স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেরপুর-১ (সদর) আসনে এবারও প্রচার-প্রচারণা আর মাঠ পর্যায়ের অবস্থান অনুযায়ী অনেকটাই সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, ৪ বারের সংসদ সদস্য, হুইপ বীর মুক্তিযোদ্ধা আতিউর রহমান আতিক। অন্যদিকে ঐক্যফ্রন্ট সমর্থিত বিএনপি প্রার্থী ডাঃ সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকা নানা সমীকরণে তার কার্যক্রম খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলায় অবস্থানগতভাবে তুলনামূলকভাবে অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছেন।
ভোটের মাঠের হিসেব অনুযায়ী, এ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী আতিউর রহমান আতিক এবার টানা পঞ্চম দফায় দলীয় মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচন করছেন। তিনি ১৯৯৬ থেকে ২০১৪’র নির্বাচন পর্যন্ত টানা ৪ বারের সংসদ সদস্য, বর্তমান সংসদের হুইপ ও জেলা আওয়ামী লীগের দু’দফায় নির্বাচিত সভাপতি হিসেবে দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর যাবত দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পূর্বে তিনি একই এলাকা থেকে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পাশাপাশি ছাত্র জীবনে শেরপুর সরকারি কলেজের ভিপিও ছিলেন। এ আসনে তার সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সাবেক ফার্স্ট লেডি বেগম রওশন এরশাদ একবার ও যুদ্ধাপরাধের দায়ে ফাঁসি হওয়া জামায়াতের শীর্ষ নেতা মুহাম্মদ কামারুজ্জামানকে টানা ৩ বার হারতে হয়েছে বিপুল ভোটাধিক্যে। কাজেই ভোটের রাজনীতিতে তিনি নিঃসন্দেহে একজন হেভিওয়েট প্রার্থী। প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর থেকেই তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট চন্দন কুমার পাল পিপিসহ দলীয় নেতা-কর্মী এবং চিকিৎসক কন্যা বিএমএ’র তরুণ নেতা ডাঃ শারমিন সুলতানা অমিকে নিয়ে ব্যাপক গণসংযোগে ঝাঁপিয়ে পড়েন। সেই থেকে অবিরাম রাতদিন ছুটে চলেন জেলা সদর থেকে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত। বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগের পাশাপাশি দৈনিক অন্ততঃ ৮/১০টি পথসভায় তুলে ধরেন সরকারের এক দশকের জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের উন্নয়নের চিত্র। এরই মধ্যে গত ১৯ ডিসেম্বর থেকে মান-অভিমান ভুলে নৌকার পক্ষে একাট্টা হয়ে মাঠে নামেন এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নবঞ্চিত সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ছানুয়ার হোসেন ছানু ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক-১ হুমায়ুন কবীর রুমানসহ তাদের অনুসারীরা। তারাও প্রায় প্রতিদিনই শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ ও পথসভা করায় নৌকার পালে যোগ হয়েছে ভিন্ন মাত্রা।
অন্যদিকে তার বিপরীতে এবার মূল প্রার্থী ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, বিশিষ্ট শিল্পপতি আলহাজ্ব মোঃ হযরত আলী। কিন্তু ফৌজদারী নানা মামলায় দীর্ঘ সাড়ে ৩ মাস যাবত হাজতবাসে থাকাসহ ঋণখেলাপীর দায়ে তার প্রার্থিতা বাতিল হওয়ায় দলের আরও একাধিক নেতা প্রার্থী থাকার পরও ঐক্যফ্রন্টের সমর্থন নিয়ে বিকল্প প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন তারই কন্যা দেশের সর্বকনিষ্ঠ প্রার্থী ডাঃ সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকা। তিনি প্রথম দিকে মা নিলুফা খানম ও স্বামী ব্যারিস্টার রাহেমীন চৌধুরীসহ দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে মাঠ গুছানোর কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। কারাগারে থাকা বাবার প্রসঙ্গ তুলে আবেগ আপ্লুত হয়ে জড়িয়ে ধরছেন সাধারণ মানুষকে। কিন্তু ভোটের মাঠে নানা সমীকরণে তার পিছু থেকে আস্তে আস্তে কমতে থাকে দলীয় নেতা-কর্মীদের ভিড়। এ আসনে মূল প্রার্থী হযরত আলীকে না পেয়েও ডাঃ প্রিয়াংকার প্রতিই আস্থা রাখে বিএনপি ও দলের নেতা-কর্মীরা। দলীয় সূত্রমতে, এ আসনে দীর্ঘ ২২ বছর পর ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় নেতা-কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়েই প্রিয়াংকার পক্ষে মাঠে নামেন। কিন্তু গ্রেফতার ও হয়রানী আতঙ্কে ক্রমশ তারা সতর্ক অবস্থানে চলে যায়। তাদের মতে, নির্বিঘেœ ভোটের পরিবেশ থাকলে ভোট বিপ্লব ঘটতে পারে। অন্যদিকে এ আসনে জাতীয় পার্টির উন্মুক্ত প্রার্থী জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি, সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ মোঃ ইলিয়াস উদ্দিন শেষ পর্যায়ে এসে আঞ্চলিকতার চাপে নির্বাচনে নীরব থাকার ঘোষণা দেওয়ায় তার আনুকূল্য মহাজোটের প্রধান শরিক হিসেবে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর দিকে না গড়িয়ে বিএনপি প্রার্থী তথা তারই ভাগনের ঘরের নাতনীর দিকে গড়াচ্ছে বলে গুঞ্জন উঠেছে। এছাড়া ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী এডভোকেট মোঃ মতিউর রহমান হাতপাখা ও সিপিবির প্রার্থী আফিল শেখ কাস্তে প্রতীক নিয়ে লড়লেও তাদের মাঠের তৎপরতার পাশাপাশি প্রতীক-পোস্টারও অনেকটা চোখে না পড়ার মতো। তবে অপেক্ষাকৃত তরুণ ও নবীন প্রার্থী ডাঃ সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কার বিপরীতে লড়াইয়ের ক্ষেত্রে প্রথম থেকেই ফুরফুরে মেজাজে রয়েছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী আতিউর রহমান আতিক ও তার সমর্থকরা। তাদের দাবি, এবারও বিপুল ভোটাধিক্যে নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন হুইপ আতিক।




