দরবন জোন। যা বাংলাদেশে প্রথম ও একমাত্র। শ্বাসমূল (নিউমেটাফোর) ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদসমূহের অন্যতম বৈশিষ্ট্য, যা এখানে সংরক্ষিত।
ঔষধি গাছের জোন : অশ্বগন্ধা, সর্পগন্ধা, গন্ধভাদুলি, পুনর্নভা, কুর্চি, বচ, উলটচন্ডাল, অন্তমূল, অঞ্জন প্রভৃতি ঔষধি গাছ এখানে স্থান পেয়েছে। এছাড়া আরো নানান রকমের ঔষধি গাছ আছে এখানে। এছাড়া রয়েছে বিদেশি, দেশি ফুল ও ফলের গাছ। কমব্রিটাম, রনডেলেসিয়া, পালাম, ক্যামেলিয়া, আফ্রিকান টিউলিপ, ট্যাবেবুঁইয়া, রাইবেলি, জেসিয়া, ডায়ান্থাস, সিলভিয়া, হৈমন্তি বিভিন্ন ধরণের ফুলগাছ এবং স্টার আপেল, আমেরিকান পেয়ারা, থাই মালটা, আঙুর, প্যাসান ফলসহ বিভিন্ন ধরনের মৌসুমি ফলের গাছ এখানে সংরক্ষিত রয়েছে। এছাড়াও বাঁশ বাগানে রয়েছে ১৬ প্রজাতির বাঁশ, মসলা জোনে রয়েছে একশ’র বেশি মসলা জাতীয় উদ্ভিদ।

নাগলিঙ্গম: নাগলিঙ্গম একটি অপরিচিত বৃক্ষ। গাছের গোড়া ফুঁড়ে বের হওয়া লম্বা লতার মতো শাখায় ছোট ছোট হাজারো কুঁড়ি। কুঁড়ি থেকে টকটকে লাল পলাশ কিংবা শিমুলের মতো ফুল মুখ বের করে আছে আকাশের পানে। এর আদি নিবাস মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার গভীর বনাঞ্চলে। গাছের গোড়ায় বেলের মতো শতশত ফল হয়।
বিরল উদ্ভিদের সংগ্রহশালা: কনজারভেটিভ উপায়ে সংরক্ষণ করা হয়েছে বেশ কিছু বিলুপ্ত উদ্ভিদ। এসব উদ্ভিদের মধ্যে এমন কিছু উদ্ভিদ আছে, যা কেবল এ গার্ডেনেই দেখা যায়। বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদের মধ্যে রয়েছে— রাজ-অশোক, ডেফল, কালাবাউস, ক্যারিলিম্ফ, ফলসা, মনহোটা, মাক্কি, পেয়ালা, বনভুবি, লোহাকাট, উদাল, পানবিলাস, পেল্টোফোরামসহ বিভিন্ন উদ্ভিদ।

পট হাউস: বিরল প্রজাতির হার্ব জাতীয় ওষুধি ও সুগন্ধি জাতীয় উদ্ভিদ সংরক্ষণের জন্য রয়েছে পট হাউস। এখানকার ওষুধি জোনে রয়েছে অর্ধশতাধিক প্রজাতির ওষুধি উদ্ভিদ। এর মধ্যে রয়েছে আপাং, পেটারি, বাসক, উচান্টি, ঈশ্বরমূল, রইনা, দাঁদমর্দন, হুরহুরিয়া, মূতা, কালাহুজা, অতশি, স্বর্ণলতা প্রভৃতি।
ক্যাকটাস-সাকুলেন্ট হাউস: ২০১০ সালে এখানে নির্মিত হয় একটি ক্যাকটাস হাউস। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সংগৃহীত বিরল ও বিলুপ্তপ্রায় ৬০ এর অধিক প্রজাতির ক্যাকটাস নিয়ে সাজানো হয়েছে হাউসটি। এছাড়া এখানে রয়েছে একটি নার্সারি। শোভা বর্ধনকারী, অর্কিড, ক্যাকটাস, দেশীয় বিলুপ্ত প্রায় প্রজাতিসহ বিভিন্ন ফুলগাছের চারা এখান থেকে ক্রয়ের সুবিধা রয়েছে।
গবেষণা কার্যক্রম : বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও সম্প্রসারণ কার্যক্রম, স্নাতক পর্যায়ে বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষার্থীদের উদ্ভিদ জগৎ সম্পর্কে ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জন এবং মাস্টার্স ও পিএইচডি শিক্ষার্থীদের গবেষণা কার্যক্রমে বিভিন্নভাবে সহায়তা দিয়ে আসছে এই বোটানিক্যাল গার্ডেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থীকে পরিচিত করানো হয় বাগানের সঙ্গে। ব্যবহারিক ক্লাসে উদ্ভিদ চেনার জন্য এখানে আসতে হয় শিক্ষার্থীদের। পরীক্ষার সময় উদ্ভিদ তথা উদ্ভিদের পাতা, ফুল, ফল, বীজ শনাক্তকরণের ওপর নম্বর রয়েছে।

Shamol Bangla Ads

এই বিভাগের আরও খবর
Shamol Bangla Ads

error: কপি হবে না!
error: কপি হবে না!