ময়মনসিংহে হিজড়া সম্প্রদায়ের হাত থেকে পথচারী ও যাত্রী সাধারণকে রক্ষা করতে হিজরাদের সাথে মতবিনিময় সভা করেছে কোতোয়ালী পুলিশ। ২৭ সেপ্টেম্বর সোমবার দুপুরে কোতোয়ালী মডেল থানায় এই সভা হয়।

জানা যায়, ময়মনসিংহ নগরীর রেলওয়ে স্টেশন, পাটগুদাম বাসস্ট্যান্ড, মাসকান্দা বাসস্ট্যান্ড, টাঙ্গাইল বাসস্ট্যান্ড, দিঘারকান্দা বাইপাস মোড়, আকুয়া বাইপাস মোড়, শম্ভুগঞ্জ বাজার তিন রাস্তার মোড়সহ বিভিন্ন রাস্তাঘাটে হিজড়া সম্প্রদায় দীর্ঘদিন যাবত পথচারী ও যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের কৌশল হিসেবে হয়রানী করে আসছে। অনেকক্ষেত্রে এসব হিজড়া সম্প্রদায়ের সদস্যরা তাদের চাহিদামত টাকা না পাওয়ায় নিজেরা নানা অশালীন অঙ্গভঙ্গি করে পথচারী ও যাত্রীদের অপমান-অপদস্থ করার অভিযোগ রয়েছে। যাত্রী ও পথচারীদের মতে, হিজড়া সম্প্রদায়ের সদস্যরা সুযোগবুঝে বেশি টাকা দাবি করে। যাত্রীদের সাথে তাদের মা, বোন, স্ত্রী-কন্যা কিংবা ছেলে থাকলে এই চক্রটি যাত্রীদেরকে বেশি অপদস্থ করে। তাদের মতে, পুরুষ যাত্রী যেন তার সম্মান বাচাতে হিজড়াদের চাহিদা পূরণে বাধ্য হন। এজন্য পরিস্থিতি বুঝে তারা নিজেদের পরিধানের বা শরীরের কাপড় পর্যন্ত খুলে ফেলে। পুরুষ যাত্রী উপায়ন্তর না পেয়ে তাদের চাহিদা পূরণে বাধ্য হচ্ছেন। ময়মনসিংহে হিজড়াদের এই অত্যাচার দীর্ঘদিনের। বিভিন্ন সভা-সেমিনারে হিজরাদের এ ধরণের হয়রানীর বিষয়ে বহু আলোচনা হলেও কোন দায়িত্বশীল বিভাগ এগিয়ে আসেনি।
এ সময় হিজড়া নেতৃবৃন্দ দাবি করেন, আমাদের কর্মের কোন সন্ধান নেই। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দপ্তর আমাদেরকে নানাভাবে আশ্বাস দেই। তবে আজও কোন আশ্বাস পুরণ হয়নি। জেলা প্রশাসনের সহযোগীতায় আমাদেরকে কিছু প্রশিক্ষণ দিয়ে সামান্য টাকা দেওয়া হয়েছে। তবে প্রশিক্ষণ পরবর্তী উপযুক্ত কর্মের উদ্যোগ নেয়া হয়নি।

কোতোয়ালী মডেল থানার নবাগত ওসি শাহ কামাল আকন্দ হিজড়াদের অত্যাচার, হয়রানী পথচারী যাত্রীদের অপদস্থের বিষয়টি নানাভাবে জেনে সোমবার হিজরাদের সাথে থানায় মতবিনিময় করেন। এ সময় হিজরাদের উদ্দেশ্যে ওসি শাহ কামাল আকন্দ বলেন, তোমাদের বিরুদ্ধে পথচারী ও যাত্রীদের হয়রানী এবং তাদেরকে অপদস্থ করার করার অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। তোমরা রাস্তাঘাটে মানুষদেরকে এভাবে হয়রানী করবে না। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে তোমাদের জন্য একটি উপযুক্ত পদক্ষেপ নেব। এছাড়া তোমাদের জন্য আমরা দরজা সব সময় খোলা থাকবে।




