স্টাফ রিপোর্টার : সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রতি নির্যাতন ও পুরোহিত হত্যার ঘটনায় সতর্কতা ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে শেরপুরে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ, মন্দিরের কর্মকর্তা ও পুরোহিতদের সাথে পুলিশ প্রশাসনের এক মতবিনিময় সভা হয়েছে। ১৩ জুন সোমবার দুপুরে জেলা শহরের শ্রী শ্রী গোপাল জিউর মন্দির প্রাঙ্গনে ওই সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তারা বলেন, ‘বাংলাদেশে বসবাসরত সকল ধর্মের মানুষ সমান, এখানে কেউ সংখ্যালঘু নয়। বর্তমান সরকার ও সরকার প্রধান সংখ্যালঘু নামক শব্দটিকে ধারণ করেন না। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সকলে মিলে দেশ মাতৃকার জন্য যুদ্ধ করেছে, রক্ত দিয়েছে। তাই এ দেশ আমার, এ দেশ আমাদের। এখানে সকলে সমান। জঙ্গীদের কোন ধর্ম নেই, জাত নেই। এদের সকলে ঘৃণা করে। তাই এদের বিরুদ্ধে সকলে মিলে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সভাপতি দেবাশীষ ভট্টাচার্যের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার মো. মেহেদুল করিম। প্রভাষক মলয় চাকীর সঞ্চালনায় সভায় অন্যান্যের মধ্যে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার খন্দকার লাবনী, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম, নকলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. গোলাম হায়দার, শিক্ষাবিদ ও গবেষক ড. সুধাময় দাস, শিক্ষাবিদ জীবন কৃষ্ণ বসু, সাংবাদিক সঞ্জীব চন্দ বিল্টু, জেলা পুরোহিত কল্যাণ পরিষদের সভাপতি শিক্ষক বিপুল চক্রবর্তী, সাধারন সম্পাদক, সঞ্জীব চক্রবর্তী, নকলা পূজা পরিষদের সভাপতি ঝুমুর পোদ্দার, মা ভবতাঁরা মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি শ্রী বাদল চন্দ্র সরকার, রঘুনাথ জিউর মন্দির কমিটির সাধারন সম্পাদক শ্রী সুভাষ সাহা, কুসুমেশ্বরী শিব মন্দিরের সম্পাদক শ্রী মলিন বিশ্বাস প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

সভায় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন এলাকার খোলা মন্দিরগুলো ও পুরোহিতদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার আহ্বান জানান। পুলিশ সুপার তাদের আশ্বস্ত করে বলেন, ইতোমধ্যে পুরোহিতদের তালিকা সংগ্রহ করা হয়েছে। কে কোথায় বসবাস করেন সে বিষয়েও তথ্য নেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক ওসিকে তাদের নিরাপত্তার বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারপরও কারো কোনপ্রকার সমস্য থাকলে সরাসরি তাকে কিংবা সংশ্লিষ্ট থানার ওসিদের জানাতে অনুরোধ জানান।




