
শ্যামলবাংলা ডেস্ক : এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা আক্তারের মিতুর খুনিদের শনাক্ত কিংবা গ্রেপ্তার করা যায়নি, তবে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ।
তবে ওই চারজনের পরিচয় কী, তাদের কোথা থেকে কখন ধরা হয়েছে, সে তথ্য প্রকাশ করেনি পুলিশ।

পুলিশ কমিশনার দুপুরে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, “চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এনেছি। যদি কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হবে। তবে তাদের গ্রেপ্তারও করা হয়নি, আটকও করা হয়নি।”
তিনি বলেন, “জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।”
মিতু হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটর সাইকেলটি পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধারের পর এর আগের মালিককেও পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কমিশনার।
“প্রকৃত মালিকের সন্ধান আমরা পেলেও তিনি তা অন্যপক্ষকে বিক্রি করে দিয়েছিলেন, পরিবর্তিত মালিকের সন্ধান চলছে, ” বলেন তিনি।
রবিবার ও আর নিজাম রোডের যে স্থানে মিতুকে কুপিয়ে ও গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়,সেই স্থানের একটি সিসি ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওতে খুন করে মোটর সাইকেলে তিনজনকে পালিয়ে যেতে দেখা যায়।
রবিবার রাতে পাঁচলাইশ থানার বাদুরতলা বড় গ্যারেজ এলাকা থেকে এই মোটর সাইকেলটি উদ্ধারের পর পুলিশ নিশ্চিত করে, এটিই খুনিরা ব্যবহার করেছিল।
চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হিসেবে জঙ্গি দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বাবুল আক্তারের। এই কারণ এবং হত্যার ধরন দেখে সন্দেহ করা হচ্ছে, জঙ্গিরাই মিতুকে হত্যা করেছে।
পুলিশ সদস্যদের মনোবল ভেঙে দিতেই জঙ্গিরা এ ধরনের হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে মন্তব্য করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, পুলিশ কর্মকর্তাদের পরিবারের নিরাপত্তার বিষয়টি সরকার নিশ্চিত করবে।
মূলত গোয়েন্দা পুলিশ অন্য সব বিভাগের সহযোগিতা নিয়ে এ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করছে।
“এ হত্যাকাণ্ডে সন্দেহভাজন হিসেবে জেএমবির সংশ্লিষ্টতাকে প্রাধান্য দিয়ে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কয়েকটা সম্ভাবনা নিয়ে তদন্ত চলছে,” বলেন পুলিশ কমিশনার ইকবাল বাহার।
স্ত্রী খুনের ঘটনায় বাবুল নিজেই বাদী হয়ে পাঁচলাইশ থানায় মামলা করেছেন। মিতুকে ঢাকায় দাফন করা হয়েছে।
বাবুল সম্প্রতি চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় বদলি হলেও তার স্ত্রী ও দুই সন্তান চট্টগ্রামেই ছিলেন।
রবিবার সকালে ও আর নিজাম রোডের বাসা থেকে প্রথম শ্রেণি পড়ুয়া ছেলেকে স্কুল বাসে তুলে দিতে জিইসি মোড়ে যাওয়ার সময় খুন হন মিতু।
তিন হামলাকারী জিইসি মোড়সংলগ্ন বেকারির দোকান ওয়েল ফুডের সামনে সড়কে মিতুকে প্রথমে ছুরি মারে এবং পরে মাথায় গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করে মোটর সাইকেলে পালিয়ে যায়।





