ঝিনাইগাতী (শেরপুর) প্রতিনিধি ॥ অবশেষে কারাগারে যেতে হয়েছে শেরপুরের ঝিনাইগাতী সীমান্তের বহুল আলোচিত বালুদস্যু ছামিউল ফকিরকে (৬০)। ৩০ এপ্রিল মঙ্গলবার দুপুরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিনষ্ট করার অভিযোগে বনবিভাগের দায়ের করা মামলায় স্বেচ্ছায় হাজির জামিনের আবেদন জানালে বন আদালতের বিচারক (সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট) নাহিদ সুলতানা উভয় পক্ষের শুনানী শেষে আবেদন নাকচ করে তাকে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ছামিউল ফকির উপজেলা সদরের রামেরকুড়া এলাকার মৃত আফছার আলীর ফকিরের ছেলে। অন্যদিকে প্রভাবশালী ছামিউল ফকিরকে কারাগারে পাঠানোর ঘটনায় ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে।
জানা যায়, ছামিউল ফকির এলাকার প্রভাবশালীদের সহায়তায় দীর্ঘ প্রায় এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ঝিনাইগাতী উপজেলার সীমান্তবর্তী মহারশি নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছিলেন। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে মহারশি নদীসংলগ্ন গোমড়া মৌজার বন বিভাগের সামাজিক বন ধ্বংস ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিনষ্ট হয়ে আসলেও প্রভাবশালীদের তদবিরে এতদিন তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থাই নেওয়া হচ্ছিল না। থামছিল না তার দৌরাত্ম। বরং অব্যাহত বালু লুটপাটে দিন দিন তিনি কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। এ বিষয়ে খবর করায় স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলাসহ তাদের নানাভাবে হয়রানী করা হচ্ছিল। তারই ধারাবাহিতায় এবার সম্প্রতি বন বিভাগের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে অবৈধ বালু উত্তোলন ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিনষ্টের অভিযোগে মধুটিলা রেঞ্জের সন্ধ্যাকুড়া ফরেস্ট বিট কর্মকর্তা রাশেদ ইবনে সিরাজ বাদী হয়ে ছামিউল ফকিরসহ ৫ জনকে আসামী করে বন আদালতে মামলাটি দায়ের করেন।
এ ব্যাপারে শেরপুরের সহকারী বন সংরক্ষক ড. প্রাণতোষ রায় জানান, দীর্ঘদিন পরে হলেও বহুল আলোচিত ছামিউল ফকিরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা পেলে এবার সীমান্তের বন বিভাগের জায়গা থেকে অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলন বন্ধের মাধ্যমে প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা করা সম্ভব হবে।




