স্টাফ রিপোর্টার ॥ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেরপুরের ৩টি আসন থেকে বর্তমান সংসদ সদস্যগণসহ আওয়ামী লীগের ৩৭ জন নেতা দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। এর মধ্যে সর্বাধিক ১৭টি মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা হয়েছে শেরপুর-১ (সদর) নির্বাচনী আসনে। তবে তাদের অধিকাংশকেই সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মাঠে দেখা যায়নি। শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসন থেকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৪জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও তাদের সবাই সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন। আর শেরপুর-২ (নালিতাবাড়ী-নকলা) আসনে ৬ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। ১২ নভেম্বর সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও দাখিলের পর দলীয় সূত্রগুলোর সাথে কথা বলে ওই তথ্য পাওয়া যায়।
শেরপুর-১ (সদর) : রাজধানী ঢাকার ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় থেকে শুক্রবার মনোনয়নপত্র বিক্রি শুরুর দিনেই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন বর্তমান সংসদ সদস্য, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও হুইপ আতিউর রহমান আতিক। এদিকে রবিবার দুপুরে দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন এ আসনে অপর প্রধান প্রার্থী সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ছানুয়ার হোসেন ছানু। নির্বাচনের মাঠে প্রচারে থাকা সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য এডভোকেট ফাতেমাতুজ্জহুরা শ্যামলী, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শামছুন্নাহার কামাল, প্রজন্ম একাত্তরের কেন্দ্রীয় সভাপতি আজিজুর রহমান ও জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা প্রকৌশলী মাহবুবুল আলমও পৃথক পৃথকভাবে দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। এরই ফাঁকে স্ব-স্ব অবস্থান ভারি করতে ছানুয়ার হোসেন ছানু সমর্থকদের মধ্যে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর রুমান, জেলা যুবলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিব ও সদর উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান বায়েযীদ হাছান এবং আতিউর রহমান আতিক সমর্থকদের মধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট চন্দন কুমার পাল পিপি, পৌর মেয়র আলহাজ্ব গোলাম মোহাম্মদ কিবরিয়া লিটন, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মিনহাজ উদ্দিন মিনাল, সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ারুল হাসান উৎপল, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম ও জেলা যুব মহিলা লীগের আহ্বায়ক এডভোকেট ফারহানা পারভীন মুন্নীসহ কয়েকজনও মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। তবে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর রুমান দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করায় দায়িত্বশীল মহলকে বিষয়টি নতুন করে ভাবনায় ফেলে দিয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষক মহল।
শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) : এ আসন থেকে প্রথম দিনেই কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরীর পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন নকলা ও নালিতাবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা। এরপর অপর মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে কেন্দ্রীয় কৃষক লীগের সাবেক সহ-সভাপতি কৃষিবিদ বদিউজ্জামান বাদশা, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুল হালিম উকিল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোকছেদুর রহমান লেবুও দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। পরবর্তীতে অবস্থান ভারি করার নামে বাদশা সমর্থকদের মধ্যে জেলা আওয়ামী লীগ নেতা আলহাজ্ব সরকার গোলাম ফারুক ও অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুলও মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন।
শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) : এ আসনে এবারও সর্বাধিক মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। মনোনয়নপত্র সংগ্রহকারীদের মধ্যে রয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য প্রকৌশলী একেএম ফজলুল হক চাঁন, ঝিনাইগাতী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এস এম আব্দুল্লাহেল ওয়ারেজ নাইম, শ্রীবরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোতাহারুল ইসলাম লিটন, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নাছরিন বেগম ফাতেমা, জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডের সাবেক কমান্ডার নুরুল ইসলাম হিরু, মহসিনুল বারী রুমী, সাবেক ছাত্রনেতা মিজানুর রহমান রাজা, কৃষিবিদ ফররুখ আহাম্মেদ, এডিএম শহিদুল ইসলাম, খন্দকার ফারুক আহাম্মেদ ও আল ফারুক ডিওন।
উল্লেখ্য, সংশোধিত তফসিল অনুযায়ী, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে আগামী ৩০ ডিসেম্বর। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় দেওয়া হয়েছে ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত।




