ময়মনসিংহ নগরীর প্রথম পাইপ ড্রেনটি সুষ্ঠু রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে। ১৯ নং ওয়ার্ড ভাটিকাশর-বলাশপুর এলাকার প্রায় সবটুকু পানি নিষ্কাশনের একমাত্র পথ মাসকান্দা পলিটেকনিক মোড়ে পাইন ড্রেনের মোহনায় ময়লা-আবর্জনায় পানি সরবরাহ পুরোপুরি আটকে গেছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতে অর্ধ সহস্রাধিক বাড়ি-ঘরে কয়েকদিন জলমগ্ন হয়ে পড়ে নাগরিকরা দুর্ভোগের শিকার হন। অবিলম্বে এসব পাইপ ড্রেনগুলোর ময়লা-আবর্জনা তুলে পরিষ্কার করে জনদুর্ভোগ লাঘবের ব্যাপারে আশ^াস দিয়ে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন (মসিক) মেয়র মোঃ ইকরামুল হক টিটু বলেন, এলাকাবাসীকে ড্রেনে ময়লা-আবর্জনা, পলিথিন ও প্লাস্টিক সামগ্রী ফেলা বন্ধ করতে হবে। ড্রেন ব্যবহারে নাগরিকদের আরো সচেতন হতে হবে।
এলাকাবাসী ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আনোয়ার তালুকদার জানায়, পাইপ ড্রেন শুধু স্থাপন করলেই হবে না, নিয়মিত এর সুষ্ঠু রক্ষাণাবেক্ষণ করতে হবে। ঢাকা-ময়মনসিংহ চারলেন সড়ক নির্মাণের সময় সড়ক উচু করে ডালাই করে পাইপ ড্রেনের চেম্বারগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে অথচ তৎকালীন সংশ্লিষ্ট পৌর কর্তৃপক্ষ, এলাকার জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় লোকজন কেউ এর কোনো প্রতিবাদ করল না। এখন একেবারেই ড্রেনটির পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কর্তৃপক্ষের টনক নড়েছে। তা ছাড়া পাইপ ড্রেনে পানি প্রবেশ পথে লোহার খাঁচা দেয়ার জন্য স্থানীয় এলাকাবাসী সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে বার বার অনুরোধ করলেও কোনো কর্ণপাত করেনি। তাহলে এত ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না।
সাবেক ব্যাংকার শেখ ইলিয়াস জানান, একটি সংঘবদ্ধ চক্র ভাটিকাশর এলাকার প্রায় ৭০ ভাগ ম্যানহোলের ডাকনা চুরি করে নিয়ে গেছে। ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তায় হাটু পানি জমে যায়। ডাকনাবিহিন ওইসব ম্যানহোলের চেম্বারে পড়ে পথচারি ও রিকশা পড়ে দুর্ঘটনায় পতিত হয়ে মানুষ আহত হচ্ছেন। শক্ত করে ম্যানহোলের ঢাকনা প্রতিস্থাপন এবং ভাটিকাশর-বলাশপুর এলাকায় প্রধান প্রধান রাস্তাগুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য ভূক্তভোগী এলাকাবাসী মসিক মেয়রের কাছে মানবিক দাবী রেখেছেন।
সাবেক শিক্ষক মোঃ আব্দুল হালিম জানান, ভাটিকার এলাকা রাস্তাটি কয়েক বছর ধরে সংস্কার না করায় এখন ড্রেনের নীচে দেবে গিয়ে নীচু হয়ে পড়েছে রাস্তাটি। ফলে ড্রেনের পানি প্রায় প্রায় সারাবছরই রাস্তায় পানি জমে থাকে । সময়ের প্রয়োজনে এই এলাকার রাস্তাগুলে কমপক্ষে ফুট উচু করে ঢালাই করে টেকসই সড়ক নির্মাণের জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। এ ব্যাপারে সিটি মেয়রের তড়িৎ হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।

অধুণালুপ্ত ময়মনসিংহ পৌরসভা বিগত ২০১২ সালে ময়মনসিংহ শহরের ১৯নং ওয়ার্ডের ভাটিকাশর ও বলাশপুর এলাকার গৃহস্থালি, বৃষ্টিসহ সকল পানি নিষ্কাশনের জন্য ব্যয়বহুল পাইন ড্রেন নির্মাণ করা হয়। কেওয়াটখালি মোড় এবং আলীয়া মাদ্রাসা মোড় শুরু করে থেকে বলাশপুর ও ভাটিকাশরের বিভিন্ন শাখা প্রশাখায় এসব পাইপ ড্রেন স্থাপন করা হয়। যা মাসকান্দা পালিটেকনিক ইনস্টিটিউট মোড়ে মোহনা তৈরী করে একটি শাখা লাশ কাটা গেইটের উল্টোদিকে খালে পতিত করা হয় এবং অপরটি মাসকান্দা বাজার অতিক্রম করে আমিনুল ইসলাম তারা কমিশনারের বাড়ির কাছে খাল পর্যন্ত ড্রেন স্থাপন করা হয়।
এই ড্রেন স্থাপনের পর ঢাকা-ময়মসনসিংহ চারলেন সড়ক নির্মাণের সময় এসব পাইপ ড্রেনের চেম্বর গুলোর ভরাট করে ফেলা হয়। ফলে ওইসব চেম্বারগুলো দিয়ে প্রায় ১০ বছরেও ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা সম্ভব হয়নি। ফলে ময়লা-আবর্জনা, কাঁদা মাটি, ইটের খোয়া, প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিনসহ নানান আবর্জনা আটকে পাইপ ড্রেন ভরে গেছে। ফলে পানি প্রবাহের রাস্তাও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে।
নগরীর বলাশপুর এবং ভাটিকাশর এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে আটকেপড়া পাইপ ড্রেন পরিদর্শন করেছেন সিটির প্রধান প্রকৌমলী মোঃ রফিকুল ইসলাম মিঞা। এছাড়া গতকাল সরজমিনে পরিদর্শণ করেন মসিক প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো: আরিফুর রহমান, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মহাব্বত আলী, ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম, মসিক চীফ সুপারভাইজার রবিউল ইসলামসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। সরজমিনে পরিদর্শণে দেখা যায় যে, মাসকান্দা পালিটেকনিক ইনস্টিটিউট মোড়ে পাইপ ড্রেনের মোহনা একেবারে ভরে গেছে। প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়ে পানির রাস্তা আটকে আছে।

এসময় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মহাব্বত আলী, জানান, চারলেন সড়ক নির্মাণের ফলে ম্যানহোলের চেম্বারগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে এসব স্থানের পাইপ ড্রেন পরিষ্কার করা যায়নি। ফলে আস্তে আস্তে ময়লা-আবর্জনা, কাঁদা-মাটি ও প্লাস্টিক সামগ্রীর বর্জ্য আটকে পাইপ ড্রেন ভরে গেছে। যদিও এখন এসব ড্রেন ক্লিয়ার করা অনেক কষ্টের ব্যাপার। যত কষ্টই হোক যেকোনো মূল্যে এই পানি নিষ্কাশণ ব্যবস্থা পূণরায় চালু করার জন্য মসিক মেয়র মহোদয় নির্দেশ দিয়েছেন। মেয়র মহোদয়ের নির্দেশনা মোতাবেক আমরা কাজ করছি। খুব দ্রুতই আটকে পড়া পাইপ ড্রেনগুলোর ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করে ক্লিয়ার করে দিয়ে পূনরায় পানি প্রবাহ চালুর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা করে বলে আশ্বস্ত করেছেন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা।




