ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (মমেকহা) করোনা ইউনিটে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে ৭জন করোনায় এবং ৮ উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মমেকহা’য় করোনা রোগী ভর্তি ৪১১জন। এছাড়া বেসরকারি কমিউনিটি বেজড মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল বাংলাদেশ (সিবিএমসিবি করোনা ইউনিটে ভর্তি মোট ২০জন রোগী চিকিৎসাধীন। সিবিএমসিতে করোনা রোগীর জন্য অক্সিজেন সংকটের কারণে স্বজনরা অন্যত্র রোগী নিয়ে যাচ্ছে বলে হাসপাতাল সূত্র জানায়।

১০ আগস্ট মঙ্গলবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করে হাসপাতালের করোনা ইউনিটের মুখপাত্র ডা. মহিউদ্দিন খান মুন জানান, সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত করোনা ইউনিটে করোনায় মারা যাওয়া ৭জনের মধ্যে ময়মনসিংহের ৫জন ও নেত্রকোনা টাঙ্গাইলের ১জন করে রয়েছেন। তারা হলেন- ময়মনসিংহ সদরের ফেরদৌস আলম (৩৫), বড়বিলার জরিনা (৩৫), শম্ভুগঞ্জের আব্দুল কুদ্দুস (৮০), ঈশ্বরগঞ্জের জুলেখা (৮০), মুক্তাগাছার শাহ আলম (৪৫), নেত্রকোনা সদরের রইসুদ্দিন (৬৫), টাঙ্গাইল সদরের খুকী বেগম (৭০)।
এ ছাড়া ওই সময়ের মধ্যে করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ৮ জনের মধ্যে ময়মনসিংহের ৭জন, নেত্রকোনার ১জন রয়েছেন। তারা হলেন- ময়মনসসিংহ সদরের মিতু (১৫), রোজিনা খাতুন (৬৫), গফরগাঁওয়ের বেগম (৩৫), সেলিনা (৬০), সুফিয়া খাতুন (৫০) ও লুতফা (৫০) হালুয়াঘাটের রঞ্জনা রানী (৪০), নেত্রকোনার কেন্দুয়ার নার্গিস (৫০)। ডা. মহিউদ্দিন খান মুন আরও জানান, করোনা ইউনিটে বর্তমানে ৪১১ জন রোগী ভর্তি আছেন। এর মধ্যে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২১ রোগী। নতুন সনাক্ত ২১৩ ভর্তি হয়েছেন ৩১ জন ও সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪৬ জন।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় ময়মনসিংহ জেলায় ১ হাজার ৫৫টি নমুনা পরীক্ষা করে ১৮৮ জনের শরীরে করোনার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। শনাক্তের হার ১৭.৮১ শতাংশ এবং এর আগেরদিন ৯আগষ্ট ছিল ১৫.৯৩ শতাংশ বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম।
কমিউনিটি বেজড মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল বাংলাদেশ (সিবিএমসিবি) করোনা ইউনিটের মুখপাত্র ডাঃ খায়রুল ইসলাম সিজার জানান, ১০ আগষ্ট সকাল ৮টা পর্যন্ত সিবিএমসিবি করোনা ইউনিটে ভর্তি রোগী করোনায় ৯জন ও উপসর্গ নিয়ে ১১জনসহ মোট ২০ জন। তন্মধ্যে নতুন ভর্তি ৯জন ও সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ১০জন। সিবিএমসিবি সূত্র জানায়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে প্রতিদিন করোনা রোগীদের জন্য অক্সিজেন সরবরাহ দেয়ার কথা থাকলেও গতকালও প্রয়োজনীয় অক্সিজিন সিলিন্ডার সরবরাহ দেয়া হয়নি। ফলে কয়েকজন রোগী অক্সিজেন না পেয়ে অন্যত্র চলে গেছেন।




